ঢাকা ০৪:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

যুদ্ধবিরতির মধ্যেই লেবানন-ইসরাইলের পাল্টাপাল্টি হামলার অভিযোগ, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা

লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হলেও দেশটিতে অস্থিরতা থামেনি। যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার কিছুক্ষণ পরেই পাল্টাপাল্টি হামলার অভিযোগ তুলেছে উভয় পক্ষ। এছাড়াও, ইরানের রাজধানী তেহরানেও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সক্রিয় হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে একদিকে কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও অন্যদিকে সংঘাতও পুরোপুরি থামেনি।

জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়ানো নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তার মতে, এই চুক্তির মাধ্যমে ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহ ও ইসরাইলের মধ্যকার সংঘাত পুরোপুরি থামবে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ড্যানন স্পষ্টভাবে বলেছেন, ‘লেবানন সরকারের হিজবুল্লাহর ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।’ হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে নতুন করে রকেট হামলার অভিযোগও তুলেছে ইসরাইল। ড্যানন অভিযোগ করেন, ‘হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি ব্যাহত করতে রকেট হামলা চালাচ্ছে। আর ইসরাইলকে আত্মরক্ষার্থে পাল্টা জবাব দিতে হচ্ছে। আমরা যখনই কোনো হুমকি দেখছি, তখনই ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরাইলি রাষ্ট্রদূতের বৈঠকের পর চলমান ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি আরও তিন সপ্তাহের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়। এই নতুন চুক্তি প্রসঙ্গে ড্যানি ড্যানন বলেন, ‘এটি শতভাগ নিশ্চিত নয়। আমি আশা করি, লেবাননের সেনাবাহিনী বাস্তবে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর ও বলবৎ করতে সক্ষম হবে।’

এদিকে, লেবানন থেকে ছোড়া বেশ কয়েকটি প্রজেক্টাইল বা রকেট প্রতিহত করার দাবি করেছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। এই ঘটনার জেরে ইসরাইলের শতুলা এলাকায় সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়। টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় ইসরাইলকে লক্ষ্য করে রকেট হামলার বিষয়টি স্বীকার করেছে হিজবুল্লাহও। এর আগে ওভাল অফিস থেকে ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সময় তার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং উভয় দেশের রাষ্ট্রদূতরা উপস্থিত ছিলেন। যুদ্ধবিরতির মেয়াদ নতুন করে বাড়ানোর পর উপস্থিত সবাই এই চুক্তিকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে অভিহিত করে মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রশংসাও করেন। কিন্তু এই চুক্তি হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই পাল্টাপাল্টি হামলার অভিযোগ তুলেছে দুই পক্ষ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ অর্থনীতির তালিকা থেকে ছিটকে গেল ভারত

যুদ্ধবিরতির মধ্যেই লেবানন-ইসরাইলের পাল্টাপাল্টি হামলার অভিযোগ, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা

আপডেট সময় : ০৩:০৬:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হলেও দেশটিতে অস্থিরতা থামেনি। যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার কিছুক্ষণ পরেই পাল্টাপাল্টি হামলার অভিযোগ তুলেছে উভয় পক্ষ। এছাড়াও, ইরানের রাজধানী তেহরানেও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সক্রিয় হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে একদিকে কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও অন্যদিকে সংঘাতও পুরোপুরি থামেনি।

জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়ানো নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তার মতে, এই চুক্তির মাধ্যমে ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহ ও ইসরাইলের মধ্যকার সংঘাত পুরোপুরি থামবে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ড্যানন স্পষ্টভাবে বলেছেন, ‘লেবানন সরকারের হিজবুল্লাহর ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।’ হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে নতুন করে রকেট হামলার অভিযোগও তুলেছে ইসরাইল। ড্যানন অভিযোগ করেন, ‘হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি ব্যাহত করতে রকেট হামলা চালাচ্ছে। আর ইসরাইলকে আত্মরক্ষার্থে পাল্টা জবাব দিতে হচ্ছে। আমরা যখনই কোনো হুমকি দেখছি, তখনই ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরাইলি রাষ্ট্রদূতের বৈঠকের পর চলমান ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি আরও তিন সপ্তাহের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়। এই নতুন চুক্তি প্রসঙ্গে ড্যানি ড্যানন বলেন, ‘এটি শতভাগ নিশ্চিত নয়। আমি আশা করি, লেবাননের সেনাবাহিনী বাস্তবে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর ও বলবৎ করতে সক্ষম হবে।’

এদিকে, লেবানন থেকে ছোড়া বেশ কয়েকটি প্রজেক্টাইল বা রকেট প্রতিহত করার দাবি করেছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। এই ঘটনার জেরে ইসরাইলের শতুলা এলাকায় সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়। টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় ইসরাইলকে লক্ষ্য করে রকেট হামলার বিষয়টি স্বীকার করেছে হিজবুল্লাহও। এর আগে ওভাল অফিস থেকে ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সময় তার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং উভয় দেশের রাষ্ট্রদূতরা উপস্থিত ছিলেন। যুদ্ধবিরতির মেয়াদ নতুন করে বাড়ানোর পর উপস্থিত সবাই এই চুক্তিকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে অভিহিত করে মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রশংসাও করেন। কিন্তু এই চুক্তি হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই পাল্টাপাল্টি হামলার অভিযোগ তুলেছে দুই পক্ষ।