প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বললেও নেপথ্যে ভিন্ন পথে হাঁটছে তেহরান। মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলা বন্ধের শর্ত নিয়ে আলোচনার জন্য সিআইএ-র সঙ্গে পরোক্ষভাবে যোগাযোগ করেছে ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আলোচনার সময় এখন আর নেই; অনেক দেরি হয়ে গেছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, হামলা শুরুর পরদিনই তৃতীয় একটি দেশের গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে এই প্রস্তাব পাঠায় ইরান। তবে তেহরানের এই প্রস্তাবকে ওয়াশিংটন আপাতত গুরুত্ব দিচ্ছে না। হোয়াইট হাউস বা সিআইএ এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, আলোচনার জন্য ‘এখন অনেক দেরি’ হয়ে গেছে। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, যাদেরকে তিনি ইরানের সম্ভাব্য হবু নেতা হিসেবে ভেবেছিলেন, তারা একে একে হামলায় মারা যাচ্ছেন। ট্রাম্পের ভাষায়, ‘যাদের কথা আমাদের মাথায় ছিল, তাদের বেশিরভাগই এখন মৃত। শিগগিরই এমন সময় আসবে যখন সেখানে আমাদের পরিচিত আর কেউ থাকবে না।’
ইরানে কেমন সরকার দেখতে চান, সে বিষয়ে ট্রাম্পের অবস্থানে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শুরুতে তিনি গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব আসার কথা বললেও এখন তিনি বিদ্যমান কাঠামোর ভেতর থেকেই ‘বাস্তববাদী’ কোনও নেতৃত্বকে বেছে নেওয়ার পক্ষপাতী। এ ক্ষেত্রে তিনি ভেনিজুয়েলা মডেলের কথা উল্লেখ করেছেন। গত জানুয়ারিতে ভেনিজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করার পর তার উত্তরসূরিকে দিয়ে যেভাবে তেলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়েছে, ইরানেও তেমনটাই চাইছেন তিনি। ট্রাম্পের ভাষায়, ‘নেতা বেছে নেওয়া যায়।’
তবে ইসরায়েল এই মডেলের ঘোর বিরোধী। তারা চায় কয়েক সপ্তাহ ধরে হামলা চালিয়ে ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করতে এবং বর্তমান সরকারের পতন ঘটাতে।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা মনে করছেন, হামলা বন্ধের যেকোনও চুক্তিতে তেহরানকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধের পাশাপাশি হিজবুল্লাহর মতো গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। বিনিময়ে ট্রাম্প বর্তমান নেতাদের টিকে থাকার সুযোগ দিতে পারেন।
তবে সিআইএ-র এক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, হামলার পর ইরানের নেতৃত্ব কোন দিকে যাবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। অনেক বিশ্লেষক সতর্ক করেছেন, কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে পড়লে ইরান সিরিয়া বা লিবিয়ার মতো গৃহযুদ্ধের দিকে ধাবিত হতে পারে।
ইরানের পরবর্তী শাসক হিসেবে রেজা পাহলভীর নাম আলোচনায় থাকলেও ট্রাম্প তাকে নিয়ে বিশেষ উৎসাহ দেখাননি। বরং তিনি ইরানে বর্তমানে জনপ্রিয় কাউকে নেতা হিসেবে দেখতে চান। কিন্তু যুদ্ধের ময়দানে তেমন কাউকে খুঁজে পাওয়া এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 























