দেশের শিল্প ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা একুশে পদক লাভ করেছেন পাঁচ গুণী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। গত বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্ব স্ব ক্ষেত্রে অবদান রাখা গুণীদের হাতে এই সম্মাননা তুলে দেন। চলচ্চিত্র অঙ্গনে কিংবদন্তী অভিনেত্রী ফরিদা আখতার ববিতা, সংগীতে ব্যান্ডদল ওয়ারফেজ ও মরণোত্তর আইয়ুব বাচ্চু, নৃত্যকলায় অর্থী আহমেদ এবং পালা গানে ইসলাম উদ্দিন পালাকার এ বছর একুশে পদকে ভূষিত হয়েছেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই চলচ্চিত্র অঙ্গনে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ একুশে পদক গ্রহণ করেন কিংবদন্তী অভিনেত্রী ফরিদা আখতার ববিতা। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি তার নাম ঘোষণা করেন। বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে তিনি তিন শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। এর মধ্যে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ‘অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী’, ‘আলোর মিছিল’, ‘আবার তোরা মানুষ হ’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সত্যজিৎ রায়ের কালজয়ী আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র ‘অশনি সংকেত’-এর প্রধান অভিনেত্রী হিসেবেও তিনি বিশ্বজুড়ে পরিচিতি লাভ করেন। ববিতা তার দীর্ঘ অভিনয় জীবনে ৭০টিরও বেশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন এবং চারবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর সম্মাননা পেয়েছেন। সাদা শাড়িতে মঞ্চে উঠে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে পদক গ্রহণ করে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন ববিতা। পদকের জন্য মনোনীত হওয়ার পর নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তিনি বলেছিলেন, “আমি ভীষণ আনন্দিত। আমার অসংখ্য শুভানুধ্যায়ী এবং সিনেমার দর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞ, যাদের ভালোবাসা ছাড়া আমি ববিতা হয়ে উঠতে পারতাম না। যারা আমাকে একুশে পদকের জন্য মনোনীত করেছেন, তাদের কাছেও কৃতজ্ঞতা জানাই।”
মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত হয়েছেন দেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড এলআরবি’র প্রতিষ্ঠাতা ও কিংবদন্তী রকস্টার আইয়ুব বাচ্চু। তার পক্ষে সম্মাননা গ্রহণ করেন স্ত্রী ফেরদৌস আক্তার চন্দনা। এই রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রাপ্তির পর এলআরবি তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বার্তায় জানায়, এটি শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং আইয়ুব বাচ্চুর আজীবন সংগীতসাধনার প্রতি জাতির গভীর শ্রদ্ধা। বাংলা রকের পথচলায় তিনি যে সাহস, সততা ও নতুনত্বের পরিচয় দিয়েছেন, তা দেশের সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে এবং বিশ্বমঞ্চে একটি স্বতন্ত্র পরিচয় এনে দিয়েছে। এই সম্মাননার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে ব্যান্ডটি।
ব্যান্ড সংগীতে প্রথম কোনো দল হিসেবে একুশে পদক অর্জন করে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে জনপ্রিয় ব্যান্ড ওয়ারফেজ। দলটির প্রধান শেখ মনিরুল আলম এই সম্মাননা গ্রহণ করেন। পদক গ্রহণের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে শেখ মনিরুল আলম লেখেন, “আজ ওয়ারফেজের জন্য এক গর্বিত ও ঐতিহাসিক মুহূর্ত। সংগীতে আমাদের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে একুশে পদক অর্জন করতে পেরে আমরা গভীরভাবে সম্মানিত ও কৃতজ্ঞ।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই সম্মান শুধু ব্যান্ডের নয়, বরং তাদের দীর্ঘ যাত্রায় পাশে থাকা প্রতিটি শ্রোতা, সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীরও। এই মহামূল্যবান সম্মানের জন্য বাংলাদেশ সরকার এবং ভক্তদের প্রতি অফুরন্ত ভালোবাসা ও ধন্যবাদ জানান তিনি।
নৃত্যকলায় অসামান্য অবদানের জন্য তরুণ নৃত্যশিল্পী অর্থী আহমেদ এবং পালা গানে বিশেষ অবদানের জন্য ইসলাম উদ্দিন পালাকারও এ বছর একুশে পদকে ভূষিত হয়েছেন।
একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রতিটি গুণীজনকে ৩৫ গ্রাম ওজনের একটি স্বর্ণপদক, চার লাখ টাকা এবং একটি সম্মাননাপত্র প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী আবু নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, সংস্কৃতি সচিব মফিদুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর মেয়ে জাইমা রহমানসহ মন্ত্রিসভার সদস্য ও দেশের বিশিষ্ট নাগরিকগণ উপস্থিত ছিলেন। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি।
রিপোর্টারের নাম 
























