আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটগ্রহণের ব্যবস্থা থাকছে না। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্ভরযোগ্য সূত্র অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের বাইরে অবস্থানরত প্রবাসী ভোটার, নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং নির্বাচনি এলাকার বাইরে থাকা বিপুলসংখ্যক ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত হবেন।
নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালট চালুর ফলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ভোটাধিকার প্রয়োগে নতুন করে উৎসাহ তৈরি হয়েছিল। অনেক ক্ষেত্রে এই পোস্টাল ভোট নির্বাচনের ফলাফলেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছিল। তাই স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও যদি এই ব্যবস্থা বহাল থাকত, তাহলে প্রবাসীদের অংশগ্রহণ আরও বাড়ত বলে তারা মনে করেন।
ইসি সূত্রে আরও জানা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হবে না। এর ফলে প্রবাসী ভোটাররা সরাসরি ভোট দিতে পারবেন না। এমনকি দেশের ভেতরেও যারা নির্বাচনের সময় নিজ এলাকায় উপস্থিত থাকতে পারবেন না, তারাও বঞ্চিত হবেন। তবে, কোনো ভোটার যদি ব্যক্তিগত উদ্যোগে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে চান, তাহলে তাকে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে আবেদন করতে হবে।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আবদুল রহমানেল মাছউদ জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কমিশনের পক্ষ থেকে পোস্টাল ব্যালট পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা নেই। তিনি বলেন, ‘প্রবাসে তো আমরা কোনো পোস্টাল ব্যালট পাঠাব না। দেশেও নিয়মিতভাবে এই ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা নেই।’ তবে, যারা নিজ উদ্যোগে ভোট দিতে আগ্রহী, তারা সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে আবেদন করে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।
ইসির কর্মকর্তারা আরও জানান, পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থাটি আইনে অন্তর্ভুক্ত থাকলেও দীর্ঘকাল এটি কার্যকর ছিল না। মূলত সেনাসদস্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা নির্বাচনি দায়িত্বে থাকা কিছু কর্মকর্তার মধ্যেই এর ব্যবহার সীমাবদ্ধ ছিল। তবে, সদ্য অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে ইসি বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছিল। ওই নির্বাচনে দেশ-বিদেশ মিলিয়ে প্রায় ১৫ লাখের বেশি ভোটার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছিলেন। এই ব্যবস্থা বাস্তবায়নে সরকারের প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছিল। কিন্তু ঘোষণাপত্র, অতিরিক্ত খাম, যাচাই-বাছাইসহ প্রশাসনিক জটিলতা এবং উচ্চ ব্যয়ের কারণে কমিশনের ভেতরে এই পদ্ধতি সহজ করার আলোচনা শুরু হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 





















