ঢাকা ০৪:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বালুমহাল নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ: চট্টগ্রামে ভাড়াটে খুনি দিয়ে বিএনপি কর্মীকে হত্যা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:১৮:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর ২০২৫
  • ১৫ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর পাড়ের বালুমহাল নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধের জেরে রাউজানের বিএনপি কর্মী ও ব্যবসায়ী আবদুল হাকিমকে (৫৫) টাকার বিনিময়ে ভাড়াটে খুনি দিয়ে হত্যা করানো হয়েছিল। হত্যাকাণ্ডে সন্ত্রাসীদের দুটি দল অংশ নেয়। ঘটনায় জড়িত চার জনকে গ্রেফতারের পর তাদের জবানবন্দি ও জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য পায় পুলিশ। 

বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে জেলা পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। গ্রেফতার চার জন হলেন- মো. মারুফ, মো. আবদুল্লাহ খোকন (প্রকাশ ল্যাংড়া খোকন), মো. সাকলাইন হোসেন ও জিয়াউর রহমান। তাদের প্রত্যেকের বাড়ি রাউজান উপজেলায়। 

পুলিশ জানায়, গত ৭ অক্টোবর আবদুল হাকিম প্রাইভেটকারে নগর থেকে তার গ্রাম রাউজানের বাগোয়ানের হামিম অ্যাগ্রো ফার্মে যান। বিকালে চট্টগ্রাম শহরে ফেরার পথে মদুনাঘাট ব্রিজের পশ্চিম পাশে পৌঁছালে একদল সন্ত্রাসী মোটরসাইকেলে তার গাড়ির সামনে এসে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে আবদুল হাকিমের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় তার গাড়িচালকও গুলিবদ্ধ হন। হত্যাকাণ্ডের তদন্তের সূত্র ধরে ৩১ অক্টোবর রাউজানের বাগোয়ান ইউনিয়নের গরীব উল্লাহপাড়া এলাকা থেকে মো. আবদুল্লাহ খোকনকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হাকিম হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। ১ নভেম্বর চট্টগ্রাম আদালতে জবানবন্দি দেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২ নভেম্বর রাউজানের নোয়াপাড়া ইউনিয়নের চৌধুরীহাট এলাকা থেকে মো. মারুফকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার দুজনের তথ্যের ভিত্তিতে গত মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে সাকলাইন হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত দেশি তৈরি একনলা বন্দুক, একটি এলজি ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। একই দিন জিয়াউর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের চার জনের তথ্যের ভিত্তিতে হত্যার রহস্য উদঘাটন হয়েছে।
 
চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. সাইফুল ইসলাম সানতু বৃহস্পতিবার সকালে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‌‘আবদুল হাকিমকে গুলি করে হত্যার রহস্য উদঘাটন হয়েছে। মূলত রাউজান থানাধীন বালুমহালের নিয়ন্ত্রণ ও স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ইতিমধ্যে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও হাটহাজারী মডেল থানা পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে চার জনকে গ্রেফতার করেছে। 
টাকার বিনিময়ে সন্ত্রাসীদের দুটি পক্ষ এতে অংশ নিয়েছিল। হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ও সহযোগীসহ ঘটনায় জড়িত আরও ১০-১২ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।’

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মো. তারেক আজিজ বলেন, ‘আবদুল হাকিম হত্যায় জড়িত অন্যদের ধরতে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।’

উল্লেখ্য, গত বছরের ৫ আগস্টের পর রাউজান উপজেলায় ১৭ জন হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ১২ জন রাজনৈতিক বিরোধের কারণে খুন হন বলে জানিয়েছে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন। 

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কনকাকাফ চ্যাম্পিয়ন্স কাপে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাভানের ঐতিহাসিক অভিষেক

বালুমহাল নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ: চট্টগ্রামে ভাড়াটে খুনি দিয়ে বিএনপি কর্মীকে হত্যা

আপডেট সময় : ০৬:১৮:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর ২০২৫

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর পাড়ের বালুমহাল নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধের জেরে রাউজানের বিএনপি কর্মী ও ব্যবসায়ী আবদুল হাকিমকে (৫৫) টাকার বিনিময়ে ভাড়াটে খুনি দিয়ে হত্যা করানো হয়েছিল। হত্যাকাণ্ডে সন্ত্রাসীদের দুটি দল অংশ নেয়। ঘটনায় জড়িত চার জনকে গ্রেফতারের পর তাদের জবানবন্দি ও জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য পায় পুলিশ। 

বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে জেলা পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। গ্রেফতার চার জন হলেন- মো. মারুফ, মো. আবদুল্লাহ খোকন (প্রকাশ ল্যাংড়া খোকন), মো. সাকলাইন হোসেন ও জিয়াউর রহমান। তাদের প্রত্যেকের বাড়ি রাউজান উপজেলায়। 

পুলিশ জানায়, গত ৭ অক্টোবর আবদুল হাকিম প্রাইভেটকারে নগর থেকে তার গ্রাম রাউজানের বাগোয়ানের হামিম অ্যাগ্রো ফার্মে যান। বিকালে চট্টগ্রাম শহরে ফেরার পথে মদুনাঘাট ব্রিজের পশ্চিম পাশে পৌঁছালে একদল সন্ত্রাসী মোটরসাইকেলে তার গাড়ির সামনে এসে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে আবদুল হাকিমের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় তার গাড়িচালকও গুলিবদ্ধ হন। হত্যাকাণ্ডের তদন্তের সূত্র ধরে ৩১ অক্টোবর রাউজানের বাগোয়ান ইউনিয়নের গরীব উল্লাহপাড়া এলাকা থেকে মো. আবদুল্লাহ খোকনকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হাকিম হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। ১ নভেম্বর চট্টগ্রাম আদালতে জবানবন্দি দেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২ নভেম্বর রাউজানের নোয়াপাড়া ইউনিয়নের চৌধুরীহাট এলাকা থেকে মো. মারুফকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার দুজনের তথ্যের ভিত্তিতে গত মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে সাকলাইন হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত দেশি তৈরি একনলা বন্দুক, একটি এলজি ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। একই দিন জিয়াউর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের চার জনের তথ্যের ভিত্তিতে হত্যার রহস্য উদঘাটন হয়েছে।
 
চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. সাইফুল ইসলাম সানতু বৃহস্পতিবার সকালে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‌‘আবদুল হাকিমকে গুলি করে হত্যার রহস্য উদঘাটন হয়েছে। মূলত রাউজান থানাধীন বালুমহালের নিয়ন্ত্রণ ও স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ইতিমধ্যে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও হাটহাজারী মডেল থানা পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে চার জনকে গ্রেফতার করেছে। 
টাকার বিনিময়ে সন্ত্রাসীদের দুটি পক্ষ এতে অংশ নিয়েছিল। হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ও সহযোগীসহ ঘটনায় জড়িত আরও ১০-১২ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।’

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মো. তারেক আজিজ বলেন, ‘আবদুল হাকিম হত্যায় জড়িত অন্যদের ধরতে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।’

উল্লেখ্য, গত বছরের ৫ আগস্টের পর রাউজান উপজেলায় ১৭ জন হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ১২ জন রাজনৈতিক বিরোধের কারণে খুন হন বলে জানিয়েছে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন।