ঢাকা ১২:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

রক্তে শর্করা কমে যাওয়া: হাইপোগ্লাইসেমিয়ার কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকার

রক্তে শর্করার মাত্রা ৩.৯ মিলিমোল/লিটার (৭০ মি.গ্রা./ডে.লি.) বা তার নিচে নেমে গেলে সে অবস্থাকে হাইপোগ্লাইসেমিয়া বলা হয়। রোজার সময় দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকা, ওষুধের ভুল মাত্রা বা অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রমের ফলে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। সময়মতো এর চিকিৎসা না হলে রোগী অজ্ঞান হয়ে যেতে পারেন, এমনকি জীবনহানির ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

হাইপোগ্লাইসেমিয়ার কিছু সাধারণ লক্ষণ হলো তীব্র ক্ষুধা, শরীর হঠাৎ ঘেমে যাওয়া, বুক ধড়ফড় করা, হাত-পা কাঁপা এবং শরীর অবশ লাগা। এছাড়া মাথা ঘোরা, চোখে ঝাপসা দেখা, হঠাৎ খুব বেশি বিরক্তিবোধ, মেজাজ খিটখিটে হওয়া, অসংলগ্ন কথা বলা বা চেতনা হারানোও এর অন্যতম লক্ষণ। এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত সতর্ক হওয়া জরুরি।

রমজানে ডায়াবেটিক রোগীদের হাইপোগ্লাইসেমিয়া এড়াতে কিছু নিয়ম মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধের ডোজ ঠিক করে নিতে হবে। বিশেষ করে যারা ইনসুলিন ব্যবহার করেন, তাদের দিনের বেলার ইনসুলিন ইফতার বা সাহরির সময়ের সঙ্গে সমন্বয় করা অত্যাবশ্যক। সাধারণত, রোজার সময় সাহরিতে স্বাভাবিক রাতের ইনসুলিন ডোজের অর্ধেক এবং ইফতারে স্বাভাবিক সকালের ডোজের সমান ইনসুলিন নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

খাবারের ক্ষেত্রে সাহরিতে লাল চালের ভাত, ওটস, রুটি, ডাল ও প্রচুর পরিমাণে শাকসবজির মতো দেরিতে হজম হয় এমন খাবার (কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেটস) গ্রহণ করা উচিত। ইফতারে অতিরিক্ত মিষ্টি বা ভাজাপোড়া এড়িয়ে সুষম খাবার গ্রহণ করুন। ইফতার থেকে সাহরি পর্যন্ত পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার পান করে শরীরকে পানিশূন্যতা থেকে রক্ষা করুন।

রোজার অবস্থায় দিনের বেলা, বিশেষ করে শেষ বিকেলে ভারী ব্যায়াম বা কঠোর পরিশ্রম থেকে বিরত থাকুন। এতে ক্যালরি দ্রুত খরচ হয়ে রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তারাবিহর নামাজ নিজেই একটি ভালো ব্যায়াম, তাই আলাদা করে অতিরিক্ত ব্যায়ামের প্রয়োজন নেই। নিয়মিত গ্লুকোজ পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। রোজা রেখে রক্ত পরীক্ষা করলে রোজা ভাঙে না। তাই সন্দেহ হলে বা নিয়মিত রুটিন অনুযায়ী দিনে অন্তত তিন-চারবার (দুপুরে, ইফতারের আগে এবং সাহরির দুই ঘণ্টা পর) রক্তে শর্করার মাত্রা মেপে দেখুন। যদি গ্লুকোমিটারে রক্তে শর্করার মাত্রা ৩.৯ মিলিমোল/লিটার বা তার কম পাওয়া যায়, তবে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গর্ভাবস্থায় রোজা: মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও চিকিৎসকের পরামর্শ

রক্তে শর্করা কমে যাওয়া: হাইপোগ্লাইসেমিয়ার কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকার

আপডেট সময় : ১০:৩৭:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

রক্তে শর্করার মাত্রা ৩.৯ মিলিমোল/লিটার (৭০ মি.গ্রা./ডে.লি.) বা তার নিচে নেমে গেলে সে অবস্থাকে হাইপোগ্লাইসেমিয়া বলা হয়। রোজার সময় দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকা, ওষুধের ভুল মাত্রা বা অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রমের ফলে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। সময়মতো এর চিকিৎসা না হলে রোগী অজ্ঞান হয়ে যেতে পারেন, এমনকি জীবনহানির ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

হাইপোগ্লাইসেমিয়ার কিছু সাধারণ লক্ষণ হলো তীব্র ক্ষুধা, শরীর হঠাৎ ঘেমে যাওয়া, বুক ধড়ফড় করা, হাত-পা কাঁপা এবং শরীর অবশ লাগা। এছাড়া মাথা ঘোরা, চোখে ঝাপসা দেখা, হঠাৎ খুব বেশি বিরক্তিবোধ, মেজাজ খিটখিটে হওয়া, অসংলগ্ন কথা বলা বা চেতনা হারানোও এর অন্যতম লক্ষণ। এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত সতর্ক হওয়া জরুরি।

রমজানে ডায়াবেটিক রোগীদের হাইপোগ্লাইসেমিয়া এড়াতে কিছু নিয়ম মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধের ডোজ ঠিক করে নিতে হবে। বিশেষ করে যারা ইনসুলিন ব্যবহার করেন, তাদের দিনের বেলার ইনসুলিন ইফতার বা সাহরির সময়ের সঙ্গে সমন্বয় করা অত্যাবশ্যক। সাধারণত, রোজার সময় সাহরিতে স্বাভাবিক রাতের ইনসুলিন ডোজের অর্ধেক এবং ইফতারে স্বাভাবিক সকালের ডোজের সমান ইনসুলিন নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

খাবারের ক্ষেত্রে সাহরিতে লাল চালের ভাত, ওটস, রুটি, ডাল ও প্রচুর পরিমাণে শাকসবজির মতো দেরিতে হজম হয় এমন খাবার (কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেটস) গ্রহণ করা উচিত। ইফতারে অতিরিক্ত মিষ্টি বা ভাজাপোড়া এড়িয়ে সুষম খাবার গ্রহণ করুন। ইফতার থেকে সাহরি পর্যন্ত পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার পান করে শরীরকে পানিশূন্যতা থেকে রক্ষা করুন।

রোজার অবস্থায় দিনের বেলা, বিশেষ করে শেষ বিকেলে ভারী ব্যায়াম বা কঠোর পরিশ্রম থেকে বিরত থাকুন। এতে ক্যালরি দ্রুত খরচ হয়ে রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তারাবিহর নামাজ নিজেই একটি ভালো ব্যায়াম, তাই আলাদা করে অতিরিক্ত ব্যায়ামের প্রয়োজন নেই। নিয়মিত গ্লুকোজ পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। রোজা রেখে রক্ত পরীক্ষা করলে রোজা ভাঙে না। তাই সন্দেহ হলে বা নিয়মিত রুটিন অনুযায়ী দিনে অন্তত তিন-চারবার (দুপুরে, ইফতারের আগে এবং সাহরির দুই ঘণ্টা পর) রক্তে শর্করার মাত্রা মেপে দেখুন। যদি গ্লুকোমিটারে রক্তে শর্করার মাত্রা ৩.৯ মিলিমোল/লিটার বা তার কম পাওয়া যায়, তবে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।