ঢাকা ১১:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

নরসিংদীতে ওবায়দুল্লাহ হত্যা: ঢাকায় খণ্ডিত লাশ উদ্ধার, গ্রামের বাড়িতে শোকের ছায়া

রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উদ্ধার হওয়া খণ্ডিত লাশের অংশ পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর নরসিংদীর শিবপুরে ওবায়দুল্লাহর গ্রামের বাড়িতে নেমে এসেছে গভীর শোক। ঢাকার তিন স্থান থেকে উদ্ধার হওয়া লাশের অংশগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে নিহত ব্যক্তি নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার সাধারচর ইউনিয়নের তাতারকান্দি গ্রামের বাসিন্দা ওবায়দুল্লাহ (৩০)। আব্দুল হামিদ মিয়ার ছেলে ওবায়দুল্লাহ, যিনি বাদল নামেও পরিচিত ছিলেন, পরিবারের বড় সন্তান। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ওবায়দুল্লাহ গ্রামের বাড়ি তাতারকান্দি থেকে এইচএসসি এবং হাফিজিয়া পড়াশোনা সম্পন্ন করেন। সংসারের অভাব দূর করতে তিনি বিদেশ যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন এবং এর জন্য টাকাও জমাচ্ছিলেন। সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর, প্রায় দুই বছর আগে তিনি ঢাকায় এসে তিনশ ফিট এলাকার একটি হোটেলে চাকরি নেন। সেখানে তিনি কয়েকজন বন্ধুর সাথে একটি মেসে থাকতেন। পরবর্তীতে, তিনি পেশা পরিবর্তন করে একজন চিকিৎসকের মার্কেটিং কর্মকর্তা হিসেবে কাজ শুরু করেন। পেশা বদলালেও তিনি মতিঝিলের একই মেসে বসবাস করছিলেন।

গত শুক্রবার ও শনিবার নয়াপল্টন, গুলিস্তান এবং কমলাপুর এলাকা থেকে পুলিশ দুটি হাত, দুটি পা এবং একটি মাথা উদ্ধার করে। আঙুলের ছাপ পরীক্ষার মাধ্যমে এই খণ্ডিত অংশগুলো ওবায়দুল্লাহর বলে শনাক্ত করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ ওবায়দুল্লাহর এক রুমমেট শাহিনকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে শাহিন হত্যার দায় স্বীকার করেছে এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লাশের অন্যান্য অংশ উদ্ধার করা হয়েছে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, ওবায়দুল্লাহ গত ১১ ফেব্রুয়ারি সর্বশেষ গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন। পরদিন ভোট দিয়ে তিনি ঢাকায় ফিরে যান। ঢাকা ছাড়ার আগে তিনি জানিয়েছিলেন যে তার দাদার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ১৭ রমজানে একটি দোয়া মাহফিলের আয়োজন করবেন। তার ছোট বোন মিলি আক্তার জানান, মৃত্যুর দিন রাত ১০টার দিকে তিনি ভাইয়ের সাথে শেষবারের মতো কথা বলেছিলেন।

পরিবারের সদস্যদের ধারণা, একই মেসে বসবাসকারী অন্য কেউ রাতের খাবারে নেশাজাতীয় কিছু মিশিয়ে ওবায়দুল্লাহকে অচেতন করে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর, লাশটিকে খণ্ডিত করে আলাদা আলাদাভাবে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়।

ওবায়দুল্লাহর এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে তার মা রানী বেগম এবং বোন মিলি আক্তার শোকে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। প্রতিবেশীরা ও আত্মীয়স্বজনরা সমবেদনা জানাতে তাদের বাড়িতে ভিড় করছেন। পরিবার, স্বজন এবং বন্ধু মহল এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান-ইসরাইল সংঘাত: ইসরাইলের দাবি, আকাশপথে ২০০০টির বেশি বোমা বর্ষণ

নরসিংদীতে ওবায়দুল্লাহ হত্যা: ঢাকায় খণ্ডিত লাশ উদ্ধার, গ্রামের বাড়িতে শোকের ছায়া

আপডেট সময় : ০৯:৫১:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উদ্ধার হওয়া খণ্ডিত লাশের অংশ পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর নরসিংদীর শিবপুরে ওবায়দুল্লাহর গ্রামের বাড়িতে নেমে এসেছে গভীর শোক। ঢাকার তিন স্থান থেকে উদ্ধার হওয়া লাশের অংশগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে নিহত ব্যক্তি নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার সাধারচর ইউনিয়নের তাতারকান্দি গ্রামের বাসিন্দা ওবায়দুল্লাহ (৩০)। আব্দুল হামিদ মিয়ার ছেলে ওবায়দুল্লাহ, যিনি বাদল নামেও পরিচিত ছিলেন, পরিবারের বড় সন্তান। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ওবায়দুল্লাহ গ্রামের বাড়ি তাতারকান্দি থেকে এইচএসসি এবং হাফিজিয়া পড়াশোনা সম্পন্ন করেন। সংসারের অভাব দূর করতে তিনি বিদেশ যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন এবং এর জন্য টাকাও জমাচ্ছিলেন। সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর, প্রায় দুই বছর আগে তিনি ঢাকায় এসে তিনশ ফিট এলাকার একটি হোটেলে চাকরি নেন। সেখানে তিনি কয়েকজন বন্ধুর সাথে একটি মেসে থাকতেন। পরবর্তীতে, তিনি পেশা পরিবর্তন করে একজন চিকিৎসকের মার্কেটিং কর্মকর্তা হিসেবে কাজ শুরু করেন। পেশা বদলালেও তিনি মতিঝিলের একই মেসে বসবাস করছিলেন।

গত শুক্রবার ও শনিবার নয়াপল্টন, গুলিস্তান এবং কমলাপুর এলাকা থেকে পুলিশ দুটি হাত, দুটি পা এবং একটি মাথা উদ্ধার করে। আঙুলের ছাপ পরীক্ষার মাধ্যমে এই খণ্ডিত অংশগুলো ওবায়দুল্লাহর বলে শনাক্ত করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ ওবায়দুল্লাহর এক রুমমেট শাহিনকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে শাহিন হত্যার দায় স্বীকার করেছে এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লাশের অন্যান্য অংশ উদ্ধার করা হয়েছে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, ওবায়দুল্লাহ গত ১১ ফেব্রুয়ারি সর্বশেষ গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন। পরদিন ভোট দিয়ে তিনি ঢাকায় ফিরে যান। ঢাকা ছাড়ার আগে তিনি জানিয়েছিলেন যে তার দাদার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ১৭ রমজানে একটি দোয়া মাহফিলের আয়োজন করবেন। তার ছোট বোন মিলি আক্তার জানান, মৃত্যুর দিন রাত ১০টার দিকে তিনি ভাইয়ের সাথে শেষবারের মতো কথা বলেছিলেন।

পরিবারের সদস্যদের ধারণা, একই মেসে বসবাসকারী অন্য কেউ রাতের খাবারে নেশাজাতীয় কিছু মিশিয়ে ওবায়দুল্লাহকে অচেতন করে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর, লাশটিকে খণ্ডিত করে আলাদা আলাদাভাবে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়।

ওবায়দুল্লাহর এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে তার মা রানী বেগম এবং বোন মিলি আক্তার শোকে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। প্রতিবেশীরা ও আত্মীয়স্বজনরা সমবেদনা জানাতে তাদের বাড়িতে ভিড় করছেন। পরিবার, স্বজন এবং বন্ধু মহল এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।