আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাজধানী ঢাকায় তিনদিনব্যাপী এক ঈদ উৎসবের আয়োজন করা হচ্ছে। এছাড়াও ঈদের দিন একটি বর্ণাঢ্য ঈদের মিছিল বের হবে। মঙ্গলবার রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে ‘ঈদ আনন্দ মিছিল উদযাপন কমিটি-২০২৬’ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে কমিটির অন্যতম সদস্য এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুইয়া উপস্থিত ছিলেন। তিনি জানান, প্রায় ৫০০ বছর আগে থেকেই এই অঞ্চলে ঈদের মিছিল ছিল এক অন্তর্ভুক্তিমূলক উৎসবের প্রতীক। সুলতানি ও মোঘল আমল থেকেই ঈদের দিন বের হওয়া বর্ণাঢ্য মিছিল ভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ভাতৃত্বের মেলবন্ধন ঘটিয়েছিল। হাতি, ঘোড়া ও বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের সুরের তালে তালে এই মিছিল নাগরিক জীবনের এক প্রাণবন্ত সামাজিক উৎসব হিসেবে উদযাপিত হতো।
পরবর্তীকালে ঔপনিবেশিক শাসন এবং জমিদারদের সাংস্কৃতিক দমনের ফলে এই উৎসবের আমেজ ধীরে ধীরে ক্ষীণ হয়ে আসে। বাঙালি মুসলমানের উপর সাংস্কৃতিক আধিপত্য ও স্বৈরাচারী শাসনের কারণে ঈদের উৎসব একটি আমেজহীন ছুটির দিনে পরিণত হয়েছিল। তবে, ছাত্র-জনতার জুলাই গণঅভ্যুত্থান এই সাংস্কৃতিক আধিপত্যবাদের ওপর আঘাত হানে এবং ঈদের মিছিল পুনরায় শুরু হয়। গত বছরের ঈদ মিছিলে বিপুল সংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণ এই আয়োজনকে নতুন মাত্রা দিয়েছিল। শহরের সড়ক ধরে মিছিল যাওয়ার সময় অসংখ্য মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এতে যোগ দিয়েছিলেন, যা শহরকে উৎসবমুখর করে তুলেছিল।
এই ধারাবাহিকতায় এ বছরও নাগরিকদের অংশগ্রহণে ঈদের মিছিলের আয়োজন করা হচ্ছে। এবার শুধু ঈদের দিন মিছিলই নয়, বরং ঈদের আগের দিন চাঁদ রাত থেকে টানা তিনদিনব্যাপী ঈদ উৎসব পালিত হবে। ঈদের আগের দিন চাঁদ রাতে রাজধানীর রবীন্দ্র সরোবরে মেহেদী উৎসব ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করা হবে, যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলেই অংশ নিতে পারবেন। চাঁদরাতে থাকবে ঈদের গান, কবিতা ও নানা আয়োজন।
ঈদের দিন সকাল দশটায় জাতীয় ঈদগাহের সামনে (হাইকোর্ট প্রাঙ্গণ) থেকে মূল ঈদের মিছিল শুরু হবে। ঈদের নামাজের পর রাজধানীর বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা থেকে নাগরিক উদ্যোগে ছোট ছোট মিছিলগুলো জাতীয় ঈদগাহের সামনে এসে জড়ো হবে।
রিপোর্টারের নাম 























