ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যু নিয়ে বিপুল অঙ্কের বাজি ধরেছিলেন কয়েক হাজার মানুষ। কিন্তু শেষ মুহূর্তে বিধিমালা পরিবর্তনের দোহাই দিয়ে বাজিতে জয়ীদের টাকা পরিশোধ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে অনলাইন প্রেডিকশন প্ল্যাটফর্মগুলো। এ নিয়ে খোদ যুক্তরাষ্ট্রে তোলপাড় শুরু হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট এ খবর জানিয়েছে।
খামেনির মৃত্যু বা ক্ষমতাচ্যুতির ওপর ভিত্তি করে কেবল ‘কালশি’ নামক একটি সাইটেই ৫ কোটি ৪০ লাখ ডলারের (প্রায় ৬০০ কোটি টাকার বেশি) লেনদেন হয়েছিল। কিন্তু খামেনি নিহত হওয়ার পর সাইটটি জানায়, তাদের নীতিমালায় ‘সরাসরি মৃত্যুর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট’ কোনও বিষয়ে টাকা জেতার সুযোগ নেই। এর ফলে কয়েক হাজার বিনিয়োগকারী ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন।
নিউ ইয়র্কের এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, তিনি কালশি অ্যাপে প্রায় ৩ হাজার ৪৬০ ডলার বাজি ধরেছিলেন যে, ১ এপ্রিলের মধ্যে খামেনি ক্ষমতায় থাকবেন না। খামেনি নিহত হওয়ার পর তার অ্যাপে ‘সবুজ টিক’ চিহ্ন দেখিয়ে ৬৩ হাজার ডলার (প্রায় ৭০ লাখ টাকা) জয়ের সংকেত দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কয়েক মিনিট পরেই সব লেনদেন স্থগিত করে দেয় কালশি। ওই ব্যবসায়ী রসিকতা করে বলেন, ‘আমি তো আল্পস পর্বতে ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করে ফেলেছিলাম। কিন্তু তারা নিয়ম বদলে দিলো আর সবাই ধরা খেলো।’
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মার্কিন সিনেটর ক্রিস মারফি বলেন, ‘এটি আমেরিকান বাণিজ্যিক অনৈতিকতার চরম বহিঃপ্রকাশ। মানুষের মৃত্যু নিয়ে বাজি ধরা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।’ তিনি অভিযোগ করেন, ট্রাম্প প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ কিছু লোক আগাম তথ্যের ভিত্তিতে এই বাজি ধরে লাভবান হচ্ছেন।
আরেকটি প্ল্যাটফর্ম ‘পলিমার্কেট’-এ দেখা গেছে, ছয়টি সন্দেহভাজন অ্যাকাউন্ট অপারেশন ‘এপিক ফিউরি’ শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে বাজি ধরে ১২ লাখ ডলার জিতে নিয়েছে। উল্লেখ্য, এই সাইটের উপদেষ্টা বোর্ডে ট্রাম্পের ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র যুক্ত রয়েছেন। এর আগে জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে ধরার কয়েক ঘণ্টা আগেও এক ব্যক্তি ৪ লাখ ডলার জিতে নিয়েছিলেন।
কালশি একটি মার্কিন নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠান হওয়ায় তারা বাজি বাতিল করে ২.২ মিলিয়ন ডলারের লোকসান সয়ে গ্রাহকদের বাজির টাকা ফেরত দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে, বিদেশে পরিচালিত পলিমার্কেট এখনও খামেনি বিষয়ক বাজিগুলো স্থগিত করেনি। তাদের প্ল্যাটফর্মে বর্তমানে ৬ কোটি ১০ লাখ ডলারের লেনদেন চলছে।
সমালোচকরা বলছেন, কালশি ইচ্ছে করেই বাজির শর্তাবলি অস্পষ্ট রেখেছিল যাতে বেশি মানুষ অংশ নেয়। অন্যদিকে, পলিমার্কেট একে ‘বিশ্ব পরিস্থিতি বোঝার অন্যতম মাধ্যম’ হিসেবে দাবি করে প্রচারণা চালাচ্ছে। তবে নৈতিকতা ও যুদ্ধের গোপন তথ্যের অপব্যবহার নিয়ে মার্কিন আইনপ্রণেতারা এখন বাজির এই বাজার বন্ধে নতুন আইন তৈরির কথা ভাবছেন।
রিপোর্টারের নাম 























