দেশ ও জনগণের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে আগ্রহী তরুণ-তরুণীদের জন্য সুবর্ণ সুযোগ নিয়ে এসেছে বাংলাদেশ পুলিশ। ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে আজ বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ ২০২৬) সকাল ১০টা থেকে। আগ্রহী ও যোগ্য প্রার্থীরা আগামী ৩১ মার্চ ২০২৬, রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।
আবেদনের যোগ্যতা:
এই পদে আবেদনের জন্য প্রার্থীদের নিম্নলিখিত যোগ্যতাগুলো পূরণ করতে হবে:
শিক্ষাগত যোগ্যতা: যেকোনো স্বীকৃত শিক্ষা বোর্ড থেকে এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় ন্যূনতম জিপিএ-২.৫০ পেয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে।
বয়সসীমা: আবেদনকারীর বয়স ১৮ থেকে ২০ বছরের মধ্যে হতে হবে (৩১ মার্চ ২০২৬ তারিখে)।
বৈবাহিক অবস্থা: অবশ্যই অবিবাহিত হতে হবে।
শারীরিক যোগ্যতা (ন্যূনতম):
উচ্চতা (পুরুষ): ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি।
উচ্চতা (মহিলা): ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি।
ওজন: উচ্চতা ও বয়স অনুযায়ী অনুমোদিত পরিমাপের হতে হবে।
দৃষ্টিশক্তি: চোখের দৃষ্টি অবশ্যই ৬/৬ থাকতে হবে।
আবেদন প্রক্রিয়া:
আগ্রহী প্রার্থীরা http://police.teletalk.com.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে নির্ভুলভাবে আবেদন ফরম পূরণ করবেন। ফরম পূরণের পর প্রার্থী একটি User ID পাবেন। এই User ID ব্যবহার করে টেলিটক প্রিপেইড মোবাইল নম্বর থেকে (যেখানে কমপক্ষে ৪৫ টাকা ব্যালেন্স আছে) দুটি এসএমএস পাঠাতে হবে:
প্রথম এসএমএস: TRC User ID লিখে ১৬২২২ নম্বরে Send করুন।
দ্বিতীয় এসএমএস: TRC Yes-PIN Number লিখে ১৬২২২ নম্বরে Send করুন।
৬ ধাপের নিয়োগ প্রক্রিয়া:
বাংলাদেশ পুলিশে কনস্টেবল পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া অত্যন্ত সুসংগঠিত এবং ছয়টি ধাপে সম্পন্ন হবে। ধাপগুলো নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:
১. প্রিলিমিনারি স্ক্রিনিং: অনলাইনে জমা পড়া আবেদনপত্রগুলো নির্ধারিত নিয়োগবিধি অনুযায়ী প্রাথমিকভাবে যাচাই-বাছাই করা হবে। এই ধাপে নির্দিষ্ট সংখ্যক যোগ্য প্রার্থীকে পরবর্তী ধাপের জন্য নির্বাচন করা হবে।
২. শারীরিক মাপ, কাগজপত্র যাচাই ও পিইটি (শারীরিক সক্ষমতা পরীক্ষা): প্রিলিমিনারি স্ক্রিনিংয়ে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত তারিখ, সময় ও স্থানে উপস্থিত হয়ে শারীরিক মাপ প্রদান, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই এবং Physical Endurance Test (PET)-এ অংশগ্রহণ করতে হবে। পিইটি-তে দৌড়, পুশ-আপ, লং জাম্প, হাই জাম্প, ড্র্যাগিং এবং রোপ ক্লাইম্বিং-এর মতো পরীক্ষাগুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যা প্রার্থীর শারীরিক সক্ষমতা যাচাই করবে।
৩. লিখিত পরীক্ষা: শারীরিক মাপ ও পিইটি-তে সফল প্রার্থীদের ৪৫ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। এই পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি, সাধারণ গণিত এবং সাধারণ বিজ্ঞান বিষয়ে প্রশ্ন থাকবে। লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন করে ৫৬ টাকা ফি জমা দিতে হবে।
৪. মনস্তাত্ত্বিক ও মৌখিক পরীক্ষা: লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের জন্য ১৫ নম্বরের মনস্তাত্ত্বিক ও মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এই ধাপে প্রার্থীর ব্যক্তিত্ব, মানসিকতা, সাধারণ জ্ঞান এবং উপস্থিত বুদ্ধি যাচাই করা হবে।
৫. স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পুলিশ ভেরিফিকেশন: প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের পুঙ্খানুপুঙ্খ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হবে। একই সাথে তাদের ব্যক্তিগত তথ্য, পারিবারিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট যাচাইয়ের জন্য বিস্তারিত পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হবে।
৬. চূড়ান্ত নির্বাচন ও প্রশিক্ষণ: স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পুলিশ ভেরিফিকেশনে উত্তীর্ণ প্রার্থীরা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে যোগদানের পর পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত একটি চূড়ান্ত বাছাই কমিটি তাদের শারীরিক যোগ্যতাসহ অন্যান্য তথ্য পুনরায় যাচাই করবে। এই যাচাই শেষে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের প্রশিক্ষণে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
দেশ ও জনগণের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে ইচ্ছুক যোগ্য প্রার্থীদের দ্রুত আবেদন করার আহ্বান জানানো হচ্ছে। বিস্তারিত তথ্যের জন্য বাংলাদেশ পুলিশের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট দেখুন।
রিপোর্টারের নাম 

























