বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকনের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে গত তিন দিন ধরে আদালত বর্জন করছেন আইনজীবীরা। এতে বিচারপ্রার্থীদের চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে এবং আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। এই অচলাবস্থা নিরসনে বৃহস্পতিবার দুপুরে মহানগর দায়রা জজের উদ্যোগে বিচারক ও আইনজীবীদের মধ্যে এক সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা সব আদালত বর্জন করে তাদের সভাপতির মুক্তি দাবি করছেন। সমিতির সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে কতিপয় আইনজীবী এজলাসে উপস্থিত হলেও বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের তোপের মুখে তাদের ফিরে যেতে হয়েছে। এই টানা কর্মবিরতির কারণে মামলার শুনানি থমকে যাওয়ায় দূর-দূরান্ত থেকে আসা বিচারপ্রার্থীরা চরম দুর্ভোগে পড়ে ফিরে গেছেন।
আদালত সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে মহানগর দায়রা জজের পক্ষ থেকে মামলার আসামি নন এমন তিনজন আইনজীবীকে নিয়ে একটি বৈঠক করা হয়। বৈঠকে বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোকলেছুর রহমান বাচ্ছু, সাবেক অর্থ বিষয়ক সম্পাদক হুমাউন কবির মামুন এবং অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দীন আকন অংশ নেন। বৈঠকে উভয় পক্ষই সমঝোতার বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে সমঝোতার শর্ত হিসেবে সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক অভিযুক্ত ১২ আইনজীবীকে শোকজ করার বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আলোচনা করেই লিংকনের জামিন ও সার্বিক বিষয়ে চূড়ান্ত সমঝোতা করার আশ্বাস মিলেছে। আইনজীবীরা বৈঠকে জানিয়েছেন, সাদিকুর রহমান লিংকনের জামিন এবং মামলা প্রত্যাহারের আশ্বাস পেলে তারা স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরে যাবেন।
এদিকে, গ্রেপ্তার হওয়া সাদিকুর রহমান লিংকনের জামিনের জন্য বৃহস্পতিবার আদালতে কোনো আবেদন করা হয়নি। নির্ভরযোগ্য সূত্র অনুযায়ী, আগামী রোববার এ মামলার জামিন শুনানি হতে পারে।
উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গতকাল সকাল থেকেই আদালত চত্বরে বিপুল সংখ্যক যৌথ বাহিনীর সদস্য (পুলিশ ও সেনাবাহিনী) মোতায়েন করা হয়। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা আদালত চত্বরে প্রবেশ করলে এক ধরনের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, বিশেষ করে মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে গ্রেপ্তার ভীতি দেখা দেয়।
প্রসঙ্গত, গত সোমবার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুসকে জামিন দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হন বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা এবং আদালত বর্জন করেন। এর ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার বরিশাল অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এজলাস ভাঙচুর, সরকারি নথি ও মালামাল বিনষ্ট এবং বিচারককে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ ওঠে আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকনসহ জাতীয়তাবাদী আইনজীবীদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় আইনজীবী সমিতির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি-সম্পাদক, জেলা পপিসহ ১২ জন আইনজীবীর বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়।
ওই মামলায় বুধবার দুপুরে বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকনকে যৌথ বাহিনী গ্রেপ্তার করে। এই গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে আইনজীবীরা কর্মবিরতি পালন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। এসময় তারা লিংকনের মুক্তি দাবির পাশাপাশি দুই বিচারকের অপসারণের দাবি জানান।
রিপোর্টারের নাম 




















