ঢাকা ০৭:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলন উসকাতে কুর্দিদের অস্ত্র দিচ্ছে সিআইএ: মার্কিন গণমাধ্যম

ইরানের বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক জনবিক্ষোভ উসকে দিতে দেশটির কুর্দি বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র সরবরাহ করার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ)। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে এই চাঞ্চল্যকর খবর জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বর্তমানে ইরানের বিরোধী দল এবং ইরাকে অবস্থানরত কুর্দি নেতাদের সঙ্গে সামরিক সহায়তা নিয়ে সক্রিয় আলোচনা চালাচ্ছে। ইরাক-ইরান সীমান্ত এলাকায় হাজার হাজার সশস্ত্র কুর্দি যোদ্ধা অবস্থান করছেন। এরই মধ্যে এই গোষ্ঠীগুলো এক বিবৃতিতে ইরানি সেনাদের দলত্যাগের আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সম্প্রতি কুর্দি অবস্থানে বেশ কয়েকটি ড্রোন হামলা চালিয়ে পাল্টা জবাব দিয়েছে।

একই সময়ে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ডেমোক্র্যাটিক পার্টি অব ইরানিয়ান কুর্দিস্তানের (কেডিপিআই) প্রেসিডেন্ট মোস্তফা হিজরির সঙ্গে কথা বলেছেন। কুর্দি সূত্রগুলোর দাবি, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তারা পশ্চিম ইরানে একটি স্থল অভিযান শুরু করতে পারে। এই অভিযানে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমর্থন প্রত্যাশা করছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, কুর্দি সশস্ত্র বাহিনী ইরানি নিরাপত্তা বাহিনীকে ব্যস্ত রাখবে। এর ফলে প্রধান শহরগুলোতে নিরস্ত্র সাধারণ মানুষ বড় ধরনের হত্যাযজ্ঞের শিকার না হয়েই রাজপথে নামার সুযোগ পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। কিছু মার্কিন কর্মকর্তা মনে করছেন, কুর্দিরা উত্তর ইরানে একটি ‘বাফার জোন’ তৈরি করতে পারে, যা ইসরায়েলের জন্য সহায়ক হবে।

তবে এই পরিকল্পনার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জো বাইডেন প্রশাসনের সাবেক কর্মকর্তা জেন গ্যাভিটো। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, এটি ইরাকের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করতে পারে এবং জবাবদিহিহীন সশস্ত্র মিলিশিয়াদের শক্তিশালী করে তুলতে পারে।

অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে কুর্দিদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এই সহযোগিতার ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের কারণে কুর্দিরা নিজেদের ‘পরিত্যক্ত’ মনে করেছিল। তবে বর্তমানে সিআইএ ইরাকি কুর্দিস্তানে ইরান সীমান্তের কাছে একটি আস্তানা থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

উল্লেখ্য, কুর্দিরা একটি রাষ্ট্রহীন জাতিগোষ্ঠী, যাদের সংখ্যা প্রায় আড়াই থেকে তিন কোটি। তুরস্ক, ইরাক, ইরান, সিরিয়া ও আর্মেনিয়ায় এই জনগোষ্ঠীর বিস্তৃতি রয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান

ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলন উসকাতে কুর্দিদের অস্ত্র দিচ্ছে সিআইএ: মার্কিন গণমাধ্যম

আপডেট সময় : ০৫:৩৬:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

ইরানের বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক জনবিক্ষোভ উসকে দিতে দেশটির কুর্দি বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র সরবরাহ করার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ)। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে এই চাঞ্চল্যকর খবর জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বর্তমানে ইরানের বিরোধী দল এবং ইরাকে অবস্থানরত কুর্দি নেতাদের সঙ্গে সামরিক সহায়তা নিয়ে সক্রিয় আলোচনা চালাচ্ছে। ইরাক-ইরান সীমান্ত এলাকায় হাজার হাজার সশস্ত্র কুর্দি যোদ্ধা অবস্থান করছেন। এরই মধ্যে এই গোষ্ঠীগুলো এক বিবৃতিতে ইরানি সেনাদের দলত্যাগের আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সম্প্রতি কুর্দি অবস্থানে বেশ কয়েকটি ড্রোন হামলা চালিয়ে পাল্টা জবাব দিয়েছে।

একই সময়ে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ডেমোক্র্যাটিক পার্টি অব ইরানিয়ান কুর্দিস্তানের (কেডিপিআই) প্রেসিডেন্ট মোস্তফা হিজরির সঙ্গে কথা বলেছেন। কুর্দি সূত্রগুলোর দাবি, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তারা পশ্চিম ইরানে একটি স্থল অভিযান শুরু করতে পারে। এই অভিযানে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমর্থন প্রত্যাশা করছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, কুর্দি সশস্ত্র বাহিনী ইরানি নিরাপত্তা বাহিনীকে ব্যস্ত রাখবে। এর ফলে প্রধান শহরগুলোতে নিরস্ত্র সাধারণ মানুষ বড় ধরনের হত্যাযজ্ঞের শিকার না হয়েই রাজপথে নামার সুযোগ পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। কিছু মার্কিন কর্মকর্তা মনে করছেন, কুর্দিরা উত্তর ইরানে একটি ‘বাফার জোন’ তৈরি করতে পারে, যা ইসরায়েলের জন্য সহায়ক হবে।

তবে এই পরিকল্পনার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জো বাইডেন প্রশাসনের সাবেক কর্মকর্তা জেন গ্যাভিটো। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, এটি ইরাকের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করতে পারে এবং জবাবদিহিহীন সশস্ত্র মিলিশিয়াদের শক্তিশালী করে তুলতে পারে।

অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে কুর্দিদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এই সহযোগিতার ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের কারণে কুর্দিরা নিজেদের ‘পরিত্যক্ত’ মনে করেছিল। তবে বর্তমানে সিআইএ ইরাকি কুর্দিস্তানে ইরান সীমান্তের কাছে একটি আস্তানা থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

উল্লেখ্য, কুর্দিরা একটি রাষ্ট্রহীন জাতিগোষ্ঠী, যাদের সংখ্যা প্রায় আড়াই থেকে তিন কোটি। তুরস্ক, ইরাক, ইরান, সিরিয়া ও আর্মেনিয়ায় এই জনগোষ্ঠীর বিস্তৃতি রয়েছে।