ঢাকা ০২:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

দাবি না মানলে গভর্নরের পদত্যাগে কলম বিরতি, বাংলাদেশ ব্যাংকে অসন্তোষ চরমে

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৫৭:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের ‘স্বৈরাচারী’ আচরণের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মপরিবেশ। তিন কর্মকর্তার শোকজ নোটিশ ও বদলি প্রত্যাহারসহ অন্যান্য দাবি-দাওয়া আজ বুধবারের মধ্যে মেনে না নিলে আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে গভর্নরের পদত্যাগের দাবিতে কলম বিরতিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংস্থাটির সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

আজ বেলা ১১টায় বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের ব্যানারে ৩০ তলা ভবনের নিচে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেই এই কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেন অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের সভাপতি এ কে এম মাসুম বিল্লাহ।

মাসুম বিল্লাহ তার বক্তব্যে গভর্নরের বিভিন্ন পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “গতকাল আমাদের তিন কর্মকর্তাকে শোকজ নোটিশের জবাব দেওয়ার সুযোগ না দিয়েই বদলি করা হয়েছে। আমরা বিষয়টি সমাধানের জন্য গভর্নরের সঙ্গে দেখা করতে চাইলেও তিনি দেখা করেননি। তাই আমরা আজকের মধ্যেই শোকজ নোটিশ ও বদলি প্রত্যাহারসহ অন্যান্য দাবি বাস্তবায়নের আল্টিমেটাম দিচ্ছি। দাবি মানা না হলে আগামীকাল থেকে প্রতীকী কলম বিরতিতে যাবো। এরপর রোববার সর্বস্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”

প্রতিবাদ সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক ও সহকারী মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিকী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন চেয়েছিলাম, কিন্তু পেয়েছি স্বৈরশাসন। এই স্বৈরশাসনে আমরা থাকতে চাই না। আমাদের ন্যায্য দাবি নিয়ে বারবার গভর্নরের কাছে গেলেও তিনি তা আমলে নেননি, বরং দমন-পীড়নের আশ্রয় নিয়েছেন।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংককে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে ভরিয়ে ফেলা হয়েছে। গভর্নরের অনেক উপদেষ্টা ও পরামর্শক থাকলেও এখন পর্যন্ত অর্থনীতির জন্য কোনো কার্যকর নীতি গ্রহণ করতে দেখা যায়নি। তিনি ক্রমাগতভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাদের মনোবল ভেঙে দিচ্ছেন। এছাড়া ব্যাংক খাত নিয়ে তার মন্তব্য ব্যাংকিং সেক্টরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। শাহরিয়ার সিদ্দিকী জোর দিয়ে বলেন, গভর্নরের ইচ্ছামতো কেন্দ্রীয় ব্যাংক চলবে না, সবকিছু নিয়ে তাকে জবাবদিহি করতে হবে। তিনি অবিলম্বে শোকজ ও বদলি প্রত্যাহারের দাবি জানান, অন্যথায় সবাইকে শোকজ ও বদলি করার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও ডেপুটি হেড অব বিএফআইইউ মফিজুর রহমান খান চৌধুরী বলেন, “বিগত সাত-আট মাস ধরে আমরা গভর্নরের কাছে ন্যায্য দাবি উত্থাপন করে আসছি, কিন্তু তিনি তা মানেননি। তাই আজ এই প্রতিবাদ সভার আয়োজন করতে হয়েছে। আমরা আশা করি, তিনি আমাদের ন্যায্য দাবি-দাওয়া মেনে নেবেন। আমরা কোনো অন্যায্য দাবি জানাইনি, কেবল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মর্যাদা রক্ষায় যথাযথ পদক্ষেপ চাই।”

কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলছেন, তাদের দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন আরও বেগবান হবে এবং প্রয়োজনে গভর্নরের পদত্যাগের দাবিতে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষিকা হত্যা: দপ্তরেই নির্মম বলি, নেপথ্যে বদলি বিতর্ক?

দাবি না মানলে গভর্নরের পদত্যাগে কলম বিরতি, বাংলাদেশ ব্যাংকে অসন্তোষ চরমে

আপডেট সময় : ১২:৫৭:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের ‘স্বৈরাচারী’ আচরণের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মপরিবেশ। তিন কর্মকর্তার শোকজ নোটিশ ও বদলি প্রত্যাহারসহ অন্যান্য দাবি-দাওয়া আজ বুধবারের মধ্যে মেনে না নিলে আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে গভর্নরের পদত্যাগের দাবিতে কলম বিরতিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংস্থাটির সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

আজ বেলা ১১টায় বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের ব্যানারে ৩০ তলা ভবনের নিচে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেই এই কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেন অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের সভাপতি এ কে এম মাসুম বিল্লাহ।

মাসুম বিল্লাহ তার বক্তব্যে গভর্নরের বিভিন্ন পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “গতকাল আমাদের তিন কর্মকর্তাকে শোকজ নোটিশের জবাব দেওয়ার সুযোগ না দিয়েই বদলি করা হয়েছে। আমরা বিষয়টি সমাধানের জন্য গভর্নরের সঙ্গে দেখা করতে চাইলেও তিনি দেখা করেননি। তাই আমরা আজকের মধ্যেই শোকজ নোটিশ ও বদলি প্রত্যাহারসহ অন্যান্য দাবি বাস্তবায়নের আল্টিমেটাম দিচ্ছি। দাবি মানা না হলে আগামীকাল থেকে প্রতীকী কলম বিরতিতে যাবো। এরপর রোববার সর্বস্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”

প্রতিবাদ সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক ও সহকারী মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিকী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন চেয়েছিলাম, কিন্তু পেয়েছি স্বৈরশাসন। এই স্বৈরশাসনে আমরা থাকতে চাই না। আমাদের ন্যায্য দাবি নিয়ে বারবার গভর্নরের কাছে গেলেও তিনি তা আমলে নেননি, বরং দমন-পীড়নের আশ্রয় নিয়েছেন।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংককে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে ভরিয়ে ফেলা হয়েছে। গভর্নরের অনেক উপদেষ্টা ও পরামর্শক থাকলেও এখন পর্যন্ত অর্থনীতির জন্য কোনো কার্যকর নীতি গ্রহণ করতে দেখা যায়নি। তিনি ক্রমাগতভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাদের মনোবল ভেঙে দিচ্ছেন। এছাড়া ব্যাংক খাত নিয়ে তার মন্তব্য ব্যাংকিং সেক্টরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। শাহরিয়ার সিদ্দিকী জোর দিয়ে বলেন, গভর্নরের ইচ্ছামতো কেন্দ্রীয় ব্যাংক চলবে না, সবকিছু নিয়ে তাকে জবাবদিহি করতে হবে। তিনি অবিলম্বে শোকজ ও বদলি প্রত্যাহারের দাবি জানান, অন্যথায় সবাইকে শোকজ ও বদলি করার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও ডেপুটি হেড অব বিএফআইইউ মফিজুর রহমান খান চৌধুরী বলেন, “বিগত সাত-আট মাস ধরে আমরা গভর্নরের কাছে ন্যায্য দাবি উত্থাপন করে আসছি, কিন্তু তিনি তা মানেননি। তাই আজ এই প্রতিবাদ সভার আয়োজন করতে হয়েছে। আমরা আশা করি, তিনি আমাদের ন্যায্য দাবি-দাওয়া মেনে নেবেন। আমরা কোনো অন্যায্য দাবি জানাইনি, কেবল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মর্যাদা রক্ষায় যথাযথ পদক্ষেপ চাই।”

কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলছেন, তাদের দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন আরও বেগবান হবে এবং প্রয়োজনে গভর্নরের পদত্যাগের দাবিতে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।