ঢাকা ০৫:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে উদ্বেগের কারণ নেই, প্রয়োজনে সংশোধনের সুযোগ: বাণিজ্যমন্ত্রী

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাক্ষরিত বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে কোনো রকম উদ্বেগের কারণ নেই বলে আশ্বস্ত করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, এই চুক্তি বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যেই সম্পাদিত হয়েছে। বুধবার (৪ মার্চ) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘এই চুক্তি অপরিবর্তনীয় নয়। প্রয়োজনে এতে সংশোধন, সংযোজন বা বিয়োজনের পূর্ণ সুযোগ রয়েছে।’’ তিনি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে চুক্তির কোনো নির্দিষ্ট ধারা নিয়ে আপত্তি বা প্রশ্ন থাকলে তা মন্ত্রণালয়ে উত্থাপনের আহ্বান জানান। তিনি আরও যোগ করেন, চুক্তিতে এমন অনেক উপাদান রয়েছে যা ভবিষ্যতে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।

বর্তমান সরকার এই চুক্তিকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছে উল্লেখ করে আব্দুল মুক্তাদির বলেন, যদিও বিগত অন্তবর্তীকালীন সরকার তাদের মেয়াদের শেষ সময়ে তড়িঘড়ি করে এটি স্বাক্ষর করেছিল। তিনি স্পষ্ট করেন যে, দুই দেশের অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যেই এই চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে এবং এটিকে ‘হোলসেল নেগেটিভ’ বা ‘হোলসেল পজিটিভ’ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যের পরিমাণ সাড়ে ৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি। এর মধ্যে প্রায় পৌনে তিন বিলিয়ন ডলারের পণ্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা হয়। একক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার।

চুক্তির সাধারণ বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, যেকোনো চুক্তিতেই সাধারণত দুটি পক্ষ থাকে। কিছু ধারা এক পক্ষের জন্য এবং কিছু ধারা অন্য পক্ষের জন্য অনুকূল হয়। উভয় পক্ষই আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে এমন একটি অবস্থানে পৌঁছানোর চেষ্টা করে যেখানে উভয়েরই লাভ হয়। এই চুক্তিতেও এমন অনেক ধারা রয়েছে, যার ওপর ভিত্তি করে আগামী দিনে বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও জোরদার করা সম্ভব।

অন্য এক প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, মার্কিন উচ্চতর আদালতে জরুরি ক্ষমতা প্রয়োগ করে ট্যারিফ ধার্য করার একটি ধারাকে সমর্থন না করার পর যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা তিনি পর্যবেক্ষণ করছেন। তবে এই মন্তব্যটি বর্তমান বাণিজ্যচুক্তির কোনো নির্দিষ্ট ধারা নিয়ে ছিল না বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানে শাসন পরিবর্তনে ইসরায়েলের আগ্রাসন: নিরাপত্তা বাহিনী লক্ষ্যবস্তু

মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে উদ্বেগের কারণ নেই, প্রয়োজনে সংশোধনের সুযোগ: বাণিজ্যমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৩:৫৩:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাক্ষরিত বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে কোনো রকম উদ্বেগের কারণ নেই বলে আশ্বস্ত করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, এই চুক্তি বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যেই সম্পাদিত হয়েছে। বুধবার (৪ মার্চ) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘এই চুক্তি অপরিবর্তনীয় নয়। প্রয়োজনে এতে সংশোধন, সংযোজন বা বিয়োজনের পূর্ণ সুযোগ রয়েছে।’’ তিনি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে চুক্তির কোনো নির্দিষ্ট ধারা নিয়ে আপত্তি বা প্রশ্ন থাকলে তা মন্ত্রণালয়ে উত্থাপনের আহ্বান জানান। তিনি আরও যোগ করেন, চুক্তিতে এমন অনেক উপাদান রয়েছে যা ভবিষ্যতে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।

বর্তমান সরকার এই চুক্তিকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছে উল্লেখ করে আব্দুল মুক্তাদির বলেন, যদিও বিগত অন্তবর্তীকালীন সরকার তাদের মেয়াদের শেষ সময়ে তড়িঘড়ি করে এটি স্বাক্ষর করেছিল। তিনি স্পষ্ট করেন যে, দুই দেশের অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যেই এই চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে এবং এটিকে ‘হোলসেল নেগেটিভ’ বা ‘হোলসেল পজিটিভ’ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যের পরিমাণ সাড়ে ৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি। এর মধ্যে প্রায় পৌনে তিন বিলিয়ন ডলারের পণ্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা হয়। একক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার।

চুক্তির সাধারণ বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, যেকোনো চুক্তিতেই সাধারণত দুটি পক্ষ থাকে। কিছু ধারা এক পক্ষের জন্য এবং কিছু ধারা অন্য পক্ষের জন্য অনুকূল হয়। উভয় পক্ষই আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে এমন একটি অবস্থানে পৌঁছানোর চেষ্টা করে যেখানে উভয়েরই লাভ হয়। এই চুক্তিতেও এমন অনেক ধারা রয়েছে, যার ওপর ভিত্তি করে আগামী দিনে বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও জোরদার করা সম্ভব।

অন্য এক প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, মার্কিন উচ্চতর আদালতে জরুরি ক্ষমতা প্রয়োগ করে ট্যারিফ ধার্য করার একটি ধারাকে সমর্থন না করার পর যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা তিনি পর্যবেক্ষণ করছেন। তবে এই মন্তব্যটি বর্তমান বাণিজ্যচুক্তির কোনো নির্দিষ্ট ধারা নিয়ে ছিল না বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।