ঢাকা ০৭:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

ইরানে প্রবেশে প্রস্তুত ৬ কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠী, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাতের শঙ্কা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:১৫:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে। ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চল থেকে ইরানের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে ৬টি কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীর একটি জোট। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে এই গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা আঞ্চলিক অস্থিরতা আরও বাড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সংবাদমাধ্যম আল-মনিটরের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২২ ফেব্রুয়ারি ‘কোয়ালিশন অব পলিটিক্যাল ফোর্সেস অব ইরানিয়ান কুর্দিস্তান’ নামে এই জোট গঠিত হয়। প্রাথমিকভাবে ডেমোক্রেটিক পার্টি অব ইরানিয়ান কুর্দিস্তান (কেডিপিআই), কুর্দিস্তান ফ্রি লাইফ পার্টি (পিজ্যাক), কুর্দিস্তান ফ্রিডম পার্টি (পাক), খাবাত অর্গানাইজেশন এবং কোমালা অব দ্য টয়লার্স—এই পাঁচটি দল এতে যুক্ত হয়। সম্প্রতি কোমালা পার্টি অব ইরানিয়ান কুর্দিস্তান ষষ্ঠ দল হিসেবে এই জোটে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

সংবাদমাধ্যমটি আরও জানিয়েছে, এই জোটকে ইতোমধ্যে অস্ত্র সরবরাহ করা হয়েছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তারা ইরাকি কুর্দিস্তান সীমান্ত পেরিয়ে ইরানে প্রবেশ করতে পারে। তবে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট কুর্দিদের অস্ত্র সরবরাহের মার্কিন পরিকল্পনা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক অনুমোদনের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। অন্যদিকে, মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ সতর্কতার সঙ্গে বলেছেন, এই গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র দেওয়া মার্কিন সামরিক পরিকল্পনার অবিচ্ছেদ্য অংশ নয়।

জোটভুক্ত প্রধান গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে কেডিপিআই ইরানের বৃহত্তম কুর্দি বিরোধী দল হিসেবে পরিচিত, যাদের প্রায় ১ হাজার সশস্ত্র যোদ্ধা রয়েছে। সম্প্রতি ইরাকের কোয়া শহরে তাদের স্থাপনায় ইরান রকেট ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তুরস্কের পিকেকে-এর সহযোগী পিজ্যাককে সামরিকভাবে সবচেয়ে সক্ষম মনে করা হয়, যাদের প্রায় ৩ হাজার যোদ্ধা রয়েছে। ২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র এদের ‘সন্ত্রাসবাদী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছিল। ধর্মনিরপেক্ষ জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠী পিএকে গত জানুয়ারিতে ইরানি নিরাপত্তা বাহিনীর দমনের প্রতিবাদে আইআরজিসির ওপর হামলার ঘোষণা দিয়েছিল এবং সম্প্রতি ইরানি ড্রোন হামলায় তাদের এক সদস্য নিহত হয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে ইসলামপন্থি খাবাত অর্গানাইজেশন তুলনামূলক ছোট এবং তাদের সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য নেই। বামপন্থি আদর্শের কোমালা দলগুলোর একাধিক উপদল রয়েছে এবং তাদের যোদ্ধার সংখ্যা ১ হাজারের কম বলে ধারণা করা হয়।

এই গোষ্ঠীগুলোর ইরাক ও তুরস্কের কুর্দি দলগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা ইরানে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং কুর্দি অধ্যুষিত অঞ্চলের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের পক্ষে লড়াই করবে। দীর্ঘদিন ধরে ইরান সরকার এই গোষ্ঠীগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে আসছে। ২০২৩ সালে ইরাক সরকার এদের সীমান্ত এলাকা থেকে সরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছিল, তবে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তারা আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরাকে তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলা

ইরানে প্রবেশে প্রস্তুত ৬ কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠী, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাতের শঙ্কা

আপডেট সময় : ০৬:১৫:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে। ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চল থেকে ইরানের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে ৬টি কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীর একটি জোট। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে এই গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা আঞ্চলিক অস্থিরতা আরও বাড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সংবাদমাধ্যম আল-মনিটরের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২২ ফেব্রুয়ারি ‘কোয়ালিশন অব পলিটিক্যাল ফোর্সেস অব ইরানিয়ান কুর্দিস্তান’ নামে এই জোট গঠিত হয়। প্রাথমিকভাবে ডেমোক্রেটিক পার্টি অব ইরানিয়ান কুর্দিস্তান (কেডিপিআই), কুর্দিস্তান ফ্রি লাইফ পার্টি (পিজ্যাক), কুর্দিস্তান ফ্রিডম পার্টি (পাক), খাবাত অর্গানাইজেশন এবং কোমালা অব দ্য টয়লার্স—এই পাঁচটি দল এতে যুক্ত হয়। সম্প্রতি কোমালা পার্টি অব ইরানিয়ান কুর্দিস্তান ষষ্ঠ দল হিসেবে এই জোটে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

সংবাদমাধ্যমটি আরও জানিয়েছে, এই জোটকে ইতোমধ্যে অস্ত্র সরবরাহ করা হয়েছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তারা ইরাকি কুর্দিস্তান সীমান্ত পেরিয়ে ইরানে প্রবেশ করতে পারে। তবে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট কুর্দিদের অস্ত্র সরবরাহের মার্কিন পরিকল্পনা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক অনুমোদনের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। অন্যদিকে, মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ সতর্কতার সঙ্গে বলেছেন, এই গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র দেওয়া মার্কিন সামরিক পরিকল্পনার অবিচ্ছেদ্য অংশ নয়।

জোটভুক্ত প্রধান গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে কেডিপিআই ইরানের বৃহত্তম কুর্দি বিরোধী দল হিসেবে পরিচিত, যাদের প্রায় ১ হাজার সশস্ত্র যোদ্ধা রয়েছে। সম্প্রতি ইরাকের কোয়া শহরে তাদের স্থাপনায় ইরান রকেট ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তুরস্কের পিকেকে-এর সহযোগী পিজ্যাককে সামরিকভাবে সবচেয়ে সক্ষম মনে করা হয়, যাদের প্রায় ৩ হাজার যোদ্ধা রয়েছে। ২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র এদের ‘সন্ত্রাসবাদী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছিল। ধর্মনিরপেক্ষ জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠী পিএকে গত জানুয়ারিতে ইরানি নিরাপত্তা বাহিনীর দমনের প্রতিবাদে আইআরজিসির ওপর হামলার ঘোষণা দিয়েছিল এবং সম্প্রতি ইরানি ড্রোন হামলায় তাদের এক সদস্য নিহত হয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে ইসলামপন্থি খাবাত অর্গানাইজেশন তুলনামূলক ছোট এবং তাদের সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য নেই। বামপন্থি আদর্শের কোমালা দলগুলোর একাধিক উপদল রয়েছে এবং তাদের যোদ্ধার সংখ্যা ১ হাজারের কম বলে ধারণা করা হয়।

এই গোষ্ঠীগুলোর ইরাক ও তুরস্কের কুর্দি দলগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা ইরানে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং কুর্দি অধ্যুষিত অঞ্চলের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের পক্ষে লড়াই করবে। দীর্ঘদিন ধরে ইরান সরকার এই গোষ্ঠীগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে আসছে। ২০২৩ সালে ইরাক সরকার এদের সীমান্ত এলাকা থেকে সরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছিল, তবে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তারা আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে।