ঢাকা ০৮:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছে স্পেন: সোনালি প্রজন্মের পুনরাবৃত্তির আশা

২০২৪ সালের ইউরো শিরোপা জয়ের পর এবার বিশ্বজয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামছে স্পেন। বায়ার লেভারকুসেনের তারকা ডিফেন্ডার অ্যালেক্স গ্রিমাল্ডো বিশ্বাস করেন, ইউরো জয়ের আত্মবিশ্বাসকে পুঁজি করে স্পেন তাদের অতীতের ‘সোনালি প্রজন্মের’ মতোই বিশ্বকাপ শিরোপা ঘরে তুলতে সক্ষম হবে। এএফপি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দলের এই দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বর্তমান স্পেন দলে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের পাশাপাশি লামিন ইয়ামালের মতো একঝাঁক তরুণ প্রতিভার সমাহার ঘটেছে। গ্রিমাল্ডো বলেন, ‘আমরা নিজেদেরকেই এই মুহূর্তে ফেভারিট দেখছি। পুরো দল অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী ও অনুপ্রাণিত। ভালো কিছু করার জন্য আমরা মরিয়া, কারণ আমাদের সেই সামর্থ্য আছে। তবে আমাদের প্রতিদিনের খেলায় মনোযোগ ধরে রাখতে হবে।’

ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলগুলোকে পরাজিত করে ২০২৪ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল স্পেন। সেই জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা গ্রিমাল্ডো এবার নিজের প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে নামার আগে দারুণ আশাবাদী। পরিসংখ্যান বলছে, ২০১০ সালে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার সেই ঐতিহাসিক গোলের পর থেকে বিশ্বকাপে স্পেনের পারফরম্যান্স তেমন আশাব্যঞ্জক ছিল না। ২০০৮ ও ২০১২ সালের ইউরো এবং ২০১০ সালের বিশ্বকাপ জিতে ফুটবল বিশ্বে যে আধিপত্য বিস্তার করেছিল স্পেনের তৎকালীন সোনালি প্রজন্ম, পরবর্তীতে সেই ধারা অব্যাহত থাকেনি। ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল ‘লা রোজা’রা। এমনকি রাশিয়া (২০১৮) ও কাতার (২০২২) বিশ্বকাপে তারা শেষ ষোলোর গণ্ডি পেরোতে ব্যর্থ হয়েছে।

তবে গ্রিমাল্ডো অতীত ইতিহাস নিয়ে একেবারেই ভাবিত নন। তার মতে, পরিসংখ্যান এখন কেবলই অতীত। বর্তমানে কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা দারুণ ফর্মে রয়েছে। ২০২৩ সালের মার্চ মাস থেকে টানা ৩১ ম্যাচে অপরাজিত থাকার এক অসাধারণ রেকর্ড নিয়ে বিশ্বকাপে পা রাখছে স্পেন। এবারের বিশ্বকাপে স্পেন ‘এইচ’ গ্রুপে খেলবে। তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে, এশিয়ার শক্তিশালী দল সৌদি আরব এবং টুর্নামেন্টের নবাগত দল কেপ ভার্দে। কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই স্পেনের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হবে। প্রথম ম্যাচ প্রসঙ্গে গ্রিমাল্ডো বলেন, ‘কেপ ভার্দের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে আমাদের যথাসম্ভব ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামতে হবে।’ টানা ৩১ ম্যাচ অপরাজিত থাকার আত্মবিশ্বাস এবং তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে স্পেন এবার বিশ্বমঞ্চে তাদের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারের স্বপ্ন দেখছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গোপন বৈঠকে ইসরায়েলকে বর্ণবাদী দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে তুলনা করলেন ইইউ’র কাজা কালাস

বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছে স্পেন: সোনালি প্রজন্মের পুনরাবৃত্তির আশা

আপডেট সময় : ০৬:৩২:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

২০২৪ সালের ইউরো শিরোপা জয়ের পর এবার বিশ্বজয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামছে স্পেন। বায়ার লেভারকুসেনের তারকা ডিফেন্ডার অ্যালেক্স গ্রিমাল্ডো বিশ্বাস করেন, ইউরো জয়ের আত্মবিশ্বাসকে পুঁজি করে স্পেন তাদের অতীতের ‘সোনালি প্রজন্মের’ মতোই বিশ্বকাপ শিরোপা ঘরে তুলতে সক্ষম হবে। এএফপি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দলের এই দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বর্তমান স্পেন দলে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের পাশাপাশি লামিন ইয়ামালের মতো একঝাঁক তরুণ প্রতিভার সমাহার ঘটেছে। গ্রিমাল্ডো বলেন, ‘আমরা নিজেদেরকেই এই মুহূর্তে ফেভারিট দেখছি। পুরো দল অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী ও অনুপ্রাণিত। ভালো কিছু করার জন্য আমরা মরিয়া, কারণ আমাদের সেই সামর্থ্য আছে। তবে আমাদের প্রতিদিনের খেলায় মনোযোগ ধরে রাখতে হবে।’

ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলগুলোকে পরাজিত করে ২০২৪ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল স্পেন। সেই জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা গ্রিমাল্ডো এবার নিজের প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে নামার আগে দারুণ আশাবাদী। পরিসংখ্যান বলছে, ২০১০ সালে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার সেই ঐতিহাসিক গোলের পর থেকে বিশ্বকাপে স্পেনের পারফরম্যান্স তেমন আশাব্যঞ্জক ছিল না। ২০০৮ ও ২০১২ সালের ইউরো এবং ২০১০ সালের বিশ্বকাপ জিতে ফুটবল বিশ্বে যে আধিপত্য বিস্তার করেছিল স্পেনের তৎকালীন সোনালি প্রজন্ম, পরবর্তীতে সেই ধারা অব্যাহত থাকেনি। ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল ‘লা রোজা’রা। এমনকি রাশিয়া (২০১৮) ও কাতার (২০২২) বিশ্বকাপে তারা শেষ ষোলোর গণ্ডি পেরোতে ব্যর্থ হয়েছে।

তবে গ্রিমাল্ডো অতীত ইতিহাস নিয়ে একেবারেই ভাবিত নন। তার মতে, পরিসংখ্যান এখন কেবলই অতীত। বর্তমানে কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা দারুণ ফর্মে রয়েছে। ২০২৩ সালের মার্চ মাস থেকে টানা ৩১ ম্যাচে অপরাজিত থাকার এক অসাধারণ রেকর্ড নিয়ে বিশ্বকাপে পা রাখছে স্পেন। এবারের বিশ্বকাপে স্পেন ‘এইচ’ গ্রুপে খেলবে। তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে, এশিয়ার শক্তিশালী দল সৌদি আরব এবং টুর্নামেন্টের নবাগত দল কেপ ভার্দে। কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই স্পেনের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হবে। প্রথম ম্যাচ প্রসঙ্গে গ্রিমাল্ডো বলেন, ‘কেপ ভার্দের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে আমাদের যথাসম্ভব ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামতে হবে।’ টানা ৩১ ম্যাচ অপরাজিত থাকার আত্মবিশ্বাস এবং তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে স্পেন এবার বিশ্বমঞ্চে তাদের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারের স্বপ্ন দেখছে।