ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসনিক নেতৃত্বে পরিবর্তনের জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে। বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তার মাধ্যমে পরিচালিত এই গুরুত্বপূর্ণ সংস্থায় শীঘ্রই রাজনৈতিক নিয়োগ হতে পারে—এমন আভাসে আলোচনায় উঠে এসেছেন বিএনপির দুই প্রবীণ ও প্রভাবশালী নেতা। তারা হলেন উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন এবং দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইদ্রিস মিয়া।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জেলা পরিষদের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে সরকার রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ডের অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার কথা ভাবছে। এই খবরে নগরের লালদিঘী পাড়ের জেলা পরিষদ কার্যালয় ও স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন এখন সরগরম। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেতাকর্মীদের নানামুখী পোস্ট এবং রাজনৈতিক মহলের আলোচনায় এই দুই নেতার নামই সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে।
প্রশাসক পদের দৌড়ে এগিয়ে থাকা ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেনের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার দীর্ঘ ও কণ্টকাকীর্ণ। সন্দ্বীপের বাসিন্দা এই নেতা ছাত্রজীবন থেকেই রাজপথের রাজনীতিতে সক্রিয়। চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বিগত সরকারের আমলে প্রায় ৪০টির মতো রাজনৈতিক মামলার শিকার হয়েছেন। দীর্ঘ সময় কারাবরণ, রিমান্ড ও পুলিশি নির্যাতনের শিকার হওয়া এই নেতা দলের প্রতি তার আনুগত্যের জন্য তৃণমূলের কাছে সমাদৃত। এমনকি দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে ১০০ কোটি টাকার মানহানির মামলা করে তিনি সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছিলেন। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মতে, জেলা পরিষদের দায়িত্ব পেলে ১৫টি উপজেলার সুষম উন্নয়নে তিনি বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারবেন।
অন্যদিকে, দক্ষিণ জেলা বিএনপির কাণ্ডারি ইদ্রিস মিয়া একজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ জনপ্রতিনিধি হিসেবে পরিচিত। ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য থেকে শুরু করে পটিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে তিনি জনরায়ে নির্বাচিত হয়ে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন। ২০১০ সালে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীকে বিপুল ভোটে হারিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়া এই নেতা দলের দুঃসময়ে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। তার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক দক্ষতা তাকে জেলা পরিষদের প্রশাসক পদের দৌড়ে শক্ত অবস্থানে রেখেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদসহ দেশের সব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) জেলা পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন। এখন রাজনৈতিক নেতৃত্ব ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে জেলা পরিষদের স্থবিরতা কাটিয়ে জনসেবা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা ফেরানোর প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। দলের হাইকমান্ড ত্যাগী ও যোগ্য নেতাদের মূল্যায়ন করলে জেলা পরিষদ আবারও প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে বলে সাধারণ নেতাকর্মীদের বিশ্বাস।
রিপোর্টারের নাম 























