ঢাকা ০৯:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সুনামগঞ্জে গারো সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী ওয়ানগালা উৎসব: সম্প্রীতির বন্ধনে মাতল পাহাড়ের জনপদ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:০২:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

‘সংঘাত নয়, শান্তি ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ি’—এই অমোঘ বাণীতে উজ্জ্বল হয়ে সুনামগঞ্জে উদযাপিত হয়েছে গারো সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী ফসল কাটার উৎসব ‘ওয়ানগালা’। বৃহস্পতিবার সদর উপজেলার মুগাইপার গারো পল্লীতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে এই ‘সম্প্রীতির ওয়ানগালা উৎসব’ অনুষ্ঠিত হয়। সুনামগঞ্জ ইয়থ পিস এম্বাসেডর গ্রুপের উদ্যোগে আয়োজিত এই উৎসবের মূল লক্ষ্য ছিল গারো সম্প্রদায়ের বিলুপ্তপ্রায় লোকজ ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং আন্তঃসম্প্রদায় সম্প্রীতি সুদৃঢ় করা।

জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন সুনামগঞ্জ সদরের চেয়ারম্যান মিন্টু দিও’র সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গারো অধ্যুষিত পাঁচ গ্রামের মাতব্বর হাজার মারাক, শ্যামল ডিব্রা, এলস দিও ও ডমিনিক মৃ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সিরাজুল ইসলাম পলাশ ও অনন্যা তালুকদার। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এমআইপিএস প্রকল্পের এরিয়া কো-অর্ডিনেটর নাজমুল হুদা মিনা।

দিনব্যাপী এই উৎসবকে কেন্দ্র করে পাহাড়ের পাদদেশের গারো পল্লীটি মেতে উঠেছিল এক ভিন্ন আমেজে। উৎসবে গারো (মান্দি) সংস্কৃতির বৈচিত্র্যময় দিকগুলো তুলে ধরা হয়। নন্দিতা মানখিন ও সলোমন যেত্রার পরিচালনায় সাংস্কৃতিক পর্বে গারো সম্প্রদায়ের শিল্পীরা তাদের নিজস্ব ভাষায় গান ও নৃত্য পরিবেশন করেন। বিশেষ করে খ্রিস্টিনা দিও, চাইনিং আরেং ও উদয় সাংমাসহ অন্যান্যদের পরিবেশিত মান্দি গান এবং প্রেমা, হেমন্টী, রত্না হাজং ও তাদের দলের ঐতিহ্যবাহী নৃত্য দর্শকদের মুগ্ধ করে।

সমাপনী পর্বে বক্তারা বলেন, ওয়ানগালা মূলত গারোদের নতুন ফসল ঘরে তোলার কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের উৎসব। এটি কেবল একটি আনন্দ আয়োজন নয়, বরং গারো সংস্কৃতির প্রাণ। ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা ও সিলেট বিভাগসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা গারো জনগোষ্ঠী তাদের এই আদি ঐতিহ্য লালন করে আসছে। সুনামগঞ্জের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর এই অমূল্য সংস্কৃতি রক্ষায় সরকার ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

আলোচনায় আরও অংশ নেন নূরুল হাসান আহাহের, মুছিহুর রহমান রাসেল, প্রতীমা রানী দাসসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। আয়োজক প্রতিনিধিরা জানান, আদিবাসী সম্প্রদায়ের সঙ্গে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় করতে এবং তাদের সাংস্কৃতিক চেতনাকে জাগ্রত রাখতে আগামীতেও এ ধরণের উৎসবের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হবে। ওয়ানগালার এই সুর আর নৃত্যের তালে তালে দিনটি যেন এক খণ্ড সম্প্রীতির বাংলাদেশে পরিণত হয়েছিল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কুকুরের তাণ্ডবে নীলফামারীতে ১৪ জন আহত, ভ্যাকসিন সংকটে ভোগান্তি চরমে

সুনামগঞ্জে গারো সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী ওয়ানগালা উৎসব: সম্প্রীতির বন্ধনে মাতল পাহাড়ের জনপদ

আপডেট সময় : ০৭:০২:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

‘সংঘাত নয়, শান্তি ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ি’—এই অমোঘ বাণীতে উজ্জ্বল হয়ে সুনামগঞ্জে উদযাপিত হয়েছে গারো সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী ফসল কাটার উৎসব ‘ওয়ানগালা’। বৃহস্পতিবার সদর উপজেলার মুগাইপার গারো পল্লীতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে এই ‘সম্প্রীতির ওয়ানগালা উৎসব’ অনুষ্ঠিত হয়। সুনামগঞ্জ ইয়থ পিস এম্বাসেডর গ্রুপের উদ্যোগে আয়োজিত এই উৎসবের মূল লক্ষ্য ছিল গারো সম্প্রদায়ের বিলুপ্তপ্রায় লোকজ ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং আন্তঃসম্প্রদায় সম্প্রীতি সুদৃঢ় করা।

জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন সুনামগঞ্জ সদরের চেয়ারম্যান মিন্টু দিও’র সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গারো অধ্যুষিত পাঁচ গ্রামের মাতব্বর হাজার মারাক, শ্যামল ডিব্রা, এলস দিও ও ডমিনিক মৃ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সিরাজুল ইসলাম পলাশ ও অনন্যা তালুকদার। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এমআইপিএস প্রকল্পের এরিয়া কো-অর্ডিনেটর নাজমুল হুদা মিনা।

দিনব্যাপী এই উৎসবকে কেন্দ্র করে পাহাড়ের পাদদেশের গারো পল্লীটি মেতে উঠেছিল এক ভিন্ন আমেজে। উৎসবে গারো (মান্দি) সংস্কৃতির বৈচিত্র্যময় দিকগুলো তুলে ধরা হয়। নন্দিতা মানখিন ও সলোমন যেত্রার পরিচালনায় সাংস্কৃতিক পর্বে গারো সম্প্রদায়ের শিল্পীরা তাদের নিজস্ব ভাষায় গান ও নৃত্য পরিবেশন করেন। বিশেষ করে খ্রিস্টিনা দিও, চাইনিং আরেং ও উদয় সাংমাসহ অন্যান্যদের পরিবেশিত মান্দি গান এবং প্রেমা, হেমন্টী, রত্না হাজং ও তাদের দলের ঐতিহ্যবাহী নৃত্য দর্শকদের মুগ্ধ করে।

সমাপনী পর্বে বক্তারা বলেন, ওয়ানগালা মূলত গারোদের নতুন ফসল ঘরে তোলার কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের উৎসব। এটি কেবল একটি আনন্দ আয়োজন নয়, বরং গারো সংস্কৃতির প্রাণ। ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা ও সিলেট বিভাগসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা গারো জনগোষ্ঠী তাদের এই আদি ঐতিহ্য লালন করে আসছে। সুনামগঞ্জের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর এই অমূল্য সংস্কৃতি রক্ষায় সরকার ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

আলোচনায় আরও অংশ নেন নূরুল হাসান আহাহের, মুছিহুর রহমান রাসেল, প্রতীমা রানী দাসসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। আয়োজক প্রতিনিধিরা জানান, আদিবাসী সম্প্রদায়ের সঙ্গে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় করতে এবং তাদের সাংস্কৃতিক চেতনাকে জাগ্রত রাখতে আগামীতেও এ ধরণের উৎসবের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হবে। ওয়ানগালার এই সুর আর নৃত্যের তালে তালে দিনটি যেন এক খণ্ড সম্প্রীতির বাংলাদেশে পরিণত হয়েছিল।