ঢাকা ০৮:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ববি ছাত্রদল নেতাসহ ২৩ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেতার মামলা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:১৫:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিজানুর রহমানসহ ২৩ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের স্থানীয় এক নেতা। তানজিদুল হক ওরফে তানজিদ মঞ্জু নামের ওই ছাত্রলীগ নেতার দায়ের করা এই মামলায় ৪ নম্বর আসামি করা হয়েছে মুকুল আহমেদকে, যিনি এর আগে মঞ্জুর হাতেই রাতভর নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। মোটরসাইকেল চুরি ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে এই মামলাটি করা হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দ্রুত বিচার আমলি আদালতে মামলাটি দায়ের করেন তানজিদ মঞ্জু। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত বছরের ২৬ আগস্ট দিবাগত রাত ১টার দিকে বরিশাল মেরিন একাডেমির সামনে নভোথিয়েটার সংলগ্ন আনন্দবাজার এলাকায় মঞ্জুর মোটরসাইকেলটি চুরি করে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। গত বছরের ডিসেম্বরে মামলাটি করা হলেও সম্প্রতি তা জানাজানি হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

মামলায় ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মো. মিঠুকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। ববি ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান রয়েছেন ৭ নম্বর আসামির তালিকায়। অন্যান্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ইংরেজি বিভাগের বাবুল মিয়া, রাকিন, মিজানুর রহমান, প্রিতম, আতিক আবদুল্লাহ এবং উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের ইব্রাহিম হোসেন স্বজনসহ আরও বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী।

ঘটনার প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণে জানা যায়, গত ২৪ আগস্ট ছাত্রলীগ নেতা তানজিদ মঞ্জুকে আটকের চেষ্টা করা হলে তিনি তার মোটরসাইকেল রেখে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে পরিত্যক্ত ওই মোটরসাইকেলটিতে আগুন দেওয়া হয়।

মামলার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান বলেন, “এটি একটি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক মামলা। নিষিদ্ধ সংগঠনের একজন অভিযুক্ত ব্যক্তি কোনো তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই শিক্ষার্থীদের হয়রানি করতে এই ভিত্তিহীন মামলা দিয়েছেন।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল জানান, মামলার বিষয়টি তিনি শুনেছেন। এ বিষয়ে উপাচার্য দপ্তর থেকে তথ্য চাওয়া হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিকূল তথ্য প্রদান করা হয়নি।

উল্লেখ্য, মামলার বাদী তানজিদ মঞ্জুর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, লুটপাট ও মারামারিসহ একাধিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মুকুল আহমেদকে আবাসিক হলে আটকে রেখে রাতভর নির্যাতনের দায়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইতিপূর্বে তার ছাত্রত্ব বাতিল করেছিল। একাধিকবার তাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তারও হতে হয়েছে। বর্তমানে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের এই নেতার করা মামলা নিয়ে ক্যাম্পাসে ব্যাপক সমালোচনা চলছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মাঠের রাজা হলেও যে অপূর্ণতা আজও পোড়ায় মেসিকে

ববি ছাত্রদল নেতাসহ ২৩ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেতার মামলা

আপডেট সময় : ০৬:১৫:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিজানুর রহমানসহ ২৩ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের স্থানীয় এক নেতা। তানজিদুল হক ওরফে তানজিদ মঞ্জু নামের ওই ছাত্রলীগ নেতার দায়ের করা এই মামলায় ৪ নম্বর আসামি করা হয়েছে মুকুল আহমেদকে, যিনি এর আগে মঞ্জুর হাতেই রাতভর নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। মোটরসাইকেল চুরি ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে এই মামলাটি করা হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দ্রুত বিচার আমলি আদালতে মামলাটি দায়ের করেন তানজিদ মঞ্জু। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত বছরের ২৬ আগস্ট দিবাগত রাত ১টার দিকে বরিশাল মেরিন একাডেমির সামনে নভোথিয়েটার সংলগ্ন আনন্দবাজার এলাকায় মঞ্জুর মোটরসাইকেলটি চুরি করে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। গত বছরের ডিসেম্বরে মামলাটি করা হলেও সম্প্রতি তা জানাজানি হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

মামলায় ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মো. মিঠুকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। ববি ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান রয়েছেন ৭ নম্বর আসামির তালিকায়। অন্যান্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ইংরেজি বিভাগের বাবুল মিয়া, রাকিন, মিজানুর রহমান, প্রিতম, আতিক আবদুল্লাহ এবং উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের ইব্রাহিম হোসেন স্বজনসহ আরও বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী।

ঘটনার প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণে জানা যায়, গত ২৪ আগস্ট ছাত্রলীগ নেতা তানজিদ মঞ্জুকে আটকের চেষ্টা করা হলে তিনি তার মোটরসাইকেল রেখে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে পরিত্যক্ত ওই মোটরসাইকেলটিতে আগুন দেওয়া হয়।

মামলার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান বলেন, “এটি একটি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক মামলা। নিষিদ্ধ সংগঠনের একজন অভিযুক্ত ব্যক্তি কোনো তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই শিক্ষার্থীদের হয়রানি করতে এই ভিত্তিহীন মামলা দিয়েছেন।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল জানান, মামলার বিষয়টি তিনি শুনেছেন। এ বিষয়ে উপাচার্য দপ্তর থেকে তথ্য চাওয়া হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিকূল তথ্য প্রদান করা হয়নি।

উল্লেখ্য, মামলার বাদী তানজিদ মঞ্জুর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, লুটপাট ও মারামারিসহ একাধিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মুকুল আহমেদকে আবাসিক হলে আটকে রেখে রাতভর নির্যাতনের দায়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইতিপূর্বে তার ছাত্রত্ব বাতিল করেছিল। একাধিকবার তাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তারও হতে হয়েছে। বর্তমানে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের এই নেতার করা মামলা নিয়ে ক্যাম্পাসে ব্যাপক সমালোচনা চলছে।