জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদের নির্বাচন থেকে শেষ মুহূর্তে সরে দাঁড়িয়েছে ফিলিস্তিন। এর ফলে এই মর্যাদাপূর্ণ পদের জন্য এখন সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বাংলাদেশ এবং সাইপ্রাসের মধ্যে। আগামী ২ জুন নিউইয়র্কের জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সাধারণ পরিষদ হলে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষে এই শীর্ষ পদের জন্য লড়াই করবেন নবনিযুক্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদের নির্বাচনের জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে মনোনীত করেছেন। এর আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনকে এই পদের জন্য মনোনীত করা হয়েছিল। তবে বর্তমানে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষিতে ড. খলিলুর রহমানকেই যোগ্যতম প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করেছে বর্তমান সরকার। প্রধানমন্ত্রী নিজে এই নির্বাচনে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে শক্তিশালী কূটনৈতিক প্রচারণা চালানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেছেন।
জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠিত আঞ্চলিক আবর্তন (রোটেশন) নীতিমালা অনুযায়ী, ২০২৬–২৭ মেয়াদের জন্য ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার কথা এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপ অব স্টেটস থেকে। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে এই ঐতিহাসিক অধিবেশন শুরু হবে। তার আগে নির্বাচনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ২০২৬ সালের মে মাসে বর্তমান ৮০তম অধিবেশনের সভাপতি আনালেনা বেয়ারবক (জার্মানি) প্রার্থীদের সঙ্গে একটি অনানুষ্ঠানিক মতবিনিময় সভার আয়োজন করবেন। ফিলিস্তিন ও সাইপ্রাসের পাশাপাশি বাংলাদেশ এই পদের জন্য শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে কয়েক বছর আগে থেকেই তৎপরতা চালিয়ে আসছিল। ফিলিস্তিন শেষ পর্যন্ত সরে দাঁড়ানোয় বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল হয়েছে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের দাবি, কয়েকটি দেশের কূটনৈতিক চাপের মুখেই তারা এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।
বাংলাদেশের জন্য এই নির্বাচনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং আবেগঘনিষ্ঠ একটি মুহূর্ত। কারণ, প্রায় চার দশক পর দেশটি আবারও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পাচ্ছে। এর আগে সর্বশেষ ১৯৮৬ সালে ৪১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন বাংলাদেশের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী। এরপর দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হলেও বাংলাদেশ এই শীর্ষ পদে আর সুযোগ পায়নি। কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ চার বছর আগেই এই পদের জন্য প্রার্থিতা ঘোষণা করেছিল এবং যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কসহ বেশ কিছু প্রভাবশালী বন্ধু রাষ্ট্র বাংলাদেশকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ অব্যাহত রাখার জন্য বারবার উৎসাহিত করেছে।
ড. খলিলুর রহমানের এই মনোনয়নকে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নতুন নেতৃত্বের জোরালো উপস্থিতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি জাতিসংঘের ভেতরে দীর্ঘ ২৫ বছর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপদে দায়িত্ব পালন করার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন একজন প্রথিতযশা কূটনীতিক ও অর্থনীতিবিদ। ড. রহমান জাতিসংঘের আঙ্কটাড (UNCTAD) এর স্পেশাল অ্যাডভাইজার এবং এলডিসি প্রোগ্রামের চিফ হিসেবে সফলভাবে কাজ করেছেন। তাঁর এই গভীর আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি নির্বাচনে বাংলাদেশের পক্ষে সমর্থন আদায়ে বড় ভূমিকা রাখবে বলে সরকার আশা করছে।
রিপোর্টারের নাম 
























