ঢাকা ০৯:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা: জর্ডানে ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত, রিয়াদ-বাহরাইনসহ বহু শহরে বিস্ফোরণ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৮:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের উত্তাপ যেন আরও বাড়লো। জর্ডান নিজেদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার ঘোষণা দিয়েছে। একই সময়ে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদসহ বাহরাইন, কুয়েত ও আবুধাবিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। এসব ঘটনা ইরান কর্তৃক ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার প্রতিশোধ হিসেবে চালানো পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে।

জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, দেশের আকাশসীমায় দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রবেশ করলে তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেগুলোকে সফলভাবে ভূপাতিত করে। হামলার আগেই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে বলে সেনাবাহিনী নিশ্চিত করেছে। তবে কে বা কারা এই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয়।

এদিকে, আলজাজিরার খবরে বলা হয়েছে, এই ঘটনার পরপরই সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, রিয়াদের বিভিন্ন এলাকায় এই বিস্ফোরণের শব্দ ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে বিস্ফোরণের কারণ, এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কিনা, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানা যায়নি এবং সৌদি কর্তৃপক্ষও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি।

অন্যদিকে, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ইসরায়েলে পাল্টা হামলার পর বাহরাইন, কুয়েত ও আবুধাবিতেও (সংযুক্ত আরব আমিরাত) ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এসব প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার জবাব দিতে ইরান পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করেছে এবং এসব বিস্ফোরণ তারই অংশ। বাহরাইন নিশ্চিত করেছে যে, দেশটিতে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর ৫ম নৌবহরের সদর দফতরও এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিল।

এর আগে রয়টার্স সংবাদ সংস্থার সূত্রে জানা যায়, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির কার্যালয় লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল। সেই হামলার পর খামেনি ইতোমধ্যেই তেহরান ত্যাগ করে একটি নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরিত হয়েছেন। তার বর্তমান অবস্থান সরকারিভাবে গোপন রাখা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ওই সময় বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছিলেন এবং আশেপাশের এলাকা থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলি দেখা গিয়েছিল। এই হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় অংশগ্রহণও নিশ্চিত করা হয়েছিল। সামগ্রিকভাবে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গোবিন্দগঞ্জে নিজ বাড়িতে স্কুলশিক্ষিকাকে হাত-পা বেঁধে শ্বাসরোধে হত্যা

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা: জর্ডানে ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত, রিয়াদ-বাহরাইনসহ বহু শহরে বিস্ফোরণ

আপডেট সময় : ০৭:৩৮:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের উত্তাপ যেন আরও বাড়লো। জর্ডান নিজেদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার ঘোষণা দিয়েছে। একই সময়ে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদসহ বাহরাইন, কুয়েত ও আবুধাবিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। এসব ঘটনা ইরান কর্তৃক ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার প্রতিশোধ হিসেবে চালানো পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে।

জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, দেশের আকাশসীমায় দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রবেশ করলে তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেগুলোকে সফলভাবে ভূপাতিত করে। হামলার আগেই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে বলে সেনাবাহিনী নিশ্চিত করেছে। তবে কে বা কারা এই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয়।

এদিকে, আলজাজিরার খবরে বলা হয়েছে, এই ঘটনার পরপরই সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, রিয়াদের বিভিন্ন এলাকায় এই বিস্ফোরণের শব্দ ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে বিস্ফোরণের কারণ, এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কিনা, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানা যায়নি এবং সৌদি কর্তৃপক্ষও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি।

অন্যদিকে, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ইসরায়েলে পাল্টা হামলার পর বাহরাইন, কুয়েত ও আবুধাবিতেও (সংযুক্ত আরব আমিরাত) ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এসব প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার জবাব দিতে ইরান পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করেছে এবং এসব বিস্ফোরণ তারই অংশ। বাহরাইন নিশ্চিত করেছে যে, দেশটিতে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর ৫ম নৌবহরের সদর দফতরও এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিল।

এর আগে রয়টার্স সংবাদ সংস্থার সূত্রে জানা যায়, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির কার্যালয় লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল। সেই হামলার পর খামেনি ইতোমধ্যেই তেহরান ত্যাগ করে একটি নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরিত হয়েছেন। তার বর্তমান অবস্থান সরকারিভাবে গোপন রাখা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ওই সময় বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছিলেন এবং আশেপাশের এলাকা থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলি দেখা গিয়েছিল। এই হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় অংশগ্রহণও নিশ্চিত করা হয়েছিল। সামগ্রিকভাবে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।