ঢাকা ০৩:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ইচ্ছাকৃত রাজনৈতিক সংকট

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৭:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ০ বার পড়া হয়েছে

## রাজনৈতিক অস্থিরতার আবর্তে বাংলাদেশ: স্বপ্নভঙ্গ নাকি নতুন অধ্যায়ের সূচনা?

ঢাকা: বাংলাদেশের রাজনীতি এক গভীর সংকটময় মুহূর্তের মুখোমুখি। বারবার আশা জাগিয়েও তা পূরণে ব্যর্থ হওয়া, রাজনৈতিক দলগুলোর পরস্পরবিরোধী অবস্থান এবং জনআকাঙ্ক্ষার প্রতি উদাসীনতা—এই সবকিছু মিলে এক জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ ও প্রাক্তন মার্কিন রাষ্ট্রদূত জন কেনেথ গলব্রেইথের পর্যবেক্ষণ থেকে শুরু করে সমসাময়িক রাজনৈতিক বিশ্লেষণ পর্যন্ত, দেশটির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে।

গলব্রেইথের দৃষ্টিতে দারিদ্র্য ও স্বভাব:
একদা ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত জন কেনেথ গলব্রেইথ, যিনি ছিলেন বিশ্বখ্যাত অর্থনীতিবিদ, তাঁর ‘The Nature of Mass Poverty’ গ্রন্থে তৎকালীন বাংলা (বর্তমান বাংলাদেশ) এবং এর জনগণের চরিত্র সম্পর্কে কিছু তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছিলেন। তিনি বাঙালি চরিত্রের ‘নরম মেজাজে সুশৃঙ্খল আইন অমান্য করার প্রবণতা’র কথা উল্লেখ করেছিলেন। যদিও এই পর্যবেক্ষণ পাঠকের নিজস্ব বিচার-বিবেচনার উপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, তবে গলব্রেইথ এটাও বলেছিলেন যে, ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার পর সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে—এমন ধারণা পোষণ করা হয়েছিল। কিন্তু দরিদ্র ও নিরক্ষর মানুষেরা তাদের স্বার্থেই নীরব থাকতে বাধ্য হয়েছিল।

স্বাধীনতার স্বপ্ন ও বাস্তবতার ফারাক:
বাংলাদেশের সাধারণ জনগোষ্ঠীর দুর্ভাগ্য যে, স্বাধীনতার স্বপ্ন বারবার দেখা হলেও তার পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন অধরা রয়ে গেছে। জীবন দিয়ে, রক্ত দিয়ে অর্জিত স্বাধীনতা কেবল ‘কথামালার রাজনীতি’র এক চক্রাবর্তে আটকে পড়েছে। ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর ‘সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে’—এমন আশা জাগলেও তা পূরণ হয়নি।

উচ্চাকাঙ্ক্ষা, স্বপ্ন ও বাস্তবতার দ্বন্দ্ব:
খ্রিস্টীয় দ্বিতীয় শতকের রোমান সম্রাট মার্কাস অরেলিয়াস বলেছিলেন, “একজন মানুষের মূল্য তার প্রবল উচ্চাকাঙ্ক্ষা অথবা লক্ষ্য বা ইচ্ছার চাইতে বড় নয়।” এই উচ্চাকাঙ্ক্ষা, লক্ষ্য বা ইচ্ছাই হলো ‘স্বপ্ন’—বেঁচে থাকার প্রেরণা। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল একটি ‘স্বপ্ন’, যা একটি ন্যায়ভিত্তিক, সাম্যবাদী ও স্বতন্ত্র জাতিরাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখাত। সেই স্বপ্ন পুরোপুরি বাস্তবায়িত না হওয়ায় ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব আবারও এক নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের স্বপ্ন দেখিয়েছে। কিন্তু এই বিপ্লবও কেবল শাসক বদলেই থেমে গেছে, জনআকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি। স্বপ্ন বাস্তবায়ন ছাড়া কেবল শাসক বদলের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্র পাওয়া যায় না, আর তাই এই ‘চেতনা’কে অনেকে জাল বা ভুয়া রাজনৈতিক বয়ান হিসেবে অভিহিত করছেন।

রাজনৈতিক বাস্তবতার পরিবর্তন ও গণভোটের সংকট:
রাজনীতিবিজ্ঞানে ‘Political Landscape’ বা রাজনৈতিক বাস্তবতা প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল। বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতাও পরিবর্তিত হয়েছে, বিশেষত ২০২৬ সালের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতির বন্যা বয়ে গেলেও, ফলাফল ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে। এবার প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচন এবং গণভোটের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে ছিল দেশ। কিন্তু বিপত্তি সেখানেই।

নির্বাচনের গেজেট প্রকাশ এবং কারচুপির অভিযোগ নিষ্পত্তিকরণের বিষয়টি উপেক্ষিত হয়েছে। গণভোটের ফল অনুযায়ী, ৬২.৬৯ শতাংশ ভোটার ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন, যা জুলাই সনদ ২০২৫ বাস্তবায়নের পক্ষে। অন্যদিকে, ২৯.৩২ শতাংশ ভোটার ‘না’ ভোট দিয়েছেন। সংখ্যাতাত্ত্বিক হিসাবে, ক্ষমতাসীন বিএনপি এককভাবে ভোট পেলেও, ‘হ্যাঁ’ ভোটের সংখ্যা বিএনপির চেয়ে বেশি। এই সুপার মেজরিটির সরকার গঠনের পরও গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট নিয়ে সংকট দেখা দিয়েছে।

জুলাই জাতীয় সনদ ও বিএনপির অবস্থান:
২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর বিএনপি, জামায়াতসহ সংশ্লিষ্ট দলগুলো জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের সাত দফা অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করেছিল। এর ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতির সংস্কার আদেশ জারি হলেও, ১৭ ফেব্রুয়ারি নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণের পর বিএনপি দাবি করে যে, গণভোটের বিধান সংবিধানে নেই এবং এটি সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পরই তারা শপথ নেবে। এই অবস্থান গণভোটের পক্ষে দেওয়া কোটি কোটি ভোটারের ইচ্ছাকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করার শামিল।

আইন ও সংবিধানের বিবর্তন:
আইন ও সংবিধান জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ পাকিস্তানের সংবিধানের দিকে তাকিয়ে ছিল না, বরং একটি নতুন জাতিরাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখেছিল। দার্শনিক জ্যা দেরিদা এবং রাজনীতিবিজ্ঞানী হান্না আর্বেন্টের মতে, আইন ও সংবিধান কোনো অপরিবর্তনীয় বিষয় নয়। এগুলো পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গে জনআকাঙ্ক্ষা পূরণের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে। ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে যে, জনআকাঙ্ক্ষার কাছে কুমতলবি কাজ তুচ্ছ।

ভবিষ্যৎ কোন পথে?
চ্যাথাম হাউসের মতো আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা বাংলাদেশের রাজনীতিতে এই পরিবর্তনকে এক গুরুত্বপূর্ণ বাঁকবদল হিসেবে দেখছে, যা বহু দশকের দ্বিদলীয় আধিপত্য ভেঙে নতুন রাজনৈতিক কুশীলবদের জন্য জায়গা তৈরি করছে। তবে JULY সনদ নিয়ে যে অঙ্গীকারনামা হয়েছিল, তা কতটা বাস্তবায়িত হবে—তা সময়ই বলবে। বিএনপির বর্তমান অবস্থান এবং রাজনৈতিক কৌশল এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে। আইন ও সংবিধানের ব্যাখ্যা এবং এর প্রয়োগ নিয়ে বিতর্ক হয়তো আরও দীর্ঘায়িত হবে। প্রশ্ন হলো, এই রাজনৈতিক অস্থিরতা কি কেবলই শাসক বদলের এক অন্তহীন প্রক্রিয়া, নাকি জনগণের প্রকৃত মুক্তি ও স্বপ্নের বাস্তবায়ন কেবল সময়ের অপেক্ষা? এই প্রশ্নের উত্তর আগামী দিনের বাংলাদেশই দেবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজনগরে ক্রিকেট খেলা নিয়ে বিরোধ: ছুরিকাঘাতে হিফজ বিভাগের ছাত্র নিহত

ইচ্ছাকৃত রাজনৈতিক সংকট

আপডেট সময় : ০৯:৪৭:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

## রাজনৈতিক অস্থিরতার আবর্তে বাংলাদেশ: স্বপ্নভঙ্গ নাকি নতুন অধ্যায়ের সূচনা?

ঢাকা: বাংলাদেশের রাজনীতি এক গভীর সংকটময় মুহূর্তের মুখোমুখি। বারবার আশা জাগিয়েও তা পূরণে ব্যর্থ হওয়া, রাজনৈতিক দলগুলোর পরস্পরবিরোধী অবস্থান এবং জনআকাঙ্ক্ষার প্রতি উদাসীনতা—এই সবকিছু মিলে এক জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ ও প্রাক্তন মার্কিন রাষ্ট্রদূত জন কেনেথ গলব্রেইথের পর্যবেক্ষণ থেকে শুরু করে সমসাময়িক রাজনৈতিক বিশ্লেষণ পর্যন্ত, দেশটির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে।

গলব্রেইথের দৃষ্টিতে দারিদ্র্য ও স্বভাব:
একদা ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত জন কেনেথ গলব্রেইথ, যিনি ছিলেন বিশ্বখ্যাত অর্থনীতিবিদ, তাঁর ‘The Nature of Mass Poverty’ গ্রন্থে তৎকালীন বাংলা (বর্তমান বাংলাদেশ) এবং এর জনগণের চরিত্র সম্পর্কে কিছু তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছিলেন। তিনি বাঙালি চরিত্রের ‘নরম মেজাজে সুশৃঙ্খল আইন অমান্য করার প্রবণতা’র কথা উল্লেখ করেছিলেন। যদিও এই পর্যবেক্ষণ পাঠকের নিজস্ব বিচার-বিবেচনার উপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, তবে গলব্রেইথ এটাও বলেছিলেন যে, ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার পর সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে—এমন ধারণা পোষণ করা হয়েছিল। কিন্তু দরিদ্র ও নিরক্ষর মানুষেরা তাদের স্বার্থেই নীরব থাকতে বাধ্য হয়েছিল।

স্বাধীনতার স্বপ্ন ও বাস্তবতার ফারাক:
বাংলাদেশের সাধারণ জনগোষ্ঠীর দুর্ভাগ্য যে, স্বাধীনতার স্বপ্ন বারবার দেখা হলেও তার পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন অধরা রয়ে গেছে। জীবন দিয়ে, রক্ত দিয়ে অর্জিত স্বাধীনতা কেবল ‘কথামালার রাজনীতি’র এক চক্রাবর্তে আটকে পড়েছে। ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর ‘সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে’—এমন আশা জাগলেও তা পূরণ হয়নি।

উচ্চাকাঙ্ক্ষা, স্বপ্ন ও বাস্তবতার দ্বন্দ্ব:
খ্রিস্টীয় দ্বিতীয় শতকের রোমান সম্রাট মার্কাস অরেলিয়াস বলেছিলেন, “একজন মানুষের মূল্য তার প্রবল উচ্চাকাঙ্ক্ষা অথবা লক্ষ্য বা ইচ্ছার চাইতে বড় নয়।” এই উচ্চাকাঙ্ক্ষা, লক্ষ্য বা ইচ্ছাই হলো ‘স্বপ্ন’—বেঁচে থাকার প্রেরণা। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল একটি ‘স্বপ্ন’, যা একটি ন্যায়ভিত্তিক, সাম্যবাদী ও স্বতন্ত্র জাতিরাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখাত। সেই স্বপ্ন পুরোপুরি বাস্তবায়িত না হওয়ায় ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব আবারও এক নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের স্বপ্ন দেখিয়েছে। কিন্তু এই বিপ্লবও কেবল শাসক বদলেই থেমে গেছে, জনআকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি। স্বপ্ন বাস্তবায়ন ছাড়া কেবল শাসক বদলের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্র পাওয়া যায় না, আর তাই এই ‘চেতনা’কে অনেকে জাল বা ভুয়া রাজনৈতিক বয়ান হিসেবে অভিহিত করছেন।

রাজনৈতিক বাস্তবতার পরিবর্তন ও গণভোটের সংকট:
রাজনীতিবিজ্ঞানে ‘Political Landscape’ বা রাজনৈতিক বাস্তবতা প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল। বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতাও পরিবর্তিত হয়েছে, বিশেষত ২০২৬ সালের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতির বন্যা বয়ে গেলেও, ফলাফল ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে। এবার প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচন এবং গণভোটের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে ছিল দেশ। কিন্তু বিপত্তি সেখানেই।

নির্বাচনের গেজেট প্রকাশ এবং কারচুপির অভিযোগ নিষ্পত্তিকরণের বিষয়টি উপেক্ষিত হয়েছে। গণভোটের ফল অনুযায়ী, ৬২.৬৯ শতাংশ ভোটার ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন, যা জুলাই সনদ ২০২৫ বাস্তবায়নের পক্ষে। অন্যদিকে, ২৯.৩২ শতাংশ ভোটার ‘না’ ভোট দিয়েছেন। সংখ্যাতাত্ত্বিক হিসাবে, ক্ষমতাসীন বিএনপি এককভাবে ভোট পেলেও, ‘হ্যাঁ’ ভোটের সংখ্যা বিএনপির চেয়ে বেশি। এই সুপার মেজরিটির সরকার গঠনের পরও গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট নিয়ে সংকট দেখা দিয়েছে।

জুলাই জাতীয় সনদ ও বিএনপির অবস্থান:
২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর বিএনপি, জামায়াতসহ সংশ্লিষ্ট দলগুলো জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের সাত দফা অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করেছিল। এর ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতির সংস্কার আদেশ জারি হলেও, ১৭ ফেব্রুয়ারি নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণের পর বিএনপি দাবি করে যে, গণভোটের বিধান সংবিধানে নেই এবং এটি সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পরই তারা শপথ নেবে। এই অবস্থান গণভোটের পক্ষে দেওয়া কোটি কোটি ভোটারের ইচ্ছাকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করার শামিল।

আইন ও সংবিধানের বিবর্তন:
আইন ও সংবিধান জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ পাকিস্তানের সংবিধানের দিকে তাকিয়ে ছিল না, বরং একটি নতুন জাতিরাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখেছিল। দার্শনিক জ্যা দেরিদা এবং রাজনীতিবিজ্ঞানী হান্না আর্বেন্টের মতে, আইন ও সংবিধান কোনো অপরিবর্তনীয় বিষয় নয়। এগুলো পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গে জনআকাঙ্ক্ষা পূরণের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে। ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে যে, জনআকাঙ্ক্ষার কাছে কুমতলবি কাজ তুচ্ছ।

ভবিষ্যৎ কোন পথে?
চ্যাথাম হাউসের মতো আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা বাংলাদেশের রাজনীতিতে এই পরিবর্তনকে এক গুরুত্বপূর্ণ বাঁকবদল হিসেবে দেখছে, যা বহু দশকের দ্বিদলীয় আধিপত্য ভেঙে নতুন রাজনৈতিক কুশীলবদের জন্য জায়গা তৈরি করছে। তবে JULY সনদ নিয়ে যে অঙ্গীকারনামা হয়েছিল, তা কতটা বাস্তবায়িত হবে—তা সময়ই বলবে। বিএনপির বর্তমান অবস্থান এবং রাজনৈতিক কৌশল এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে। আইন ও সংবিধানের ব্যাখ্যা এবং এর প্রয়োগ নিয়ে বিতর্ক হয়তো আরও দীর্ঘায়িত হবে। প্রশ্ন হলো, এই রাজনৈতিক অস্থিরতা কি কেবলই শাসক বদলের এক অন্তহীন প্রক্রিয়া, নাকি জনগণের প্রকৃত মুক্তি ও স্বপ্নের বাস্তবায়ন কেবল সময়ের অপেক্ষা? এই প্রশ্নের উত্তর আগামী দিনের বাংলাদেশই দেবে।