পাবনার চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে হাটবাজার ইজারার টেন্ডার শিডিউল দাখিলকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে পুলিশের উপস্থিতিতেই এই হামলায় উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি হাবিবুর রহমান হাবিব, পৌর সেক্রেটারি সাদ্দাম হোসেনসহ অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। হামলার ঘটনায় পুলিশের নীরব ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে ভুক্তভোগীদের মধ্যে।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় সংসদ সদস্য মাওলানা আলী আছগার এক সংবাদ সম্মেলনে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ছিল উপজেলা পরিষদের ডাকা হাটবাজার ইজারার টেন্ডার শিডিউল দাখিলের শেষ দিন। একই সঙ্গে বিকেল ৩টায় দাখিলকৃত টেন্ডার বাক্স খোলার সময় নির্ধারিত ছিল। দুপুরে ছাইকোলা ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি আওরঙ্গজেব ছাইকোলা হাটের টেন্ডার শিডিউল জমা দিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে রাখা বাক্সে সেটি ফেলেন। এ সময় আশপাশে থাকা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা তার ওপর চড়াও হন এবং হামলা চালানোর চেষ্টা করেন। উপস্থিত আনসার সদস্য ও পুলিশ তাদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন।
এরপর কিছু সময় পর ব্যক্তিগত কাজ শেষে ইউএনও অফিস থেকে বের হচ্ছিলেন উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি হাবিবুর রহমান। অভিযোগ উঠেছে, তখনই ‘জামায়াতের সেক্রেটারি এখানে কেন’ বলে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং মারধর শুরু করে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত আনসার সদস্য ও পুলিশ বাঁশি বাজালেও হামলাকারীদের প্রতিহত করতে পারেননি বলে অভিযোগ। পরে বিএনপির এক নেতার সহায়তায় নিজেকে রক্ষা করেন উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি হাবিব।
আহত হাবিবুর রহমান জানান, তিনি ইউএনও সাহেবের কাছে তার এলাকার একটি সমস্যা সংক্রান্ত কাজে এসেছিলেন। ছাইকোলা ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারির টেন্ডার দাখিলের বিষয়ে তিনি কিছু জানতেন না এবং এর সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। ইউএনও অফিসের কাজ শেষে বের হতেই বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের সবাই তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এ সময় তিনি, পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি সাদ্দাম হোসেনসহ ৪-৫ জন আহত হন। এ বিষয়ে স্থানীয় এমপি মহোদয় ও উপজেলা জামায়াতের আমিরের সঙ্গে পরামর্শ করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্তদের একজন, মূলগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি লিখন বিশ্বাস। তিনি বলেন, “আমরা কয়েকজন গিয়েছিলাম শিডিউল দাখিলের শেষ সময় জানার জন্য। গিয়ে দেখি দলের ছেলেপেলেদের সাথে ঝামেলা। কার সঙ্গে কী নিয়ে ঝামেলা, তাও জানতাম না। পরে শুনেছি। হামলার সঙ্গে আমি জড়িত নই।”
চাটমোহর পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ জিয়ারুল হক সিন্টু জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তিনি জামায়াতের সেক্রেটারি হাবিবকে নিরাপদে নিয়ে আসেন। ঘটনাটিকে তিনি ‘অনাকাঙ্ক্ষিত এবং অনভিপ্রেত’ বলে উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুসা নাসের চৌধুরী বলেন, “ঘটনা একটা ঘটেছে। ফৌজদারি অপরাধ হয়েছে। আজকে টেন্ডার দাখিল ও খোলা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ মোতায়েন ছিল। তারপরও কীভাবে ঘটনা ঘটল, সেটি আমি বলতে পারছি না। থানার ওসি ভালো বলতে পারবেন। তার সঙ্গে কথা বলেন।”
চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারওয়ার হোসেন জানান, অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
এদিকে, বিকেল ৪টার দিকে চাটমোহর উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের সারোড়া গ্রামে জামায়াতের সাবেক আমির তোরাব আলী বিশ্বাসের বাড়িতে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে জামায়াত। সেখানে স্থানীয় সংসদ সদস্য মাওলানা আলী আছগার হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। এ সময় উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুল হামিদ, সেক্রেটারি হাবিবুর রহমান হাবিবসহ চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর উপজেলা জামায়াত ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টারের নাম 























