ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে গুনিয়াউক ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বেঙ্গাউতা পর্যন্ত সড়ক। ১ হাজার ৫০০ মিটার দৈর্ঘ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ পেয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘ই স্মার্ট কনস্ট্রাকশন লিঃ’। তবে, সড়কটির নির্মাণকাজে নিম্নমানের ইট ও বালু ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, যা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের নজরেও এসেছে। এই অনিয়মের ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
প্রকল্পের আওতায় বর্তমানে বৃষ্টির পানি ও ভাঙন রোধে গাইড ওয়ালের কাজ চলছে। অভিযোগ উঠেছে, এই কাজে ব্যবহৃত ইট ও বালুর মান অত্যন্ত নিম্নমানের। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি অনিয়ম ঢাকতেই ধীরগতিতে চলা নির্মাণ কাজ হঠাৎ করে তড়িঘড়ি করে শেষ করার চেষ্টা করছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, শ্রমিকরা দ্রুত গতিতে নিম্নমানের ইট ও ভিটি বালু ব্যবহার করে গাইড ওয়ালের গাঁথুনি দিচ্ছে।
এ বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “মালিক যা পাঠিয়েছে, তা দিয়েই আমাদের কাজ করতে হচ্ছে। আমাদের কিছু করার নেই।” স্থানীয় বাসিন্দা খায়ের মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই সড়কের কাজ শুরু থেকেই ধীরগতিতে চলছিল। এখন আবার খারাপ ইট ও ভিটি বালু দিয়ে তড়িঘড়ি করছে। এই ইট বেশি দিন টিকবে না, কয়েক মাসের মধ্যেই ভেঙে পড়বে।”
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের তদারকি দায়িত্বে থাকা আরিফ হোসেন অবশ্য আশ্বাস দিয়ে বলেন, “পরবর্তীতে এমন কাজ আর হবে না, যদি হয় আমি দায়ী থাকব।” তবে, ঠিকাদার খাইরুল হাসানের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে নাসিরনগর উপজেলা প্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম মৃধা জানান, “এই রাস্তাটিতে নিম্নমানের ইট ও বালি ব্যবহারের বিষয়টি জানার পর বারবার বাধা দেওয়া সত্ত্বেও তারা এগুলো ব্যবহার করছে।” তিনি আরও বলেন, “ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী ইব্রাহীম খলিলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তিনি উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।” এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
রিপোর্টারের নাম 





















