অমর একুশে বইমেলা ২০২৬-এর জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ২০২৫ সালের বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার মেলা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে নয়জন বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হলেও শেষ মুহূর্তে কবি মোহন রায়হানের পুরস্কারটি স্থগিত রাখা হয়েছে।
এ বছর বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন আটজন বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক। তারা হলেন— কথাসাহিত্যে নাসিমা আনিস, প্রবন্ধ ও গদ্যে সৈয়দ আজিজুল হক, শিশুসাহিত্যে হাসান হাফিজ, অনুবাদে আলী আহমদ, গবেষণায় যৌথভাবে মুস্তাফা মজিদ ও ইসরাইল খান, বিজ্ঞান বিভাগে ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী এবং মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক সাহিত্যে মঈদুল হাসান।
এর আগে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মোট নয়জন বিজয়ীর নাম ঘোষণা করেছিল বাংলা একাডেমি। কিন্তু পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে আটজনকে সম্মাননা দেওয়া হলেও বাদ পড়েন কবিতায় মনোনীত মোহন রায়হান। বিষয়টি নিয়ে জনমনে কৌতূহল সৃষ্টি হলে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম জানান, মোহন রায়হানের সাহিত্যকর্ম ও কবিতা নিয়ে কিছু সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। এসব বিষয় অধিকতর যাচাই-বাছাই ও পর্যালোচনার স্বার্থে কর্তৃপক্ষ আপাতত তার পুরস্কারটি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দ্রুতই জানানো হবে।
পুরস্কার স্থগিতের বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন কবি মোহন রায়হান। তিনি জানান, এই পুরস্কারের জন্য তিনি কোনো প্রকার তদবির করেননি এবং একাডেমি কর্তৃপক্ষই তাকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে নির্বাচিত করেছিল। এমনকি পুরস্কার গ্রহণের পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে এসএসএফ-এর মহড়ায় অংশ নেওয়ার পাশাপাশি অনুষ্ঠানের মূল সূচিতেও তার নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল।
মোহন রায়হান দাবি করেন, ৪১ বছর আগে কর্নেল তাহেরকে নিয়ে লেখা তার ‘তাহেরের স্বপ্ন’ নামক একটি কবিতাকে কেন্দ্র করে একটি বিশেষ মহলের প্ররোচনায় প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে তার পুরস্কারটি বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে। অনুষ্ঠান শুরু হওয়া সত্ত্বেও শেষ মুহূর্তে তাকে পুরস্কারের জন্য মঞ্চে না ডাকায় তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন।
রিপোর্টারের নাম 





















