ঢাকা ০৯:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

৪৫তম বিসিএসের সম্পূরক ফল ও নন-ক্যাডারে বৈষম্য নিরসনের দাবিতে রাজু ভাস্কর্যে মানববন্ধন

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৫১:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

৪৫তম বিসিএসের ক্যাডার পদে ‘রিপিট’ বা পুনরাবৃত্তি সংশোধন করে সম্পূরক ফলাফল প্রকাশ এবং নন-ক্যাডার পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করার দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছেন চাকরিপ্রার্থীরা। বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ‘৪৫তম বিসিএস বৈষম্যের শিকার চাকরিপ্রার্থী’দের ব্যানারে এই কর্মসূচি পালিত হয়।

সমাবেশ থেকে আন্দোলনকারীরা পিএসসির কাছে তিন দফা দাবি উত্থাপন করেন। তাদের প্রধান দাবি হলো—৪৪তম বিসিএসের গেজেট প্রকাশিত হওয়ায় ৪৫তম বিসিএসে যারা পুনরায় ক্যাডার হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন, তাদের বাদ দিয়ে দ্রুত সম্পূরক ফলাফল প্রকাশ করতে হবে। এছাড়া ৪৫তম বিসিএসের বর্তমান নন-ক্যাডার ফলাফল স্থগিত রেখে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের শূন্যপদ সংগ্রহের মাধ্যমে মেধাবীদের সর্বোচ্চ নিয়োগ নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা। একইসঙ্গে পূর্ববর্তী বিসিএসের মতো পুনরায় পছন্দক্রম বা ‘রি-চয়েস’ প্রদানের সুযোগ দিয়ে প্রকৃত বেকারদের কর্মসংস্থানের পথ সুগম করার আহ্বান জানানো হয়।

আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থীরা অভিযোগ করেন, ৪৫তম বিসিএসে প্রায় শতাধিক প্রার্থী ‘রিপিট ক্যাডার’ হিসেবে সুপারিশ পেয়েছেন। অর্থাৎ একই ব্যক্তি বারবার একই পদে সুপারিশ পাওয়ায় প্রকৃত মেধাবী বেকাররা বঞ্চিত হচ্ছেন। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ৪৪তম বিসিএসের ক্ষেত্রে তিনবার সম্পূরক ফলাফল প্রকাশ করা হলেও ৪৫তম বিসিএসের বেলায় পিএসসি এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি।

নন-ক্যাডার পদের বৈষম্য তুলে ধরে বক্তারা বলেন, ৪৫তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তিতে ১০২২টি নন-ক্যাডার পদের কথা উল্লেখ থাকলেও শেষ পর্যন্ত মাত্র ৫৪৫ জনকে সুপারিশ করা হয়েছে। কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই ৪৫৭টি পদ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে পিএসসি মেধা ও বেকারবান্ধব হবে বলে প্রত্যাশা থাকলেও, পদ কমিয়ে দেওয়ার এই সিদ্ধান্তকে ‘নতুন বাংলাদেশের’ নীতি ও আদর্শের পরিপন্থী বলে আখ্যা দেন তারা।

চাকরিপ্রার্থীরা আরও জানান, ২০২২ সালে প্রকাশিত এই বিসিএসের কার্যক্রম তিন বছর পেরিয়ে ২০২৫ সালে এসে শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। দীর্ঘ এই সময়ে অনেক প্রার্থী উচ্চতর গ্রেডে চাকরিতে যোগদান করলেও তাদের পুরোনো পছন্দক্রম অনুযায়ী নিম্ন গ্রেডের নন-ক্যাডার পদে সুপারিশ করা হয়েছে, যা অত্যন্ত অমানবিক ও বিশৃঙ্খল একটি পরিস্থিতি তৈরি করেছে। এছাড়া ক্যাডার পদের সম্পূরক ফলাফল প্রকাশের আগেই তড়িঘড়ি করে নন-ক্যাডারের চূড়ান্ত ফল প্রকাশকে ‘বিধিবহির্ভূত’ বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।

তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে সমাবেশে বলা হয়, ৪৪তম বিসিএসে যেখানে ৪১৩৬ জনকে নন-ক্যাডারে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, সেখানে ৪৫তম বিসিএসে মাত্র ৫৪৫ জনের সুপারিশ এক নজিরবিহীন বৈষম্য। সমাবেশে ভুক্তভোগী চাকরিপ্রার্থীদের পক্ষে একরামুল হকসহ অন্যান্য প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন এবং দ্রুত তাদের দাবি মেনে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কুকুরের তাণ্ডবে নীলফামারীতে ১৪ জন আহত, ভ্যাকসিন সংকটে ভোগান্তি চরমে

৪৫তম বিসিএসের সম্পূরক ফল ও নন-ক্যাডারে বৈষম্য নিরসনের দাবিতে রাজু ভাস্কর্যে মানববন্ধন

আপডেট সময় : ০৭:৫১:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

৪৫তম বিসিএসের ক্যাডার পদে ‘রিপিট’ বা পুনরাবৃত্তি সংশোধন করে সম্পূরক ফলাফল প্রকাশ এবং নন-ক্যাডার পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করার দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছেন চাকরিপ্রার্থীরা। বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ‘৪৫তম বিসিএস বৈষম্যের শিকার চাকরিপ্রার্থী’দের ব্যানারে এই কর্মসূচি পালিত হয়।

সমাবেশ থেকে আন্দোলনকারীরা পিএসসির কাছে তিন দফা দাবি উত্থাপন করেন। তাদের প্রধান দাবি হলো—৪৪তম বিসিএসের গেজেট প্রকাশিত হওয়ায় ৪৫তম বিসিএসে যারা পুনরায় ক্যাডার হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন, তাদের বাদ দিয়ে দ্রুত সম্পূরক ফলাফল প্রকাশ করতে হবে। এছাড়া ৪৫তম বিসিএসের বর্তমান নন-ক্যাডার ফলাফল স্থগিত রেখে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের শূন্যপদ সংগ্রহের মাধ্যমে মেধাবীদের সর্বোচ্চ নিয়োগ নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা। একইসঙ্গে পূর্ববর্তী বিসিএসের মতো পুনরায় পছন্দক্রম বা ‘রি-চয়েস’ প্রদানের সুযোগ দিয়ে প্রকৃত বেকারদের কর্মসংস্থানের পথ সুগম করার আহ্বান জানানো হয়।

আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থীরা অভিযোগ করেন, ৪৫তম বিসিএসে প্রায় শতাধিক প্রার্থী ‘রিপিট ক্যাডার’ হিসেবে সুপারিশ পেয়েছেন। অর্থাৎ একই ব্যক্তি বারবার একই পদে সুপারিশ পাওয়ায় প্রকৃত মেধাবী বেকাররা বঞ্চিত হচ্ছেন। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ৪৪তম বিসিএসের ক্ষেত্রে তিনবার সম্পূরক ফলাফল প্রকাশ করা হলেও ৪৫তম বিসিএসের বেলায় পিএসসি এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি।

নন-ক্যাডার পদের বৈষম্য তুলে ধরে বক্তারা বলেন, ৪৫তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তিতে ১০২২টি নন-ক্যাডার পদের কথা উল্লেখ থাকলেও শেষ পর্যন্ত মাত্র ৫৪৫ জনকে সুপারিশ করা হয়েছে। কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই ৪৫৭টি পদ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে পিএসসি মেধা ও বেকারবান্ধব হবে বলে প্রত্যাশা থাকলেও, পদ কমিয়ে দেওয়ার এই সিদ্ধান্তকে ‘নতুন বাংলাদেশের’ নীতি ও আদর্শের পরিপন্থী বলে আখ্যা দেন তারা।

চাকরিপ্রার্থীরা আরও জানান, ২০২২ সালে প্রকাশিত এই বিসিএসের কার্যক্রম তিন বছর পেরিয়ে ২০২৫ সালে এসে শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। দীর্ঘ এই সময়ে অনেক প্রার্থী উচ্চতর গ্রেডে চাকরিতে যোগদান করলেও তাদের পুরোনো পছন্দক্রম অনুযায়ী নিম্ন গ্রেডের নন-ক্যাডার পদে সুপারিশ করা হয়েছে, যা অত্যন্ত অমানবিক ও বিশৃঙ্খল একটি পরিস্থিতি তৈরি করেছে। এছাড়া ক্যাডার পদের সম্পূরক ফলাফল প্রকাশের আগেই তড়িঘড়ি করে নন-ক্যাডারের চূড়ান্ত ফল প্রকাশকে ‘বিধিবহির্ভূত’ বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।

তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে সমাবেশে বলা হয়, ৪৪তম বিসিএসে যেখানে ৪১৩৬ জনকে নন-ক্যাডারে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, সেখানে ৪৫তম বিসিএসে মাত্র ৫৪৫ জনের সুপারিশ এক নজিরবিহীন বৈষম্য। সমাবেশে ভুক্তভোগী চাকরিপ্রার্থীদের পক্ষে একরামুল হকসহ অন্যান্য প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন এবং দ্রুত তাদের দাবি মেনে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।