ঢাকা ১২:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

কানে তীব্র ব্যথা? অবহেলা ডেকে আনতে পারে মারাত্মক জটিলতা

কানের তীব্র ব্যথা রোগীদের জন্য অত্যন্ত অস্বস্তিকর ও উদ্বেগজনক একটি উপসর্গ। হঠাৎ শুরু হওয়া ব্যথা, কানে সামান্য স্পর্শেই যন্ত্রণা বৃদ্ধি, এমনকি চোয়াল নাড়ালেও ব্যথা বেড়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ নিয়ে অনেকেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। এ ধরনের উপসর্গের একটি সাধারণ কিন্তু কষ্টদায়ক কারণ হলো বহিঃকর্ণের সংক্রমণ, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘অটাইটিস এক্সটার্না’ নামে পরিচিত।

বহিঃকর্ণের ত্বক নিচের হাড় ও কার্টিলেজের সঙ্গে শক্তভাবে সংযুক্ত থাকে। ফলে সেখানে সংক্রমণ বা প্রদাহ হলে ত্বক ফুলে ওঠার মতো পর্যাপ্ত জায়গা পায় না। সামান্য ফোলাভাবও কানের ভেতরে তীব্র চাপ সৃষ্টি করে এবং এই চাপই মারাত্মক ব্যথার কারণ হয়। এ কারণেই বহিঃকর্ণের সংক্রমণে ব্যথা সাধারণত বেশি তীব্র হয় এবং কানের বাইরের অংশ টান দিলে ব্যথা আরো বাড়ে।

বহিঃকর্ণের সংক্রমণ একটি সাধারণ সমস্যা। ধারণা করা হয়, জীবনের কোনো না কোনো সময়ে প্রতি দশজনের মধ্যে প্রায় একজন এ রোগে আক্রান্ত হন। পুরুষদের তুলনায় নারীদের মধ্যে সামান্য বেশি দেখা যায় এবং ৪৫ থেকে ৭৫ বছর বয়সি প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে রোগটি বেশি নির্ণীত হয়।

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিরা এই সংক্রমণে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। ডায়াবেটিক রোগীদের সংক্রমণ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলক কম থাকে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি থাকলে জীবাণু দ্রুত বৃদ্ধি পায়। অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসে বহিঃকর্ণের সাধারণ সংক্রমণ কখনো কখনো ‘ম্যালিগন্যান্ট অটাইটিস এক্সটার্না’—অর্থাৎ কর্ণনালির সংক্রমণ হাড় পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়া একটি মারাত্মক অবস্থায় রূপ নিতে পারে, যা দ্রুত চিকিৎসা না করলে জটিলতা তৈরি করতে পারে।

সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে: কানে তীব্র ব্যথা, চুলকানি বা জ্বালাপোড়া, কানে পানি বা পুঁজ পড়া এবং কানের লতি বা বাইরের অংশ টান দিলে ব্যথা বৃদ্ধি। কানে অপ্রয়োজনীয় খোঁচাখুঁচি, কটন বাড বা ধারালো বস্তু ব্যবহার, ঘন ঘন কানে পানি ঢোকা (সাঁতার বা গোসলের সময়) এসব কারণে কর্ণনালির ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং জীবাণু সহজে সংক্রমণ ঘটাতে পারে।

প্রাথমিক পর্যায়ে সঠিক চিকিৎসা নিলে দ্রুত আরাম পাওয়া সম্ভব। তবে অবহেলা করলে সংক্রমণ গভীরে ছড়িয়ে জটিল আকার ধারণ করতে পারে—বিশেষ করে ডায়াবেটিক রোগীদের ক্ষেত্রে। তাই কানে তীব্র ব্যথা, অস্বাভাবিক স্রাব বা দীর্ঘস্থায়ী অস্বস্তি হলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গর্ভাবস্থায় রোজা: মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও চিকিৎসকের পরামর্শ

কানে তীব্র ব্যথা? অবহেলা ডেকে আনতে পারে মারাত্মক জটিলতা

আপডেট সময় : ১০:৩৬:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

কানের তীব্র ব্যথা রোগীদের জন্য অত্যন্ত অস্বস্তিকর ও উদ্বেগজনক একটি উপসর্গ। হঠাৎ শুরু হওয়া ব্যথা, কানে সামান্য স্পর্শেই যন্ত্রণা বৃদ্ধি, এমনকি চোয়াল নাড়ালেও ব্যথা বেড়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ নিয়ে অনেকেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। এ ধরনের উপসর্গের একটি সাধারণ কিন্তু কষ্টদায়ক কারণ হলো বহিঃকর্ণের সংক্রমণ, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘অটাইটিস এক্সটার্না’ নামে পরিচিত।

বহিঃকর্ণের ত্বক নিচের হাড় ও কার্টিলেজের সঙ্গে শক্তভাবে সংযুক্ত থাকে। ফলে সেখানে সংক্রমণ বা প্রদাহ হলে ত্বক ফুলে ওঠার মতো পর্যাপ্ত জায়গা পায় না। সামান্য ফোলাভাবও কানের ভেতরে তীব্র চাপ সৃষ্টি করে এবং এই চাপই মারাত্মক ব্যথার কারণ হয়। এ কারণেই বহিঃকর্ণের সংক্রমণে ব্যথা সাধারণত বেশি তীব্র হয় এবং কানের বাইরের অংশ টান দিলে ব্যথা আরো বাড়ে।

বহিঃকর্ণের সংক্রমণ একটি সাধারণ সমস্যা। ধারণা করা হয়, জীবনের কোনো না কোনো সময়ে প্রতি দশজনের মধ্যে প্রায় একজন এ রোগে আক্রান্ত হন। পুরুষদের তুলনায় নারীদের মধ্যে সামান্য বেশি দেখা যায় এবং ৪৫ থেকে ৭৫ বছর বয়সি প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে রোগটি বেশি নির্ণীত হয়।

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিরা এই সংক্রমণে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। ডায়াবেটিক রোগীদের সংক্রমণ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলক কম থাকে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি থাকলে জীবাণু দ্রুত বৃদ্ধি পায়। অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসে বহিঃকর্ণের সাধারণ সংক্রমণ কখনো কখনো ‘ম্যালিগন্যান্ট অটাইটিস এক্সটার্না’—অর্থাৎ কর্ণনালির সংক্রমণ হাড় পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়া একটি মারাত্মক অবস্থায় রূপ নিতে পারে, যা দ্রুত চিকিৎসা না করলে জটিলতা তৈরি করতে পারে।

সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে: কানে তীব্র ব্যথা, চুলকানি বা জ্বালাপোড়া, কানে পানি বা পুঁজ পড়া এবং কানের লতি বা বাইরের অংশ টান দিলে ব্যথা বৃদ্ধি। কানে অপ্রয়োজনীয় খোঁচাখুঁচি, কটন বাড বা ধারালো বস্তু ব্যবহার, ঘন ঘন কানে পানি ঢোকা (সাঁতার বা গোসলের সময়) এসব কারণে কর্ণনালির ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং জীবাণু সহজে সংক্রমণ ঘটাতে পারে।

প্রাথমিক পর্যায়ে সঠিক চিকিৎসা নিলে দ্রুত আরাম পাওয়া সম্ভব। তবে অবহেলা করলে সংক্রমণ গভীরে ছড়িয়ে জটিল আকার ধারণ করতে পারে—বিশেষ করে ডায়াবেটিক রোগীদের ক্ষেত্রে। তাই কানে তীব্র ব্যথা, অস্বাভাবিক স্রাব বা দীর্ঘস্থায়ী অস্বস্তি হলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।