ঢাকা ০৩:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

ঢাকা পলিটেকনিকে ছাত্রদলের হামলায় ১৬ জন আহত: ছাত্রশিবিরের তীব্র প্রতিবাদ

ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের হামলায় অন্তত ১৬ জন শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এই প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে শিবির নেতারা অভিযোগ করেন, ‘নির্বাচনের পর তোরা এখনো হলে থাকিস’—এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও উসকানিমূলক মন্তব্য করে ছাত্রদল বহিরাগত সন্ত্রাসীদের সহযোগিতায় রাতের অন্ধকারে ছাত্রাবাসে ন্যক্কারজনক হামলা চালায়। দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও রামদা নিয়ে চালানো এই হামলায় একজন হিন্দু ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীসহ অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানানো হয়েছে। ছাত্রশিবির মনে করে, মূলত ক্যাম্পাসগুলোতে পুনরায় দখলদারিত্ব ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতেই ছাত্রদল এ ধরনের রক্তক্ষয়ী পথ বেছে নিয়েছে।

ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীরা যখন একটি সুস্থ ও মেধাভিত্তিক রাজনীতির প্রত্যাশা করছে, তখন ছাত্রদল তাদের পুরোনো নেতিবাচক ও দখলদারির চরিত্রে ফিরে এসেছে। নির্বাচনের পর থেকে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। দেশজুড়ে বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, ধর্ষণ, বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর, হাটবাজার দখল, চাঁদাবাজি, মব-সন্ত্রাসসহ বিভিন্ন অপরাধে তারা জড়িয়ে পড়ছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

শিবির নেতারা দাবি করেন, একদিকে সারা দেশে চাঁদাবাজি, খুন, ধর্ষণ ও অব্যাহত জননিপীড়নে সাধারণ মানুষের জীবন অতিষ্ঠ ও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে; অন্যদিকে শিক্ষাঙ্গনগুলোতে পুনরায় ছাত্রলীগীয় কায়দায় বহিরাগত সন্ত্রাসীদের নিয়ে এসে সশস্ত্র হামলা ও হল দখলের নোংরা মহড়া চালানো হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে প্রশাসনের ভূমিকা বরাবরই নিস্পৃহ ও আজ্ঞাবহ দাসের মতো বলে অভিযোগ করা হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রবাসীদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা: রেমিট্যান্স পাঠালেই দেড় ভরি স্বর্ণের হার জেতার সুযোগ

ঢাকা পলিটেকনিকে ছাত্রদলের হামলায় ১৬ জন আহত: ছাত্রশিবিরের তীব্র প্রতিবাদ

আপডেট সময় : ০২:১৯:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের হামলায় অন্তত ১৬ জন শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এই প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে শিবির নেতারা অভিযোগ করেন, ‘নির্বাচনের পর তোরা এখনো হলে থাকিস’—এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও উসকানিমূলক মন্তব্য করে ছাত্রদল বহিরাগত সন্ত্রাসীদের সহযোগিতায় রাতের অন্ধকারে ছাত্রাবাসে ন্যক্কারজনক হামলা চালায়। দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও রামদা নিয়ে চালানো এই হামলায় একজন হিন্দু ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীসহ অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানানো হয়েছে। ছাত্রশিবির মনে করে, মূলত ক্যাম্পাসগুলোতে পুনরায় দখলদারিত্ব ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতেই ছাত্রদল এ ধরনের রক্তক্ষয়ী পথ বেছে নিয়েছে।

ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীরা যখন একটি সুস্থ ও মেধাভিত্তিক রাজনীতির প্রত্যাশা করছে, তখন ছাত্রদল তাদের পুরোনো নেতিবাচক ও দখলদারির চরিত্রে ফিরে এসেছে। নির্বাচনের পর থেকে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। দেশজুড়ে বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, ধর্ষণ, বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর, হাটবাজার দখল, চাঁদাবাজি, মব-সন্ত্রাসসহ বিভিন্ন অপরাধে তারা জড়িয়ে পড়ছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

শিবির নেতারা দাবি করেন, একদিকে সারা দেশে চাঁদাবাজি, খুন, ধর্ষণ ও অব্যাহত জননিপীড়নে সাধারণ মানুষের জীবন অতিষ্ঠ ও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে; অন্যদিকে শিক্ষাঙ্গনগুলোতে পুনরায় ছাত্রলীগীয় কায়দায় বহিরাগত সন্ত্রাসীদের নিয়ে এসে সশস্ত্র হামলা ও হল দখলের নোংরা মহড়া চালানো হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে প্রশাসনের ভূমিকা বরাবরই নিস্পৃহ ও আজ্ঞাবহ দাসের মতো বলে অভিযোগ করা হয়।