ঢাকা ১০:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাশিয়ায় সার কারখানায় ইউক্রেনের ভয়াবহ ড্রোন হামলা, প্রাণহানি অন্তত ৭

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৫:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

রাশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় স্মোলেনস্ক প্রদেশের একটি সার কারখানায় ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। ভয়াবহ এই হামলায় আহত হয়েছেন আরও ১০ জন। রাশিয়ার তদন্ত কমিটির বরাত দিয়ে জানা গেছে, ইউক্রেন সীমান্ত থেকে প্রায় ২৯০ কিলোমিটার অভ্যন্তরে অবস্থিত ওই কারখানাটি লক্ষ্য করে প্রায় ৩০টি ড্রোন দিয়ে আক্রমণ চালানো হয়।

আক্রান্ত কারখানাটিতে মূলত অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ও নাইট্রিক অ্যাসিড উৎপাদন করা হতো। এই রাসায়নিক উপাদানগুলো সার তৈরির পাশাপাশি বিস্ফোরক তৈরিতেও ব্যবহৃত হয়। হামলার পর কারখানা চত্বরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়।

আঞ্চলিক গভর্নর ভ্যাসিলি আনোখিন এই ঘটনাকে ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর ‘বর্বর সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, শত্রুপক্ষ সরাসরি একটি বেসামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ওই এলাকায় রাসায়নিক দূষণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দোরোগোবুঝ শহরের স্কুলগুলোতে সশরীরে ক্লাস বন্ধ করে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা হয়েছে এবং কিন্ডারগার্টেনগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া কারখানার আশপাশের এলাকা থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করছে স্থানীয় প্রশাসন।

এই হামলার বিষয়ে ইউক্রেন এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে সম্প্রতি রাশিয়ার অভ্যন্তরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ইউক্রেনীয় ড্রোনের তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে রাশিয়ার তাতারস্তান প্রজাতন্ত্রের একটি তেল পাম্পিং স্টেশনেও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গিয়েছিল।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এখন পঞ্চম বছরে পদার্পণ করেছে। যুদ্ধের ময়দানে বড় কোনো পরিবর্তন না এলেও ইউক্রেন এখন রাশিয়ার অভ্যন্তরে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা জোরদার করেছে। এদিকে, দনবাস অঞ্চল নিয়ে চলমান অচলাবস্থা নিরসনে আগামী মার্চের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় একটি নতুন ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শ্রীপুরে ১২ বিঘার সূর্যমুখী বাগান: কৃষি ও পর্যটনে নতুন দিগন্ত

রাশিয়ায় সার কারখানায় ইউক্রেনের ভয়াবহ ড্রোন হামলা, প্রাণহানি অন্তত ৭

আপডেট সময় : ০৭:৪৫:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় স্মোলেনস্ক প্রদেশের একটি সার কারখানায় ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। ভয়াবহ এই হামলায় আহত হয়েছেন আরও ১০ জন। রাশিয়ার তদন্ত কমিটির বরাত দিয়ে জানা গেছে, ইউক্রেন সীমান্ত থেকে প্রায় ২৯০ কিলোমিটার অভ্যন্তরে অবস্থিত ওই কারখানাটি লক্ষ্য করে প্রায় ৩০টি ড্রোন দিয়ে আক্রমণ চালানো হয়।

আক্রান্ত কারখানাটিতে মূলত অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ও নাইট্রিক অ্যাসিড উৎপাদন করা হতো। এই রাসায়নিক উপাদানগুলো সার তৈরির পাশাপাশি বিস্ফোরক তৈরিতেও ব্যবহৃত হয়। হামলার পর কারখানা চত্বরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়।

আঞ্চলিক গভর্নর ভ্যাসিলি আনোখিন এই ঘটনাকে ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর ‘বর্বর সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, শত্রুপক্ষ সরাসরি একটি বেসামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ওই এলাকায় রাসায়নিক দূষণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দোরোগোবুঝ শহরের স্কুলগুলোতে সশরীরে ক্লাস বন্ধ করে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা হয়েছে এবং কিন্ডারগার্টেনগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া কারখানার আশপাশের এলাকা থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করছে স্থানীয় প্রশাসন।

এই হামলার বিষয়ে ইউক্রেন এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে সম্প্রতি রাশিয়ার অভ্যন্তরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ইউক্রেনীয় ড্রোনের তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে রাশিয়ার তাতারস্তান প্রজাতন্ত্রের একটি তেল পাম্পিং স্টেশনেও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গিয়েছিল।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এখন পঞ্চম বছরে পদার্পণ করেছে। যুদ্ধের ময়দানে বড় কোনো পরিবর্তন না এলেও ইউক্রেন এখন রাশিয়ার অভ্যন্তরে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা জোরদার করেছে। এদিকে, দনবাস অঞ্চল নিয়ে চলমান অচলাবস্থা নিরসনে আগামী মার্চের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় একটি নতুন ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।