ঢাকা ০৫:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নামে আন্তঃনগর, মানে লোকাল: উত্তরের রেলপথে অন্তহীন ভোগান্তি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৩৬:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

উত্তরাঞ্চলের সাধারণ মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম রেলপথ এখন চরম অব্যবস্থাপনা ও অবহেলার শিকারে পরিণত হয়েছে। শিডিউল বিপর্যয়, জরাজীর্ণ কোচ, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং একের পর এক স্টেশন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ অঞ্চলের ট্রেন যাত্রীদের ভোগান্তি এখন চরমে। বিশেষ করে সড়কপথের সীমাবদ্ধতার কারণে যেসব এলাকার মানুষের একমাত্র ভরসা ট্রেন, তাদের দুর্ভোগ যেন দেখার কেউ নেই।

সরেজমিনে দেখা যায়, গাইবান্ধার মহিমাগঞ্জ থেকে বগুড়ার সান্তাহারগামী ‘করতোয়া আন্তঃনগর এক্সপ্রেস’ ট্রেনের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। যাত্রীদের অভিযোগ, ট্রেনের কামরাগুলো ধুলোবালি ও ময়লায় এতটাই সয়লাব যে বসার উপায় নেই। ট্রেনের ভেতরের পরিবেশকে পশুপাখির আস্তাবলের সঙ্গে তুলনা করছেন অতিষ্ঠ যাত্রীরা। এছাড়া নির্ধারিত সময়ের চেয়ে কয়েক ঘণ্টা দেরিতে স্টেশনে পৌঁছানো এই ট্রেনের নিয়মিত চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একই চিত্র দেখা গেছে সান্তাহার-পঞ্চগড় রুটে চলাচলকারী ‘দোলনচাঁপা এক্সপ্রেস’ ট্রেনের ক্ষেত্রেও। রংপুর, দিনাজপুর ও গাইবান্ধার শত শত ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রী এই ট্রেনে যাতায়াত করলেও এর মান নিয়ে প্রশ্নের শেষ নেই। আন্তঃনগর ট্রেনের তকমা থাকলেও এর পরিষেবা লোকাল ট্রেনের চেয়েও অধম। ভাঙা দরজা-জানালা, টয়লেটে পানির অভাব এবং উৎকট দুর্গন্ধে নাভিশ্বাস উঠছে যাত্রীদের। এর ওপর ইঞ্জিন বিকল হওয়া এবং ট্রেনের ভেতর হকারদের দৌরাত্ম্য ভোগান্তিকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

রেলপথের এই বিশৃঙ্খলার পেছনে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে স্টেশনগুলোর ‘ক্লোজডাউন’ বা কার্যক্রম বন্ধ থাকাকে। সান্তাহার-বোনারপাড়া-লালমনিরহাট রুটের অন্তত ১৫টি স্টেশন দীর্ঘ দিন ধরে বন্ধ। ফলে ট্রেন ক্রসিংয়ের কোনো ব্যবস্থা নেই। এর ফলে ঢাকা অভিমুখী লালমনি, বুড়িমারী বা রংপুর এক্সপ্রেসের মতো গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনগুলোকেও ছোট স্টেশনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, যা সামগ্রিক শিডিউলকে তছনছ করে দিচ্ছে।

লোকাল ট্রেনগুলোর অবস্থা আরও ভয়াবহ। বোনারপাড়া-সান্তাহার রুটের ‘কলেজ ট্রেন’ হিসেবে পরিচিত ট্রেনটিতে সন্ধ্যার পর কোনো আলোর ব্যবস্থা থাকে না। ধারণক্ষমতার কয়েক গুণ যাত্রী নিয়ে চলাচল করলেও কামরা বাড়ানোর কোনো উদ্যোগ নেই। টিকিটবিহীন যাত্রী ও পকেটমারদের দৌরাত্ম্যে সাধারণ যাত্রীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। টিকিট পরীক্ষকদের অনুপস্থিতি এই বিশৃঙ্খলাকে আরও উসকে দিচ্ছে।

রেলওয়ের স্থানীয় কর্মকর্তারা এই সমস্যার কথা স্বীকার করলেও সমাধানের দায়ভার চাপাচ্ছেন উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তের ওপর। বোনারপাড়া রেলওয়ে জংশনের স্টেশন মাস্টার প্রদীপ চন্দ্র জানান, অনেক কিছুই তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তবে লালমনিরহাট বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক তছলিম আহম্মেদ খান আশার বাণী শুনিয়েছেন। তিনি জানান, নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং দ্রুতই এসব জনদুর্ভোগ লাঘবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি, অবিলম্বে বন্ধ স্টেশনগুলো চালু করা এবং ট্রেনের কোচ ও ইঞ্জিনের মান উন্নয়ন করে রেল পরিষেবায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হোক।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা ‘বেপরোয়া’, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ: ব্রিটিশ এমপি

নামে আন্তঃনগর, মানে লোকাল: উত্তরের রেলপথে অন্তহীন ভোগান্তি

আপডেট সময় : ০৩:৩৬:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

উত্তরাঞ্চলের সাধারণ মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম রেলপথ এখন চরম অব্যবস্থাপনা ও অবহেলার শিকারে পরিণত হয়েছে। শিডিউল বিপর্যয়, জরাজীর্ণ কোচ, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং একের পর এক স্টেশন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ অঞ্চলের ট্রেন যাত্রীদের ভোগান্তি এখন চরমে। বিশেষ করে সড়কপথের সীমাবদ্ধতার কারণে যেসব এলাকার মানুষের একমাত্র ভরসা ট্রেন, তাদের দুর্ভোগ যেন দেখার কেউ নেই।

সরেজমিনে দেখা যায়, গাইবান্ধার মহিমাগঞ্জ থেকে বগুড়ার সান্তাহারগামী ‘করতোয়া আন্তঃনগর এক্সপ্রেস’ ট্রেনের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। যাত্রীদের অভিযোগ, ট্রেনের কামরাগুলো ধুলোবালি ও ময়লায় এতটাই সয়লাব যে বসার উপায় নেই। ট্রেনের ভেতরের পরিবেশকে পশুপাখির আস্তাবলের সঙ্গে তুলনা করছেন অতিষ্ঠ যাত্রীরা। এছাড়া নির্ধারিত সময়ের চেয়ে কয়েক ঘণ্টা দেরিতে স্টেশনে পৌঁছানো এই ট্রেনের নিয়মিত চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একই চিত্র দেখা গেছে সান্তাহার-পঞ্চগড় রুটে চলাচলকারী ‘দোলনচাঁপা এক্সপ্রেস’ ট্রেনের ক্ষেত্রেও। রংপুর, দিনাজপুর ও গাইবান্ধার শত শত ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রী এই ট্রেনে যাতায়াত করলেও এর মান নিয়ে প্রশ্নের শেষ নেই। আন্তঃনগর ট্রেনের তকমা থাকলেও এর পরিষেবা লোকাল ট্রেনের চেয়েও অধম। ভাঙা দরজা-জানালা, টয়লেটে পানির অভাব এবং উৎকট দুর্গন্ধে নাভিশ্বাস উঠছে যাত্রীদের। এর ওপর ইঞ্জিন বিকল হওয়া এবং ট্রেনের ভেতর হকারদের দৌরাত্ম্য ভোগান্তিকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

রেলপথের এই বিশৃঙ্খলার পেছনে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে স্টেশনগুলোর ‘ক্লোজডাউন’ বা কার্যক্রম বন্ধ থাকাকে। সান্তাহার-বোনারপাড়া-লালমনিরহাট রুটের অন্তত ১৫টি স্টেশন দীর্ঘ দিন ধরে বন্ধ। ফলে ট্রেন ক্রসিংয়ের কোনো ব্যবস্থা নেই। এর ফলে ঢাকা অভিমুখী লালমনি, বুড়িমারী বা রংপুর এক্সপ্রেসের মতো গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনগুলোকেও ছোট স্টেশনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, যা সামগ্রিক শিডিউলকে তছনছ করে দিচ্ছে।

লোকাল ট্রেনগুলোর অবস্থা আরও ভয়াবহ। বোনারপাড়া-সান্তাহার রুটের ‘কলেজ ট্রেন’ হিসেবে পরিচিত ট্রেনটিতে সন্ধ্যার পর কোনো আলোর ব্যবস্থা থাকে না। ধারণক্ষমতার কয়েক গুণ যাত্রী নিয়ে চলাচল করলেও কামরা বাড়ানোর কোনো উদ্যোগ নেই। টিকিটবিহীন যাত্রী ও পকেটমারদের দৌরাত্ম্যে সাধারণ যাত্রীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। টিকিট পরীক্ষকদের অনুপস্থিতি এই বিশৃঙ্খলাকে আরও উসকে দিচ্ছে।

রেলওয়ের স্থানীয় কর্মকর্তারা এই সমস্যার কথা স্বীকার করলেও সমাধানের দায়ভার চাপাচ্ছেন উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তের ওপর। বোনারপাড়া রেলওয়ে জংশনের স্টেশন মাস্টার প্রদীপ চন্দ্র জানান, অনেক কিছুই তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তবে লালমনিরহাট বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক তছলিম আহম্মেদ খান আশার বাণী শুনিয়েছেন। তিনি জানান, নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং দ্রুতই এসব জনদুর্ভোগ লাঘবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি, অবিলম্বে বন্ধ স্টেশনগুলো চালু করা এবং ট্রেনের কোচ ও ইঞ্জিনের মান উন্নয়ন করে রেল পরিষেবায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হোক।