## ডুরান্ড লাইন: দুই প্রতিবেশী দেশের দীর্ঘদিনের বিবাদ
ঢাকা: ১৩২ বছর আগে ব্রিটিশ ভারতের সঙ্গে আফগানিস্তানের স্বাক্ষরিত ডুরান্ড লাইন চুক্তি আজও দুই প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সংঘাতের মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত সংঘাতের আবহে এই ঐতিহাসিক সীমান্তরেখাটি আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে।
১৮৯৩ সালের ১৩ নভেম্বর ব্রিটিশ সরকার এবং আফগানিস্তানের তৎকালীন আমির আব্দুর রহমান খান ডুরান্ড লাইন চুক্তি স্বাক্ষর করেন। ব্রিটিশদের উদ্দেশ্য ছিল ভারতের উত্তর-পশ্চিম সীমান্তে নিজেদের প্রভাব বিস্তার এবং আফগানিস্তানের সঙ্গে একটি স্পষ্ট সীমান্ত প্রতিষ্ঠা করা। চুক্তি অনুযায়ী, প্রায় ২৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সীমান্তরেখা ব্রিটিশ ভারতের অধীনে থাকা একটি বিশাল অঞ্চলকে আফগানিস্তান থেকে পৃথক করে। তৎকালীন আফগান আমির এই চুক্তিকে স্বাগত জানালেও, এর ফলে আফগান প্রভাবাধীন একটি বড় অংশের সার্বভৌমত্ব তিনি ব্রিটিশদের হাতে ছেড়ে দেন। বর্তমানে এই অঞ্চল পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া ও বালুচিস্তান প্রদেশের অংশ।
চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকেই ডুরান্ড লাইন নিয়ে আফগানিস্তানের আপত্তি অব্যাহত রয়েছে। পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠনের পর থেকে এই সীমান্ত নিয়ে দুই দেশের মধ্যে প্রায়শই বিবাদ লেগে আছে। সম্প্রতি, আফগানিস্তান পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তাদের সীমান্ত ও আকাশসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে। পাকিস্তান অবশ্য কিছু পদক্ষেপের কথা স্বীকার করলেও অনেক অভিযোগ অস্বীকার করেছে। অন্যদিকে, পাকিস্তান আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের কাছে নিষিদ্ধ তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। সম্প্রতি পাকিস্তান কাবুলে টিটিপি-এর বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর কথা স্বীকার করেছে। আফগানিস্তানও এর জবাবে ডুরান্ড লাইনের কাছে থাকা পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীকে নিশানা করেছে।
এই সংঘাত নিরসনের লক্ষ্যে দোহায় অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোল্লা ইয়াকুব ডুরান্ড লাইনকে ‘কাল্পনিক’ বলে অভিহিত করেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, আফগানিস্তান এই সীমান্ত কোনোদিন মেনে নেয়নি এবং এ বিষয়ে তাদের সিদ্ধান্ত তারাই নেবে। মোল্লা ইয়াকুবের এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
যদিও ডুরান্ড লাইন চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর পরবর্তী সময়ে আফগান শাসকরা বিভিন্ন চুক্তিতে এই সীমান্তকে অনুমোদন দিয়েছিলেন, তবুও আফগানিস্তানের একটি বড় অংশের মতে এটি তাদের সার্বভৌমত্বের উপর হস্তক্ষেপ। এই দীর্ঘদিনের বিবাদ দুই দেশের সম্পর্ককে সবসময়ই প্রভাবিত করেছে এবং ভবিষ্যতেও এর রেশ বজায় থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 






















