ঢাকা ০৯:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নাব্যতা হারিয়ে বিপন্ন করাঙ্গী নদী: সেচ সংকটে দিশাহারা বাহুবলের কৃষকরা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৪:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার একসময়ের প্রমত্তা করাঙ্গী নদী এখন অস্তিত্ব সংকটে। পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়া এবং উজানে কৃত্রিম বাধার কারণে নদীটি এখন সরু মরা খালে পরিণত হয়েছে। বর্ষায় যে নদী দুকূল ছাপিয়ে বইত, চৈত্র আসার আগেই তা এখন ধু-ধু বালুচর। নদীর এই মৃত্যুপ্রায় অবস্থায় বোরো মৌসুমে সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তিন ইউনিয়নের কয়েক হাজার কৃষক। একই সঙ্গে তীব্র পানি সংকটে হুমকির মুখে পড়েছে স্থানীয় জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্য।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ভাদেশ্বর, বাহুবল সদর ও সাতকাপন ইউনিয়নের জনসাধারণের কৃষি ও দৈনন্দিন জীবনের প্রধান উৎস ছিল এই করাঙ্গী নদী। কিন্তু কয়েক বছর ধরে নদীটি নাব্যতা হারানোয় বোরো মৌসুমে সেচ কাজ ব্যাহত হচ্ছে। বাধ্য হয়ে কৃষকরা ব্যয়বহুল সেচযন্ত্রের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন, যা তাদের উৎপাদন খরচ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

পরিবেশবিদ ও স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নষ্ট হওয়ার পেছনে প্রাকৃতিক কারণের চেয়ে মানবসৃষ্ট কারণই বেশি দায়ী। বিশেষ করে নদীর উজানে চুনারুঘাট অংশে অপরিকল্পিতভাবে বাঁধ নির্মাণ করায় ভাটি অঞ্চলে পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। যথাযথ খনন ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নদীটি এখন কেবলই ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই পাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

হিমারগাঁও গ্রামের কৃষক মিজানুর রহমান জানান, যুগ যুগ ধরে তারা এই নদীর পানি দিয়ে চাষাবাদ এবং গবাদি পশু পালন করে আসছেন। কিন্তু এখন নদী শুকিয়ে যাওয়ায় তারা চরম বিপাকে পড়েছেন। ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য ফরিদ মিয়া জানান, পানি সংকটের কারণে শুধু চাষাবাদই নয়, নদী থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে দেশীয় প্রজাতির সুস্বাদু সব মাছ। ফলে মৎস্যজীবীরাও তাদের জীবিকা হারিয়েছেন।

নদীর এই করুণ দশা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সমাজকর্মী কাজী আলফু মিয়া। তিনি বলেন, করাঙ্গী নদীর আগের ঐতিহ্য এখন কেবলই স্মৃতি। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং কৃষকদের বাঁচাতে দ্রুত নদীটি খনন করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা জরুরি।

এ বিষয়ে বাহুবল উপজেলা নির্বাহী অফিসার লিটন চন্দ্র দে জানান, করাঙ্গী নদীর নাব্যতা সংকট নিরসনে প্রশাসন সজাগ রয়েছে। সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে নদীটি পুনরায় খননসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মাদকসহ চোরাচালান মামলায় জড়িয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে বহিস্কার

নাব্যতা হারিয়ে বিপন্ন করাঙ্গী নদী: সেচ সংকটে দিশাহারা বাহুবলের কৃষকরা

আপডেট সময় : ০৯:৩৪:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার একসময়ের প্রমত্তা করাঙ্গী নদী এখন অস্তিত্ব সংকটে। পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়া এবং উজানে কৃত্রিম বাধার কারণে নদীটি এখন সরু মরা খালে পরিণত হয়েছে। বর্ষায় যে নদী দুকূল ছাপিয়ে বইত, চৈত্র আসার আগেই তা এখন ধু-ধু বালুচর। নদীর এই মৃত্যুপ্রায় অবস্থায় বোরো মৌসুমে সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তিন ইউনিয়নের কয়েক হাজার কৃষক। একই সঙ্গে তীব্র পানি সংকটে হুমকির মুখে পড়েছে স্থানীয় জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্য।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ভাদেশ্বর, বাহুবল সদর ও সাতকাপন ইউনিয়নের জনসাধারণের কৃষি ও দৈনন্দিন জীবনের প্রধান উৎস ছিল এই করাঙ্গী নদী। কিন্তু কয়েক বছর ধরে নদীটি নাব্যতা হারানোয় বোরো মৌসুমে সেচ কাজ ব্যাহত হচ্ছে। বাধ্য হয়ে কৃষকরা ব্যয়বহুল সেচযন্ত্রের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন, যা তাদের উৎপাদন খরচ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

পরিবেশবিদ ও স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নষ্ট হওয়ার পেছনে প্রাকৃতিক কারণের চেয়ে মানবসৃষ্ট কারণই বেশি দায়ী। বিশেষ করে নদীর উজানে চুনারুঘাট অংশে অপরিকল্পিতভাবে বাঁধ নির্মাণ করায় ভাটি অঞ্চলে পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। যথাযথ খনন ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নদীটি এখন কেবলই ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই পাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

হিমারগাঁও গ্রামের কৃষক মিজানুর রহমান জানান, যুগ যুগ ধরে তারা এই নদীর পানি দিয়ে চাষাবাদ এবং গবাদি পশু পালন করে আসছেন। কিন্তু এখন নদী শুকিয়ে যাওয়ায় তারা চরম বিপাকে পড়েছেন। ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য ফরিদ মিয়া জানান, পানি সংকটের কারণে শুধু চাষাবাদই নয়, নদী থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে দেশীয় প্রজাতির সুস্বাদু সব মাছ। ফলে মৎস্যজীবীরাও তাদের জীবিকা হারিয়েছেন।

নদীর এই করুণ দশা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সমাজকর্মী কাজী আলফু মিয়া। তিনি বলেন, করাঙ্গী নদীর আগের ঐতিহ্য এখন কেবলই স্মৃতি। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং কৃষকদের বাঁচাতে দ্রুত নদীটি খনন করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা জরুরি।

এ বিষয়ে বাহুবল উপজেলা নির্বাহী অফিসার লিটন চন্দ্র দে জানান, করাঙ্গী নদীর নাব্যতা সংকট নিরসনে প্রশাসন সজাগ রয়েছে। সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে নদীটি পুনরায় খননসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।