১৩ বছর আগে আজকের এই দিনে এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের সাক্ষী হয়েছিল বাংলাদেশ। ঢাকার অদূরে সাভারের রানা প্লাজা ধসে প্রাণ হারান ১ হাজার ১৩৬ জন মানুষ, আহত হন আরও দেড় হাজারের বেশি। দেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ এই শিল্প দুর্ঘটনার এক যুগ পেরিয়ে গেলেও নিহত ও আহতদের স্বজনদের জন্য ন্যায়বিচার এখনো অধরা। ভবন ধসের ঘটনায় দায়ের করা হত্যাসহ মোট ছয়টি মামলার মধ্যে পাঁচটিই এখনো বিচারাধীন।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এত বছর পরেও এসব মামলার বিচারকাজ কবে শেষ হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারছেন না কেউ। রানা প্লাজা ধসের মর্মান্তিক ঘটনায় মোট ছয়টি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এর মধ্যে পুলিশের পক্ষ থেকে অবহেলায় মৃত্যুর অভিযোগে একটি হত্যা মামলা, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পক্ষ থেকে ইমারত নির্মাণ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে একটি মামলা, এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষ থেকে ভবন নির্মাণে দুর্নীতি ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে দুটি মামলা করা হয়। এছাড়া, অস্ত্র ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে আরও দুটি মামলা দায়ের করা হয়।
এই ছয়টি মামলার মধ্যে কেবল দুদকের দায়ের করা সম্পদের তথ্য গোপনের একটি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। বাকি পাঁচটি মামলার মধ্যে ভবন নির্মাণে দুর্নীতির মামলাটি বর্তমানে যুক্তিতর্ক শুনানির পর্যায়ে রয়েছে। অন্যদিকে, হত্যা মামলা এবং ইমারত নির্মাণ আইনের মামলাসহ তিনটি মামলা সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে আটকে আছে। এর বাইরে একটি মামলার কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।
২০১৬ সালে রানা প্লাজার হত্যা ও ইমারত আইনের মামলা দুটি বিচার প্রক্রিয়ার জন্য প্রস্তুত হয়। ওই বছরের ১৫ মার্চ মামলা দুটি ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ এবং বিচারিক আদালতে পাঠানো হয়। একই বছরের ১৬ জুন ইমারত নির্মাণ আইনের মামলায় ভবন মালিক সোহেল রানাসহ ১৮ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট। এরপর ১৮ জুলাই হত্যা মামলায় ভবন মালিক সোহেল রানাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়।
রানা প্লাজা ধসের পরদিন সাভার থানার উপপরিদর্শক আলী আশরাফ অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে হত্যা মামলাটি দায়ের করেন, যেখানে সোহেল রানাসহ ২১ জনকে আসামি করা হয়। পরবর্তীতে গার্মেন্ট শ্রমিক জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী শিউলি আক্তার নিহতদের হত্যাকারী আখ্যায়িত করে আদালতে আরেকটি মামলা করেন, যা সিআইডির তদন্তে পুলিশের মামলার সঙ্গে একীভূত করা হয়। বর্তমানে শিউলি আক্তার পুলিশের মামলার একজন সাক্ষী। এই মামলায় মোট ৫৯৪ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে, যা বিচার প্রক্রিয়াকে আরও দীর্ঘায়িত করছে।
রিপোর্টারের নাম 






















