ঢাকা ০৮:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে জামায়াতের সভা: জড়িতদের মুখোশ উন্মোচনের আহ্বান

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:০১:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির নেতারা বলেছেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ড ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে আঘাত হানার সুদূরপ্রসারী চক্রান্ত। এই ঘটনার প্রকৃত হোতাদের মুখোশ উন্মোচন করা না হলে ভবিষ্যতে এমন দুঃসাহস দেখানোর প্রবণতা বাড়বে। একইসঙ্গে, তারা পিলখানা বিদ্রোহের নামে নিরপরাধ বিডিআর সদস্যদের কারাদণ্ড বাতিল করে মুক্তি ও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনে এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারা। ‘২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সংঘটিত বিডিআর বিদ্রোহে মর্মান্তিক-নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের দাবিতে’ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ এই সভার আয়োজন করে।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, শহীদ পরিবারের অশ্রু ও আহাজারি জাতির জন্য অভিশাপ। এই অভিশাপ থেকে মুক্তির জন্য অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে সুবিচার নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আরও বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচারের অপেক্ষা আর দীর্ঘ করা যায় না। অনতিবিলম্বে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান পিলখানা বিদ্রোহের হত্যাকাণ্ডকে কেবল একটি হত্যাকাণ্ড বলতে ভুল হবে বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে মেজর পদমর্যাদার কোনো সেনাকর্মকর্তা শহীদ হননি কিংবা শহীদ হলেও তার সংখ্যা ছিল সীমিত। কিন্তু ২০০৯ সালে পিলখানায় ৫৪ জন উচ্চপদস্থ সেনাকর্মকর্তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এবং সেনাপ্রধানের নীরবতা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাদেরও জড়িত থাকার ইঙ্গিত দেয়।

মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান পিলখানা হত্যাকাণ্ডসহ বিরোধী দলের নেতাদের বিচারের নামে ‘জুডিসিয়াল কুলিং’-এর সঙ্গে জড়িত সকলকে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলের ১৫ বছরের প্রতিটি দিনের বিচার করতে হবে। পিলখানা হত্যাকাণ্ড থেকে শুরু করে চব্বিশের ৫ আগস্ট পর্যন্ত প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার করতে হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, জামায়াতে ইসলামী সংসদের বিরোধী দল হিসেবে জনগণের স্বার্থে সরকারকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। তবে সরকার যদি জনগণের বিপক্ষে যায়, তাহলে জামায়াতে ইসলামী জনগণের সঙ্গে রাজপথে দায়িত্ব পালন করতেও প্রস্তুত থাকবে।

জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির আব্দুস সবুর ফকিরের সভাপতিত্বে এবং ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ও পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এই সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ দেলাওয়ার হোসেন ও ড. আব্দুল মান্নান, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি আব্দুস সালাম প্রমুখ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য কামরুল আহসান হাসান, সৈয়দ সিরাজুল হক, শাহীন আহমেদ খান, সহকারী প্রচার সম্পাদক আবদুস সাত্তার সুমন, সহকারী মিডিয়া সম্পাদক আশরাফুল আলম ইমন, সহকারী অফিস সম্পাদক মুজিবুর রহমানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতারা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মাঠের রাজা হলেও যে অপূর্ণতা আজও পোড়ায় মেসিকে

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে জামায়াতের সভা: জড়িতদের মুখোশ উন্মোচনের আহ্বান

আপডেট সময় : ০৪:০১:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির নেতারা বলেছেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ড ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে আঘাত হানার সুদূরপ্রসারী চক্রান্ত। এই ঘটনার প্রকৃত হোতাদের মুখোশ উন্মোচন করা না হলে ভবিষ্যতে এমন দুঃসাহস দেখানোর প্রবণতা বাড়বে। একইসঙ্গে, তারা পিলখানা বিদ্রোহের নামে নিরপরাধ বিডিআর সদস্যদের কারাদণ্ড বাতিল করে মুক্তি ও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনে এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারা। ‘২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সংঘটিত বিডিআর বিদ্রোহে মর্মান্তিক-নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের দাবিতে’ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ এই সভার আয়োজন করে।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, শহীদ পরিবারের অশ্রু ও আহাজারি জাতির জন্য অভিশাপ। এই অভিশাপ থেকে মুক্তির জন্য অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে সুবিচার নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আরও বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচারের অপেক্ষা আর দীর্ঘ করা যায় না। অনতিবিলম্বে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান পিলখানা বিদ্রোহের হত্যাকাণ্ডকে কেবল একটি হত্যাকাণ্ড বলতে ভুল হবে বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে মেজর পদমর্যাদার কোনো সেনাকর্মকর্তা শহীদ হননি কিংবা শহীদ হলেও তার সংখ্যা ছিল সীমিত। কিন্তু ২০০৯ সালে পিলখানায় ৫৪ জন উচ্চপদস্থ সেনাকর্মকর্তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এবং সেনাপ্রধানের নীরবতা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাদেরও জড়িত থাকার ইঙ্গিত দেয়।

মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান পিলখানা হত্যাকাণ্ডসহ বিরোধী দলের নেতাদের বিচারের নামে ‘জুডিসিয়াল কুলিং’-এর সঙ্গে জড়িত সকলকে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলের ১৫ বছরের প্রতিটি দিনের বিচার করতে হবে। পিলখানা হত্যাকাণ্ড থেকে শুরু করে চব্বিশের ৫ আগস্ট পর্যন্ত প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার করতে হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, জামায়াতে ইসলামী সংসদের বিরোধী দল হিসেবে জনগণের স্বার্থে সরকারকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। তবে সরকার যদি জনগণের বিপক্ষে যায়, তাহলে জামায়াতে ইসলামী জনগণের সঙ্গে রাজপথে দায়িত্ব পালন করতেও প্রস্তুত থাকবে।

জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির আব্দুস সবুর ফকিরের সভাপতিত্বে এবং ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ও পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এই সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ দেলাওয়ার হোসেন ও ড. আব্দুল মান্নান, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি আব্দুস সালাম প্রমুখ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য কামরুল আহসান হাসান, সৈয়দ সিরাজুল হক, শাহীন আহমেদ খান, সহকারী প্রচার সম্পাদক আবদুস সাত্তার সুমন, সহকারী মিডিয়া সম্পাদক আশরাফুল আলম ইমন, সহকারী অফিস সম্পাদক মুজিবুর রহমানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতারা।