ঢাকা ০৮:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাজনৈতিক সৌজন্যতা নাকি অন্য কিছু? জামিন পাওয়া আ.লীগ নেতার বাসায় বিএনপি নেতার মিষ্টিমুখ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৮:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ০ বার পড়া হয়েছে

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় আওয়ামী লীগ নেতার জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তার বাড়িতে মিষ্টি নিয়ে হাজির হয়েছেন এক বিএনপি নেতা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বইছে সমালোচনার ঝড়। গতকাল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আখলাক হায়দার কারা মুক্তি পাওয়ার পর তার বাসভবনে শুভেচ্ছা জানাতে যান উপজেলা বিএনপির আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক সোহেল আহমেদ। সঙ্গে ছিল মিষ্টি ও ফুল।

বুধবার রাতে আখলাক হায়দার ও সোহেল আহমেদের একসঙ্গে কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, এটি কি কেবলই রাজনৈতিক সৌজন্যতা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো সমীকরণ রয়েছে?

গুঞ্জন রয়েছে, বিএনপি থেকে সুবিধা আদায়ের উদ্দেশ্যে সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা সোহেল আহমেদ বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পরও তিনি আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং তাদের বাড়িতে যাতায়াত করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

বুড়িচং উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ সুমন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, “আলহামদুলিল্লাহ, বুড়িচং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান আখলাক হায়দার ভাই জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। সাথে কফি হাউজের সোহেল ভাইও আছেন, উনি থানা বিএনপির নেতা হলেও আখলাক ভাইয়ের কলিজার লোক। বিএনপির বড় ডোনার।” এই মন্তব্য থেকেই বোঝা যায়, সোহেল আহমেদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন রয়েছে।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে বুড়িচং উপজেলা বিএনপির আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক সোহেল আহমেদ বলেন, “বাসায় যাওয়া কি অন্যায়? এবার আওয়ামী লীগ ছাড়া বিএনপি পাস করতে পারত না। আমার কাছে আওয়ামী লীগ-বিএনপি সব সমান।” তার এই বক্তব্য রাজনৈতিক মেরুকরণের বাইরে গিয়ে একটি বিশেষ বার্তা দিচ্ছে।

অন্যদিকে, এই ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে বুড়িচং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন দৈনিক আমার দেশকে বলেন, “এই বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। উপজেলা বিএনপির সভাপতির সঙ্গে কথা বলুন।” এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, উপজেলা বিএনপির শীর্ষ পর্যায়েও এই বিষয়ে স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা বা আলোচনা হয়নি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারে অনুমোদনহীন এলপিজি পাম্পে ভয়াবহ বিস্ফোরণ: দগ্ধ ১৫, পুড়লো অর্ধশতাধিক ঘর ও ১৫ গাড়ি

রাজনৈতিক সৌজন্যতা নাকি অন্য কিছু? জামিন পাওয়া আ.লীগ নেতার বাসায় বিএনপি নেতার মিষ্টিমুখ

আপডেট সময় : ০৬:৫৮:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় আওয়ামী লীগ নেতার জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তার বাড়িতে মিষ্টি নিয়ে হাজির হয়েছেন এক বিএনপি নেতা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বইছে সমালোচনার ঝড়। গতকাল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আখলাক হায়দার কারা মুক্তি পাওয়ার পর তার বাসভবনে শুভেচ্ছা জানাতে যান উপজেলা বিএনপির আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক সোহেল আহমেদ। সঙ্গে ছিল মিষ্টি ও ফুল।

বুধবার রাতে আখলাক হায়দার ও সোহেল আহমেদের একসঙ্গে কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, এটি কি কেবলই রাজনৈতিক সৌজন্যতা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো সমীকরণ রয়েছে?

গুঞ্জন রয়েছে, বিএনপি থেকে সুবিধা আদায়ের উদ্দেশ্যে সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা সোহেল আহমেদ বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পরও তিনি আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং তাদের বাড়িতে যাতায়াত করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

বুড়িচং উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ সুমন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, “আলহামদুলিল্লাহ, বুড়িচং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান আখলাক হায়দার ভাই জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। সাথে কফি হাউজের সোহেল ভাইও আছেন, উনি থানা বিএনপির নেতা হলেও আখলাক ভাইয়ের কলিজার লোক। বিএনপির বড় ডোনার।” এই মন্তব্য থেকেই বোঝা যায়, সোহেল আহমেদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন রয়েছে।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে বুড়িচং উপজেলা বিএনপির আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক সোহেল আহমেদ বলেন, “বাসায় যাওয়া কি অন্যায়? এবার আওয়ামী লীগ ছাড়া বিএনপি পাস করতে পারত না। আমার কাছে আওয়ামী লীগ-বিএনপি সব সমান।” তার এই বক্তব্য রাজনৈতিক মেরুকরণের বাইরে গিয়ে একটি বিশেষ বার্তা দিচ্ছে।

অন্যদিকে, এই ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে বুড়িচং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন দৈনিক আমার দেশকে বলেন, “এই বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। উপজেলা বিএনপির সভাপতির সঙ্গে কথা বলুন।” এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, উপজেলা বিএনপির শীর্ষ পর্যায়েও এই বিষয়ে স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা বা আলোচনা হয়নি।