ঢাকা ১১:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

ঈদ ঘনিয়ে আসতেই কুমিল্লার দর্জি পাড়ায় ব্যস্ততা তুঙ্গে, বাড়ছে সেলাই খরচ

আসন্ন ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে কুমিল্লার দর্জি পাড়াগুলোতে উৎসবের আমেজ বইছে। নগরীর বিভিন্ন টেইলারিং শপে প্রতিদিন নতুন নতুন পোশাক তৈরির অর্ডার আসছে। পাঞ্জাবি, থ্রি-পিস, লেহেঙ্গা, শার্ট-প্যান্টসহ বিভিন্ন ধরনের পোশাক তৈরিতে দর্জি ও কারিগররা দিনরাত পরিশ্রম করছেন। নগরীর খন্দকার হক শপিংমল এবং সাত্তার খান শপিংমলের মতো জনপ্রিয় স্থানগুলোতে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

বর্তমানে প্রতিটি দোকানে গড়ে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০টি থ্রি-পিস ও লেহেঙ্গার অর্ডার আসছে, পাশাপাশি ৪০ থেকে ৫০টি পাঞ্জাবি, প্যান্ট-শার্ট এবং ব্লেজারের কাজও চলছে। ঈদ যত কাছাকাছি আসছে, অর্ডারের সংখ্যা ততই বাড়ছে বলে জানিয়েছেন দর্জিরা। তবে, কিছু দোকানে আশানুরূপ অর্ডার না আসায় কারিগরদের মধ্যে হতাশার ছাপও দেখা যাচ্ছে।

ঈদের পোশাকের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সেলাই খরচও কিছুটা বেড়েছে। আগের তুলনায় প্রতি পোশাকে সেলাইয়ের জন্য অতিরিক্ত ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। ক্রেতাদের বিপুল চাপ সামলাতে কারিগররা প্রস্তুত। অর্ডার পেলেই শুরু হচ্ছে কাপড় কাটা ও সেলাইয়ের কাজ। বিশেষ করে থ্রি-পিস এবং পাঞ্জাবি তৈরিতে সবচেয়ে বেশি ব্যস্ততা দেখা যাচ্ছে।

খন্দকার হক শপিংমল ও সাত্তার খান শপিংমলের বিভিন্ন দোকানে পাঞ্জাবি সেলাইয়ের মজুরি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, শার্টের জন্য ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং প্যান্টের জন্য ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। ব্লেজার সেটের মজুরি ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। থ্রি-পিস সেলাইয়ের জন্য ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ডাবল থ্রি-পিসের জন্য ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে, কিছু দোকানে এই খরচ ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। লেহেঙ্গা সেলাইয়ের খরচ ১৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকার মধ্যে থাকছে।

দর্জিরা জানান, বাজারে রেডিমেড পোশাকের আধিক্য বাড়ায় দর্জি পাড়ার সেই পুরনো ব্যস্ততা এখন অনেকটাই কমে গেছে। তবুও, নিজের পছন্দ এবং সঠিক মাপ অনুযায়ী পোশাক বানানোর জন্য অনেকে এখনও কাপড় কিনে দর্জিদের কাছে আসছেন।

খন্দকার হক শপিংমলের কিছু দর্জির অভিযোগ, কাপড়ের দোকান এবং নির্দিষ্ট কিছু টেইলার্সের মধ্যে গোপন চুক্তির কারণে তারা অনেক সময় কাজের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অনেক সময় কাপড়ের দোকানের বিক্রয়কর্মীরা ক্রেতাদের সরাসরি চুক্তিবদ্ধ টেইলার্সগুলোতে পাঠিয়ে দেন, যার ফলে নির্দিষ্ট তারিখের (যেমন ১৬ রমজান) মধ্যে কাজ শেষ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চ্যাম্পিয়নস লিগে লিভারপুলের হোঁচট: স্লটের শততম ম্যাচে হার, পিছিয়ে অলরেডরা

ঈদ ঘনিয়ে আসতেই কুমিল্লার দর্জি পাড়ায় ব্যস্ততা তুঙ্গে, বাড়ছে সেলাই খরচ

আপডেট সময় : ০৯:৩১:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

আসন্ন ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে কুমিল্লার দর্জি পাড়াগুলোতে উৎসবের আমেজ বইছে। নগরীর বিভিন্ন টেইলারিং শপে প্রতিদিন নতুন নতুন পোশাক তৈরির অর্ডার আসছে। পাঞ্জাবি, থ্রি-পিস, লেহেঙ্গা, শার্ট-প্যান্টসহ বিভিন্ন ধরনের পোশাক তৈরিতে দর্জি ও কারিগররা দিনরাত পরিশ্রম করছেন। নগরীর খন্দকার হক শপিংমল এবং সাত্তার খান শপিংমলের মতো জনপ্রিয় স্থানগুলোতে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

বর্তমানে প্রতিটি দোকানে গড়ে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০টি থ্রি-পিস ও লেহেঙ্গার অর্ডার আসছে, পাশাপাশি ৪০ থেকে ৫০টি পাঞ্জাবি, প্যান্ট-শার্ট এবং ব্লেজারের কাজও চলছে। ঈদ যত কাছাকাছি আসছে, অর্ডারের সংখ্যা ততই বাড়ছে বলে জানিয়েছেন দর্জিরা। তবে, কিছু দোকানে আশানুরূপ অর্ডার না আসায় কারিগরদের মধ্যে হতাশার ছাপও দেখা যাচ্ছে।

ঈদের পোশাকের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সেলাই খরচও কিছুটা বেড়েছে। আগের তুলনায় প্রতি পোশাকে সেলাইয়ের জন্য অতিরিক্ত ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। ক্রেতাদের বিপুল চাপ সামলাতে কারিগররা প্রস্তুত। অর্ডার পেলেই শুরু হচ্ছে কাপড় কাটা ও সেলাইয়ের কাজ। বিশেষ করে থ্রি-পিস এবং পাঞ্জাবি তৈরিতে সবচেয়ে বেশি ব্যস্ততা দেখা যাচ্ছে।

খন্দকার হক শপিংমল ও সাত্তার খান শপিংমলের বিভিন্ন দোকানে পাঞ্জাবি সেলাইয়ের মজুরি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, শার্টের জন্য ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং প্যান্টের জন্য ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। ব্লেজার সেটের মজুরি ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। থ্রি-পিস সেলাইয়ের জন্য ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ডাবল থ্রি-পিসের জন্য ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে, কিছু দোকানে এই খরচ ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। লেহেঙ্গা সেলাইয়ের খরচ ১৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকার মধ্যে থাকছে।

দর্জিরা জানান, বাজারে রেডিমেড পোশাকের আধিক্য বাড়ায় দর্জি পাড়ার সেই পুরনো ব্যস্ততা এখন অনেকটাই কমে গেছে। তবুও, নিজের পছন্দ এবং সঠিক মাপ অনুযায়ী পোশাক বানানোর জন্য অনেকে এখনও কাপড় কিনে দর্জিদের কাছে আসছেন।

খন্দকার হক শপিংমলের কিছু দর্জির অভিযোগ, কাপড়ের দোকান এবং নির্দিষ্ট কিছু টেইলার্সের মধ্যে গোপন চুক্তির কারণে তারা অনেক সময় কাজের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অনেক সময় কাপড়ের দোকানের বিক্রয়কর্মীরা ক্রেতাদের সরাসরি চুক্তিবদ্ধ টেইলার্সগুলোতে পাঠিয়ে দেন, যার ফলে নির্দিষ্ট তারিখের (যেমন ১৬ রমজান) মধ্যে কাজ শেষ করা কঠিন হয়ে পড়ে।