ঢাকা ০৪:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি: নরসিংদী ও রামপুরার ঘটনায় ছাত্রশিবিরের উদ্বেগ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:১৮:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

দেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উদ্বেগজনক অবনতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। নরসিংদীতে ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় এক কিশোরীকে অপহরণ ও হত্যার ঘটনা এবং রাজধানীর রামপুরায় ৬ বছরের এক শিশুকে পাশবিক নির্যাতনের পর হত্যার মতো সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো তুলে ধরে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) এক যৌথ বিবৃতিতে এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন, বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, প্রায় ১৫ দিন আগে নরসিংদীতে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরী স্থানীয় যুবক নূরার নেতৃত্বে পাঁচ-ছয়জন বখাটের সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়। ভুক্তভোগীর পরিবার অপরাধীদের বিচারের দাবিতে অনড় থাকায় অভিযুক্তরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করা হয়। গত বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) মেয়েটি তার বাবার সঙ্গে আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার পথে অভিযুক্তরা তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে পুনরায় ধর্ষণের পর হত্যা করে। ছাত্রশিবিরের দাবি, এ ঘটনায় স্থানীয় ইউপি সদস্য ও বিএনপি নেতা দেওয়ান বিপুল অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ভুক্তভোগী পরিবারকে এলাকা ছাড়ার হুমকি দিয়েছেন এবং মহিশুড়া বিএনপির সহ-সভাপতি আহম্মদ আলী দেওয়ানসহ প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিরা অভিযুক্তদের রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।

অন্যদিকে, রাজধানীর রামপুরায় ৬ বছর বয়সী এক শিশুকে পাশবিক নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে। ছাত্রশিবির অভিযোগ করেছে, ভুক্তভোগী পরিবার থানায় মামলা করতে গেলে প্রথমে অভিযোগ গ্রহণে অনীহা প্রকাশ করে পুলিশ বিষয়টি “দুর্ঘটনা, মাইনা নেন” বলে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। পরবর্তীতে স্থানীয় জনগণের তীব্র বিক্ষোভ ও থানা ঘেরাওয়ের মুখে মামলা গ্রহণ করা হলেও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মামলা প্রত্যাহারের জন্য পরিবারকে চাপ দেওয়া হচ্ছে। ছাত্রশিবিরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, একটি রাজনৈতিক দল অপরাধীদের আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, এসব কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং নির্বাচনের পর থেকেই সারাদেশে বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, ধর্ষণ, বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর, হাটবাজার দখল, চাঁদাবাজি ও মব সন্ত্রাসসহ বিভিন্ন অপরাধ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা আরও অভিযোগ করেন, গণহত্যার সাথে জড়িত সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি ও চিহ্নিত আওয়ামী দোসরদের মুক্তি ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে হুমকির মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, যা দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।

ছাত্রশিবিরের দাবি, বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর দেশে শান্তি, শৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার আশা করা হলেও বাস্তবতা তার সম্পূর্ণ বিপরীত। সরকার নিজ দলের নেতাকর্মীদের লাগাম টেনে ধরতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। যে সরকার নিজের দলের রাশ টানতে ব্যর্থ, সেই সরকারের কাছে নারীসমাজ কিংবা আপামর জনসাধারণের জানমাল কতটা সুরক্ষিত, তা এখন প্রশ্নসাপেক্ষ বিষয়। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও তার পেশাদারিত্বের পরিচয় দিতে ব্যর্থ হচ্ছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে নরসিংদী ও রামপুরার ঘটনাসহ সারাদেশে সংঘটিত সকল হত্যা, ধর্ষণ, দখল ও সন্ত্রাসের ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত নিশ্চিত করে জড়িতদের গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান। একইসাথে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আফগান-পাক সীমান্তে উত্তেজনা: আঞ্চলিক শান্তি ফেরাতে তুরস্কের কূটনৈতিক দৌড়ঝাঁপ

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি: নরসিংদী ও রামপুরার ঘটনায় ছাত্রশিবিরের উদ্বেগ

আপডেট সময় : ০৩:১৮:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উদ্বেগজনক অবনতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। নরসিংদীতে ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় এক কিশোরীকে অপহরণ ও হত্যার ঘটনা এবং রাজধানীর রামপুরায় ৬ বছরের এক শিশুকে পাশবিক নির্যাতনের পর হত্যার মতো সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো তুলে ধরে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) এক যৌথ বিবৃতিতে এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন, বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, প্রায় ১৫ দিন আগে নরসিংদীতে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরী স্থানীয় যুবক নূরার নেতৃত্বে পাঁচ-ছয়জন বখাটের সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়। ভুক্তভোগীর পরিবার অপরাধীদের বিচারের দাবিতে অনড় থাকায় অভিযুক্তরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করা হয়। গত বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) মেয়েটি তার বাবার সঙ্গে আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার পথে অভিযুক্তরা তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে পুনরায় ধর্ষণের পর হত্যা করে। ছাত্রশিবিরের দাবি, এ ঘটনায় স্থানীয় ইউপি সদস্য ও বিএনপি নেতা দেওয়ান বিপুল অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ভুক্তভোগী পরিবারকে এলাকা ছাড়ার হুমকি দিয়েছেন এবং মহিশুড়া বিএনপির সহ-সভাপতি আহম্মদ আলী দেওয়ানসহ প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিরা অভিযুক্তদের রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।

অন্যদিকে, রাজধানীর রামপুরায় ৬ বছর বয়সী এক শিশুকে পাশবিক নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে। ছাত্রশিবির অভিযোগ করেছে, ভুক্তভোগী পরিবার থানায় মামলা করতে গেলে প্রথমে অভিযোগ গ্রহণে অনীহা প্রকাশ করে পুলিশ বিষয়টি “দুর্ঘটনা, মাইনা নেন” বলে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। পরবর্তীতে স্থানীয় জনগণের তীব্র বিক্ষোভ ও থানা ঘেরাওয়ের মুখে মামলা গ্রহণ করা হলেও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মামলা প্রত্যাহারের জন্য পরিবারকে চাপ দেওয়া হচ্ছে। ছাত্রশিবিরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, একটি রাজনৈতিক দল অপরাধীদের আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, এসব কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং নির্বাচনের পর থেকেই সারাদেশে বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, ধর্ষণ, বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর, হাটবাজার দখল, চাঁদাবাজি ও মব সন্ত্রাসসহ বিভিন্ন অপরাধ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা আরও অভিযোগ করেন, গণহত্যার সাথে জড়িত সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি ও চিহ্নিত আওয়ামী দোসরদের মুক্তি ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে হুমকির মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, যা দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।

ছাত্রশিবিরের দাবি, বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর দেশে শান্তি, শৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার আশা করা হলেও বাস্তবতা তার সম্পূর্ণ বিপরীত। সরকার নিজ দলের নেতাকর্মীদের লাগাম টেনে ধরতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। যে সরকার নিজের দলের রাশ টানতে ব্যর্থ, সেই সরকারের কাছে নারীসমাজ কিংবা আপামর জনসাধারণের জানমাল কতটা সুরক্ষিত, তা এখন প্রশ্নসাপেক্ষ বিষয়। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও তার পেশাদারিত্বের পরিচয় দিতে ব্যর্থ হচ্ছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে নরসিংদী ও রামপুরার ঘটনাসহ সারাদেশে সংঘটিত সকল হত্যা, ধর্ষণ, দখল ও সন্ত্রাসের ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত নিশ্চিত করে জড়িতদের গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান। একইসাথে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানান।