ভোক্তাদের নাগালের মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম রাখতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে বাজারে ভোজ্যতেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে এবং কিছু বিচ্ছিন্ন খুচরা বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির অপচেষ্টা হলেও তা সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতির প্রতিফলন নয়। মন্ত্রী অহেতুক আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে বৈশ্বিক সংঘাতের কারণে সরবরাহে চাপ ও দামের ঊর্ধ্বগতি হতে পারে।
চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত ‘মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত: ভোগ্যপণ্য সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি–সংক্রান্ত পর্যালোচনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী আরও জানান, বর্তমানে বাজারে যে পণ্য সরবরাহ রয়েছে, তার অধিকাংশই যুদ্ধ শুরুর আগেই দেশে এসেছে। সরকারের কাছে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল মজুত আছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামা হলে সরকার প্রয়োজন অনুযায়ী নীতিগত ব্যবস্থা নিয়ে ভোক্তাদের ওপর চাপ কমাতে সক্ষম।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী স্বীকার করেন যে দেশের পাইকারি ও খুচরা বাজারে অনেক পণ্যের ক্ষেত্রে দামের অগ্রহণযোগ্য ব্যবধান দেখা যায়। এই ব্যবধানের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের জন্য ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, প্রশাসন এবং প্রয়োজনে অন্য পেশাজীবীদের সমন্বয়ে একটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হবে। কমিটি বিস্তারিত পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান করবে।
খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশ এখনও অনেক ক্ষেত্রে আমদানিনির্ভর। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি বা পরিবহন ব্যয় বাড়লে তার প্রভাব দেশের বাজারেও পড়বে, যা স্বাভাবিক। তবে, অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা বা বাজার নিয়ন্ত্রণজনিত কোনো কারণে পণ্যের দাম অযৌক্তিকভাবে না বাড়ে, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে। মুক্তবাজার অর্থনীতিতে ব্যবসায়ীরাই মূল চালিকাশক্তি উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, সরকারের দায়িত্ব হলো ব্যবসা ও বিনিয়োগের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা এবং বাজার ব্যবস্থাপনা যেন স্বাভাবিক ও বাধাহীনভাবে চলতে পারে, তা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে, বাজার তদারকির সময় ব্যবসায়ীদের অযথা হয়রানি না করার জন্য সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন তিনি।
রিপোর্টারের নাম 























