আর্থিক অনিয়ম ও মালিকানা সংক্রান্ত বিতর্কের মধ্যে থাকা মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ‘নগদ’ বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া হবে কিনা, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে নতুন সরকারের নীতিমালার ওপর। সরকার যদি এই বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেয়, তবেই ‘নগদ’-এ বিনিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানিয়েছেন ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান।
মঙ্গলবার দুপুরে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের সঙ্গে এক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। ব্যারিস্টার আরমান জানান, গভর্নর তাকে জানিয়েছেন যে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর ‘নগদ’ সংক্রান্ত তাদের নীতি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। যদি সরকার পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের মতো ‘নগদ’-কে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের হাতে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তবেই পরবর্তী বিনিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে।
তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই ‘নগদ’-এ বিদেশি বিনিয়োগ আনার বিষয়ে আলোচনা চলছিল। সেই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। নিজের ভূমিকা সম্পর্কে ব্যারিস্টার আরমান স্পষ্ট করেন যে, তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে নয়, বরং একজন পেশাদার আইনজীবী হিসেবে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন। তার ভাষ্যমতে, তিনি একজন পেশাদার আইনজীবী এবং পূর্বে ডেল, মাইক্রোসফট, অ্যাপল ও উবারের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। বর্তমানে তিনি সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের পক্ষে আইনি সহায়তা প্রদান করছেন।
সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের ডিজিটাল ব্যাংকিং খাতে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলেও জানান আরমান। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই তারা বিনিয়োগের ক্ষেত্র খুঁজছিলেন এবং সরকারের সঙ্গে আলোচনায় তারা তাদের এই আগ্রহের বিষয়টি জানিয়েছেন। ‘নগদ’-এ বিনিয়োগ লাভজনক হবে কিনা, তা যাচাই করার জন্য অডিট করার আগ্রহের কথাও গভর্নরকে জানানো হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সংসদ সদস্য হওয়ার পর এমন প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করা স্বার্থের সংঘাত তৈরি করবে কিনা, এমন প্রশ্নের উত্তরে আরমান বলেন, সংসদ সদস্য হিসেবে এই দায়িত্ব পালন কোনো স্বার্থের সংঘাত তৈরি করবে না। তিনি রাজনীতি করছেন জনগণের সেবার জন্য এবং এখানে তার কোনো আয় নেই। পরিবার পরিচালনার জন্য তিনি পেশা হিসেবে আইন চর্চা করেন এবং এতে কোনো দ্বন্দ্ব নেই বলে তিনি মনে করেন। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে আন্তরিক।
রিপোর্টারের নাম 
























