ঢাকা ০৬:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাষ্ট্রপতির বক্তব্য নিয়ে লেবার পার্টির উদ্বেগ: সাংবিধানিক শপথ ভঙ্গের অভিযোগ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৪:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ লেবার পার্টি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্যকে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদের প্রতি নেওয়া শপথের পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছে। দলটি মনে করে, রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে সংবিধানে বর্ণিত নিরপেক্ষতা, রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা রক্ষা এবং ব্যক্তিগত অনুরাগ-বিরাগমুক্ত থাকার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের সময় তিনি যে শপথ গ্রহণ করেন, তাতে সংবিধান সংরক্ষণ, রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা রক্ষা এবং কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রতি অনুরাগ বা বিরাগের বশবর্তী না হয়ে আইনের বিধান অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার করেন। এই শপথ কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি রাষ্ট্র পরিচালনার নৈতিক ও সাংবিধানিক ভিত্তিরই প্রতিফলন।

ডা. ইরান আরও বলেন, রাষ্ট্রপতির সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্যে এমন রাজনৈতিক ভাষ্য এবং অবস্থান লক্ষ্য করা গেছে, যা একটি নির্দিষ্ট পক্ষকে সুবিধা দেওয়ার এবং অন্য পক্ষের প্রতি বিরূপ মনোভাব প্রদর্শনের ইঙ্গিত বহন করে। সংবিধান রাষ্ট্রপতিকে সব ধরনের রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থাকার নির্দেশনা দিয়েছে। এই সীমারেখা অতিক্রম করা হলে তা শপথ ভঙ্গের সমতুল্য বলে বিবেচিত হতে পারে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রপতির কার্যালয় রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ। এই পদে অধিষ্ঠিত কোনো ব্যক্তির বক্তব্যে যদি এমন কোনো বিষয় উঠে আসে যা রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা, চলমান রাজনৈতিক প্রক্রিয়া বা প্রশাসনিক বাস্তবতার সঙ্গে সম্পর্কিত এবং যা জনসম্মুখে প্রকাশের উপযোগী নয়, তবে সেটিও শপথের পরিপন্থী হিসেবে গণ্য হতে পারে।

সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের ঐক্য, স্থিতি ও ধারাবাহিকতার প্রতীক। তাই তার বক্তব্য হওয়া উচিত সর্বদলীয় আস্থা সৃষ্টিকারী এবং ভারসাম্যপূর্ণ। রাজনৈতিক বিতর্কে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনো পক্ষ নিলে তা রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক নিরপেক্ষতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় বলে লেবার পার্টি মনে করে।

দলটি আশা প্রকাশ করে যে, ভবিষ্যতে রাষ্ট্রপতি তাঁর নেওয়া শপথের ভাষা এবং সংবিধানের চেতনার প্রতি পূর্ণ আনুগত্য প্রদর্শন করবেন। গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক শাসনব্যবস্থার স্বার্থে রাষ্ট্রপতির প্রতিটি বক্তব্য ভারসাম্যপূর্ণ, দায়িত্বশীল এবং সর্বজনীনভাবে গ্রহণযোগ্য হওয়া উচিত। দেশের জনগণ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদাধিকারীর কাছ থেকে নিরপেক্ষতা, প্রজ্ঞা এবং সংযত আচরণ প্রত্যাশা করে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

উজিরপুরে অগ্নিকাণ্ডে ৫ পরিবারের স্বপ্ন ভস্ম, লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি

রাষ্ট্রপতির বক্তব্য নিয়ে লেবার পার্টির উদ্বেগ: সাংবিধানিক শপথ ভঙ্গের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৪:৫৪:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ লেবার পার্টি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্যকে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদের প্রতি নেওয়া শপথের পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছে। দলটি মনে করে, রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে সংবিধানে বর্ণিত নিরপেক্ষতা, রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা রক্ষা এবং ব্যক্তিগত অনুরাগ-বিরাগমুক্ত থাকার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের সময় তিনি যে শপথ গ্রহণ করেন, তাতে সংবিধান সংরক্ষণ, রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা রক্ষা এবং কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রতি অনুরাগ বা বিরাগের বশবর্তী না হয়ে আইনের বিধান অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার করেন। এই শপথ কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি রাষ্ট্র পরিচালনার নৈতিক ও সাংবিধানিক ভিত্তিরই প্রতিফলন।

ডা. ইরান আরও বলেন, রাষ্ট্রপতির সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্যে এমন রাজনৈতিক ভাষ্য এবং অবস্থান লক্ষ্য করা গেছে, যা একটি নির্দিষ্ট পক্ষকে সুবিধা দেওয়ার এবং অন্য পক্ষের প্রতি বিরূপ মনোভাব প্রদর্শনের ইঙ্গিত বহন করে। সংবিধান রাষ্ট্রপতিকে সব ধরনের রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থাকার নির্দেশনা দিয়েছে। এই সীমারেখা অতিক্রম করা হলে তা শপথ ভঙ্গের সমতুল্য বলে বিবেচিত হতে পারে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রপতির কার্যালয় রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ। এই পদে অধিষ্ঠিত কোনো ব্যক্তির বক্তব্যে যদি এমন কোনো বিষয় উঠে আসে যা রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা, চলমান রাজনৈতিক প্রক্রিয়া বা প্রশাসনিক বাস্তবতার সঙ্গে সম্পর্কিত এবং যা জনসম্মুখে প্রকাশের উপযোগী নয়, তবে সেটিও শপথের পরিপন্থী হিসেবে গণ্য হতে পারে।

সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের ঐক্য, স্থিতি ও ধারাবাহিকতার প্রতীক। তাই তার বক্তব্য হওয়া উচিত সর্বদলীয় আস্থা সৃষ্টিকারী এবং ভারসাম্যপূর্ণ। রাজনৈতিক বিতর্কে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনো পক্ষ নিলে তা রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক নিরপেক্ষতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় বলে লেবার পার্টি মনে করে।

দলটি আশা প্রকাশ করে যে, ভবিষ্যতে রাষ্ট্রপতি তাঁর নেওয়া শপথের ভাষা এবং সংবিধানের চেতনার প্রতি পূর্ণ আনুগত্য প্রদর্শন করবেন। গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক শাসনব্যবস্থার স্বার্থে রাষ্ট্রপতির প্রতিটি বক্তব্য ভারসাম্যপূর্ণ, দায়িত্বশীল এবং সর্বজনীনভাবে গ্রহণযোগ্য হওয়া উচিত। দেশের জনগণ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদাধিকারীর কাছ থেকে নিরপেক্ষতা, প্রজ্ঞা এবং সংযত আচরণ প্রত্যাশা করে।