ঢাকা ০৩:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শক্তি ও সামর্থ্যের বিশাল ব্যবধান: পাকিস্তানের সঙ্গে আফগান তালেবানের যুদ্ধের সম্ভাবনা কতটুকু?

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:২৫:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের সঙ্গে আফগানিস্তানের বর্তমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের টানাপড়েন নতুন মাত্রা পেলেও, দেশ দুটির মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ বা প্রচলিত যুদ্ধ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের সামরিক সক্ষমতা এবং বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির আকাশ-পাতাল পার্থক্যের কারণেই এমন সংঘাতের পথ বেছে নেওয়া তালেবান সরকারের জন্য প্রায় অসম্ভব।

সামরিক শক্তির বিচারে পাকিস্তান বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় দেশ। পারমাণবিক অস্ত্রধারী এই দেশটির সশস্ত্র বাহিনী নিয়মিতভাবে বৈশ্বিক সামরিক সূচকের শীর্ষ ১৫টি দেশের মধ্যে স্থান করে নেয়। অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, নৌবহর এবং সুশৃঙ্খল বিশাল সেনাবাহিনীর বিপরীতে আফগান তালেবানের শক্তি অনেকটাই সীমিত এবং অসংগঠিত। মূলত গেরিলা যুদ্ধে অভ্যস্ত তালেবানের হাতে একটি আধুনিক রাষ্ট্রের সঙ্গে প্রচলিত যুদ্ধে টিকে থাকার মতো ভারি অস্ত্রশস্ত্র বা বিমানবাহিনীর পর্যাপ্ত সরঞ্জাম নেই।

সামরিক সক্ষমতার পাশাপাশি আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকটও যুদ্ধের পথে একটি বড় বাধা। দীর্ঘ যুদ্ধের পর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসা তালেবান সরকার বর্তমানে চরম অর্থ সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ পরিচালনার জন্য যে বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন, তা জোগান দেওয়ার মতো সামর্থ্য বর্তমান কাবুলের নেই। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সীমান্ত এলাকায় বিচ্ছিন্ন উত্তেজনা বা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও, শক্তির ভারসাম্যহীনতা এবং অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে একটি বড় ধরনের যুদ্ধে জড়ানো আফগানিস্তানের জন্য আত্মঘাতী হতে পারে। ফলে সব মিলিয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একটি প্রচলিত যুদ্ধের ময়দানে নামার সম্ভাবনা আফগান তালেবানের জন্য অত্যন্ত ক্ষীণ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আফগান-পাক সীমান্ত সংঘাত: যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান রাশিয়ার, মধ্যস্থতার প্রস্তাবও

শক্তি ও সামর্থ্যের বিশাল ব্যবধান: পাকিস্তানের সঙ্গে আফগান তালেবানের যুদ্ধের সম্ভাবনা কতটুকু?

আপডেট সময় : ০১:২৫:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের সঙ্গে আফগানিস্তানের বর্তমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের টানাপড়েন নতুন মাত্রা পেলেও, দেশ দুটির মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ বা প্রচলিত যুদ্ধ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের সামরিক সক্ষমতা এবং বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির আকাশ-পাতাল পার্থক্যের কারণেই এমন সংঘাতের পথ বেছে নেওয়া তালেবান সরকারের জন্য প্রায় অসম্ভব।

সামরিক শক্তির বিচারে পাকিস্তান বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় দেশ। পারমাণবিক অস্ত্রধারী এই দেশটির সশস্ত্র বাহিনী নিয়মিতভাবে বৈশ্বিক সামরিক সূচকের শীর্ষ ১৫টি দেশের মধ্যে স্থান করে নেয়। অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, নৌবহর এবং সুশৃঙ্খল বিশাল সেনাবাহিনীর বিপরীতে আফগান তালেবানের শক্তি অনেকটাই সীমিত এবং অসংগঠিত। মূলত গেরিলা যুদ্ধে অভ্যস্ত তালেবানের হাতে একটি আধুনিক রাষ্ট্রের সঙ্গে প্রচলিত যুদ্ধে টিকে থাকার মতো ভারি অস্ত্রশস্ত্র বা বিমানবাহিনীর পর্যাপ্ত সরঞ্জাম নেই।

সামরিক সক্ষমতার পাশাপাশি আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকটও যুদ্ধের পথে একটি বড় বাধা। দীর্ঘ যুদ্ধের পর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসা তালেবান সরকার বর্তমানে চরম অর্থ সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ পরিচালনার জন্য যে বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন, তা জোগান দেওয়ার মতো সামর্থ্য বর্তমান কাবুলের নেই। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সীমান্ত এলাকায় বিচ্ছিন্ন উত্তেজনা বা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও, শক্তির ভারসাম্যহীনতা এবং অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে একটি বড় ধরনের যুদ্ধে জড়ানো আফগানিস্তানের জন্য আত্মঘাতী হতে পারে। ফলে সব মিলিয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একটি প্রচলিত যুদ্ধের ময়দানে নামার সম্ভাবনা আফগান তালেবানের জন্য অত্যন্ত ক্ষীণ।