ঢাকা ০৫:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

মোহাম্মদপুরে ৯ হত্যা: নানক-তাপসসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি ৮ এপ্রিল

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ‘জুলাই বিপ্লবের’ সময় নয়জনকে হত্যার ঘটনায় সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ফজলে নূর তাপসসহ মোট ২৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আগামী ৮ এপ্রিল দিন ধার্য করা হয়েছে। রবিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই দিন ধার্য করে।

এই মামলায় অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন তৎকালীন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার। এছাড়াও স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের মোট ২৮ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে এই মামলার অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে চারজন বর্তমানে গ্রেপ্তার রয়েছেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ মোহাম্মদপুর থানা শাখার সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল, সহ-সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, ওমর ফারুক ও ফজলে রাব্বি। সকালে তাদের কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। এর আগে, গত ২৯ জানুয়ারি পলাতক আসামিদের হাজিরের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। নির্দিষ্ট তারিখে আসামিরা হাজির না হওয়ায় তাদের পক্ষে মামলার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

গত ১৮ জানুয়ারি প্রসিকিউশনের দেওয়া অভিযোগ আমলে নিয়ে ২৪ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। প্রসিকিউশন আসামিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তিনটি অভিযোগ উত্থাপন করেছে। প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে, ছাত্র-জনতাকে দমনে নানক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে নিয়মিত ফোনে কথা বলতেন। এছাড়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, অ্যাডিশনাল ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, এডিসি রৌশানুল হক সৈকতগণের সঙ্গে যোগাযোগ করে ছাত্র-জনতাকে দমনে নির্দেশনা দিতেন।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, তৎকালীন ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান ২০২৪ সালের ১৭ ও ১৮ জুলাই ওয়ারলেস ম্যাসেজের মাধ্যমে নিরীহ-নিরস্ত্র আন্দোলনকারীদের ওপর চাইনিজ রাইফেল ব্যবহার করে হত্যার নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার এবং মোহাম্মদপুর জোনের এডিসি রৌশানুল হক সৈকত ১৮ জুলাই মোহাম্মদপুর থানায় উপস্থিত হয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আন্দোলনকারীদের ওপর চাইনিজ রাইফেল ব্যবহার করে গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসরায়েলের ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

মোহাম্মদপুরে ৯ হত্যা: নানক-তাপসসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি ৮ এপ্রিল

আপডেট সময় : ০৫:৩১:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ‘জুলাই বিপ্লবের’ সময় নয়জনকে হত্যার ঘটনায় সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ফজলে নূর তাপসসহ মোট ২৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আগামী ৮ এপ্রিল দিন ধার্য করা হয়েছে। রবিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই দিন ধার্য করে।

এই মামলায় অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন তৎকালীন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার। এছাড়াও স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের মোট ২৮ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে এই মামলার অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে চারজন বর্তমানে গ্রেপ্তার রয়েছেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ মোহাম্মদপুর থানা শাখার সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল, সহ-সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, ওমর ফারুক ও ফজলে রাব্বি। সকালে তাদের কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। এর আগে, গত ২৯ জানুয়ারি পলাতক আসামিদের হাজিরের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। নির্দিষ্ট তারিখে আসামিরা হাজির না হওয়ায় তাদের পক্ষে মামলার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

গত ১৮ জানুয়ারি প্রসিকিউশনের দেওয়া অভিযোগ আমলে নিয়ে ২৪ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। প্রসিকিউশন আসামিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তিনটি অভিযোগ উত্থাপন করেছে। প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে, ছাত্র-জনতাকে দমনে নানক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে নিয়মিত ফোনে কথা বলতেন। এছাড়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, অ্যাডিশনাল ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, এডিসি রৌশানুল হক সৈকতগণের সঙ্গে যোগাযোগ করে ছাত্র-জনতাকে দমনে নির্দেশনা দিতেন।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, তৎকালীন ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান ২০২৪ সালের ১৭ ও ১৮ জুলাই ওয়ারলেস ম্যাসেজের মাধ্যমে নিরীহ-নিরস্ত্র আন্দোলনকারীদের ওপর চাইনিজ রাইফেল ব্যবহার করে হত্যার নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার এবং মোহাম্মদপুর জোনের এডিসি রৌশানুল হক সৈকত ১৮ জুলাই মোহাম্মদপুর থানায় উপস্থিত হয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আন্দোলনকারীদের ওপর চাইনিজ রাইফেল ব্যবহার করে গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।