ঢাকা ০৫:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার পদধ্বনি: আইএমএফের সতর্কবার্তা

ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ব অর্থনীতি ভয়াবহ মন্দার মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটির সর্বশেষ ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, জ্বালানি তেলের আকাশচুম্বী দাম এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ২০২৬ সাল নাগাদ বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ২ শতাংশের নিচে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আইএমএফের মূল্যায়ন অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতি বজায় থাকলে বিশ্ব অর্থনীতি ১৯৮০ সালের পর পঞ্চম বারের মতো মন্দার কবলে পড়বে। এর আগে সর্বশেষ কোভিড-১৯ মহামারির সময় এমন বিপর্যয় দেখা দিয়েছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে তেলের দাম চলতি বছর গড়ে ১১০ ডলার থেকে বেড়ে ২০২৭ সাল নাগাদ ১২৫ ডলারে পৌঁছাতে পারে। এতে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি প্রায় ৬ শতাংশে গিয়ে ঠেকবে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে সুদের হার বাড়াতে বাধ্য করবে।

সংস্থাটির প্রধান অর্থনীতিবিদ পিয়েরে-অলিভিয়ের গোরিনচা জানান, ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের কাছে মন্দার মতোই অনুভূত হবে। এর ফলে বেকারত্ব বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি অনেক দেশে খাদ্য নিরাপত্তার সংকট দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা এবং পাকিস্তান ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা কাটছে না। উদ্ভূত এই পরিস্থিতিতে বিশ্ব অর্থনীতি আবারও লক্ষ্যচ্যুত হওয়ার বড় ধরনের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে মনে করছে সংস্থাটি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসরায়েলের ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার পদধ্বনি: আইএমএফের সতর্কবার্তা

আপডেট সময় : ০৩:৫০:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ব অর্থনীতি ভয়াবহ মন্দার মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটির সর্বশেষ ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, জ্বালানি তেলের আকাশচুম্বী দাম এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ২০২৬ সাল নাগাদ বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ২ শতাংশের নিচে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আইএমএফের মূল্যায়ন অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতি বজায় থাকলে বিশ্ব অর্থনীতি ১৯৮০ সালের পর পঞ্চম বারের মতো মন্দার কবলে পড়বে। এর আগে সর্বশেষ কোভিড-১৯ মহামারির সময় এমন বিপর্যয় দেখা দিয়েছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে তেলের দাম চলতি বছর গড়ে ১১০ ডলার থেকে বেড়ে ২০২৭ সাল নাগাদ ১২৫ ডলারে পৌঁছাতে পারে। এতে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি প্রায় ৬ শতাংশে গিয়ে ঠেকবে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে সুদের হার বাড়াতে বাধ্য করবে।

সংস্থাটির প্রধান অর্থনীতিবিদ পিয়েরে-অলিভিয়ের গোরিনচা জানান, ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের কাছে মন্দার মতোই অনুভূত হবে। এর ফলে বেকারত্ব বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি অনেক দেশে খাদ্য নিরাপত্তার সংকট দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা এবং পাকিস্তান ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা কাটছে না। উদ্ভূত এই পরিস্থিতিতে বিশ্ব অর্থনীতি আবারও লক্ষ্যচ্যুত হওয়ার বড় ধরনের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে মনে করছে সংস্থাটি।