জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট অধিবেশন শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এই অধিবেশনের কার্যক্রম শুরু হয়। এই বাজেটটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের প্রথম বাজেট এবং এটি অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী উপস্থাপন করবেন। কার্য উপদেষ্টা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অধিবেশনটি ৯ জুলাই পর্যন্ত চলবে এবং বাজেট নিয়ে মোট ৪০ ঘণ্টা আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
সামষ্টিক অর্থনীতিতে গত মে মাসে কিছু ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত মিললেও, মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি, বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের স্থবিরতা এবং বিনিয়োগে মন্দা—এমন বাস্তবতায় সরকারের সামনে জনতুষ্টিমূলক বাজেট ঘোষণার কঠিন চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে আজ ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজেট ঘোষণা করা হচ্ছে। এই বাজেটটি দুই দশক আগের ২০০৬ সালের জুনে মরহুম অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানের দেওয়া বাজেটের তুলনায় অনেক বড়। এটি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট সরকারের শেষ বাজেট ছিল।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের প্রথম এই বাজেটকে ঘিরে জনগণের প্রত্যাশার চাপ প্রবল। নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ১১২ দিনের মাথায় চরম আর্থিক টানাপড়েন ও বৈশ্বিক সংকটের মধ্যে এই বাজেট উপস্থাপন হতে যাচ্ছে। এটি শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ভিন্ন প্রেক্ষাপটে দ্বিতীয় জাতীয় বাজেট এবং অভ্যুত্থান-উত্তর বাংলাদেশে রাজনৈতিক সরকারের প্রথম বাজেট। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট দিয়েছিল সংসদ ছাড়াই, উপদেষ্টা পরিষদের মাধ্যমে।
আকারের দিক থেকে এবারের বাজেট প্রায় সাড়ে ৯ লাখ কোটি টাকার। এছাড়াও, বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এবারের বাজেট অতীতের বাজেটগুলোর চেয়ে ব্যতিক্রম। ৫৫ বছর আগে প্রথম বাজেটের আকার ছিল মাত্র ৭১৯ কোটি টাকা, যা উপস্থাপন করেছিলেন প্রথম অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বাংলাদেশ টেলিভিশনের ভাষণের মাধ্যমে ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেছিলেন।
রিপোর্টারের নাম 




















