ঢাকা ১১:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

তিস্তা সেচ প্রকল্পের শত কোটি টাকার খাল অকার্যকর, পানির অভাবে ভোগান্তিতে গঙ্গাচড়ার কৃষকরা

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় শত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ও সংস্কারকৃত তিস্তা সেচ প্রকল্পের খালগুলো এখন প্রায় অচল অবস্থায় রয়েছে। তিস্তা নদীতে পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় আধুনিক অবকাঠামো থাকা সত্ত্বেও সেচ ক্যানেলগুলোতে পর্যাপ্ত পানি পৌঁছাচ্ছে না। এর ফলে উপজেলার হাজার হাজার কৃষককে চড়া দামে বিকল্প সেচ ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে চাষাবাদ করতে হচ্ছে, যা তাদের উৎপাদন খরচ অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে।

গঙ্গাচড়ার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, তিস্তা নদীর বুকজুড়ে এখন শুধু বালির স্তূপ। বর্ষাকালে যেখানে নদীর পানিপ্রবাহ লক্ষাধিক কিউসেক ছাড়িয়ে যায়, সেখানে শুষ্ক মৌসুমে তা মাত্র কয়েক হাজার কিউসেকে নেমে আসে। অনেক সময় এই প্রবাহ আরও কমে যাওয়ায় সেচ ক্যানেলগুলোতে পানি সরবরাহ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

তিস্তা ব্যারেজ থেকে পরিচালিত এই সেচ প্রকল্পের প্রধান ও শাখা খালগুলো রংপুর অঞ্চলের বিভিন্ন উপজেলায় বিস্তৃত, যার একটি বড় অংশ গঙ্গাচড়া উপজেলা জুড়ে রয়েছে। বর্তমানে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে খাল সম্প্রসারণ ও সংস্কারের কাজ চললেও, মূল উৎস নদীতে পর্যাপ্ত পানি না থাকার কারণে কৃষকরা এর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

গঙ্গাচড়া উপজেলার বড়বিল এলাকার কৃষক নুরুল হুদা জানান, তিস্তার পানি পেলে বিঘাপ্রতি সেচ খরচ হতো মাত্র ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। কিন্তু এখন শ্যালো মেশিন ব্যবহার করে প্রতি বিঘায় ডিজেলের খরচ বাবদ দুই হাজার থেকে দুই হাজার ৫০০ টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে। আলমবিদিতর ইউনিয়নের কৃষক রফিকুল ইসলাম হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘ক্যানেল তৈরি হয়েছে, গেট হয়েছে, সবকিছুই আছে কিন্তু পানি নেই। প্রতি বছর ক্যানেল কাটা হয়, সংস্কার করা হয়, কিন্তু আমরা কোনো দিন ঠিকমতো পানি পাই না।’ আরেক কৃষক এসোব আলী বলেন, ‘তিস্তা ক্যানেলে পানি পেয়ে চাষাবাদ করার স্বপ্ন দেখেছিলাম। কিন্তু এখন বিকল্প সেচে দ্বিগুণ খরচ হচ্ছে। এতে লাভের বদলে ক্ষতির মুখে পড়ছি।’

তিস্তা নদী রক্ষা কমিটির (বাপা) সভাপতি ফরিদুল ইসলাম ফরিদ জানান, উজানে ভারতের একতরফা পানি প্রত্যাহারের কারণে শুষ্ক মৌসুমে তিস্তা নদীতে পানিপ্রবাহ মারাত্মকভাবে কমে যায়। ফলে তিস্তা সেচ প্রকল্পের ক্যানেলগুলোতে পানি সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।

কৃষকরা মনে করেন, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই খালগুলো তিস্তার পানি ছাড়া তাদের কোনো কাজেই আসছে না। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে উত্তরের কৃষিব্যবস্থা আরও বড় সংকটে পড়তে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। গঙ্গাচড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুবেল হুসেন উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে বোরো মৌসুম চলছে এবং বোরো ধান চাষের জন্য নিয়মিত সেচের প্রয়োজন হয়, যা পানির অভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চ্যাম্পিয়নস লিগে লিভারপুলের হোঁচট: স্লটের শততম ম্যাচে হার, পিছিয়ে অলরেডরা

তিস্তা সেচ প্রকল্পের শত কোটি টাকার খাল অকার্যকর, পানির অভাবে ভোগান্তিতে গঙ্গাচড়ার কৃষকরা

আপডেট সময় : ০৯:৩১:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় শত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ও সংস্কারকৃত তিস্তা সেচ প্রকল্পের খালগুলো এখন প্রায় অচল অবস্থায় রয়েছে। তিস্তা নদীতে পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় আধুনিক অবকাঠামো থাকা সত্ত্বেও সেচ ক্যানেলগুলোতে পর্যাপ্ত পানি পৌঁছাচ্ছে না। এর ফলে উপজেলার হাজার হাজার কৃষককে চড়া দামে বিকল্প সেচ ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে চাষাবাদ করতে হচ্ছে, যা তাদের উৎপাদন খরচ অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে।

গঙ্গাচড়ার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, তিস্তা নদীর বুকজুড়ে এখন শুধু বালির স্তূপ। বর্ষাকালে যেখানে নদীর পানিপ্রবাহ লক্ষাধিক কিউসেক ছাড়িয়ে যায়, সেখানে শুষ্ক মৌসুমে তা মাত্র কয়েক হাজার কিউসেকে নেমে আসে। অনেক সময় এই প্রবাহ আরও কমে যাওয়ায় সেচ ক্যানেলগুলোতে পানি সরবরাহ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

তিস্তা ব্যারেজ থেকে পরিচালিত এই সেচ প্রকল্পের প্রধান ও শাখা খালগুলো রংপুর অঞ্চলের বিভিন্ন উপজেলায় বিস্তৃত, যার একটি বড় অংশ গঙ্গাচড়া উপজেলা জুড়ে রয়েছে। বর্তমানে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে খাল সম্প্রসারণ ও সংস্কারের কাজ চললেও, মূল উৎস নদীতে পর্যাপ্ত পানি না থাকার কারণে কৃষকরা এর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

গঙ্গাচড়া উপজেলার বড়বিল এলাকার কৃষক নুরুল হুদা জানান, তিস্তার পানি পেলে বিঘাপ্রতি সেচ খরচ হতো মাত্র ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। কিন্তু এখন শ্যালো মেশিন ব্যবহার করে প্রতি বিঘায় ডিজেলের খরচ বাবদ দুই হাজার থেকে দুই হাজার ৫০০ টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে। আলমবিদিতর ইউনিয়নের কৃষক রফিকুল ইসলাম হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘ক্যানেল তৈরি হয়েছে, গেট হয়েছে, সবকিছুই আছে কিন্তু পানি নেই। প্রতি বছর ক্যানেল কাটা হয়, সংস্কার করা হয়, কিন্তু আমরা কোনো দিন ঠিকমতো পানি পাই না।’ আরেক কৃষক এসোব আলী বলেন, ‘তিস্তা ক্যানেলে পানি পেয়ে চাষাবাদ করার স্বপ্ন দেখেছিলাম। কিন্তু এখন বিকল্প সেচে দ্বিগুণ খরচ হচ্ছে। এতে লাভের বদলে ক্ষতির মুখে পড়ছি।’

তিস্তা নদী রক্ষা কমিটির (বাপা) সভাপতি ফরিদুল ইসলাম ফরিদ জানান, উজানে ভারতের একতরফা পানি প্রত্যাহারের কারণে শুষ্ক মৌসুমে তিস্তা নদীতে পানিপ্রবাহ মারাত্মকভাবে কমে যায়। ফলে তিস্তা সেচ প্রকল্পের ক্যানেলগুলোতে পানি সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।

কৃষকরা মনে করেন, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই খালগুলো তিস্তার পানি ছাড়া তাদের কোনো কাজেই আসছে না। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে উত্তরের কৃষিব্যবস্থা আরও বড় সংকটে পড়তে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। গঙ্গাচড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুবেল হুসেন উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে বোরো মৌসুম চলছে এবং বোরো ধান চাষের জন্য নিয়মিত সেচের প্রয়োজন হয়, যা পানির অভাবে ব্যাহত হচ্ছে।