ঢাকা ০৫:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চলতি অর্থবছরের রাজস্ব ঘাটতি ৬০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:২৪:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

## রাজস্ব ঘাটতি ৬০ হাজার কোটি ছাড়ালো, এনবিআর আদায়ে হিমশিম

ঢাকা: চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। সবমিলিয়ে এই ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬০ হাজার কোটি টাকারও বেশি। যদিও গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় রাজস্ব আদায়ে প্রায় ১৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে, তবুও লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আদায় পিছিয়ে পড়ছে।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) এনবিআর কর্তৃক প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে রাজস্ব আদায়ের মোট লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ লাখ ৮৩ হাজার ৭৫১ কোটি টাকা। কিন্তু এই সময়ে আদায় হয়েছে মাত্র ২ লাখ ২৩ হাজার ৬৩৮ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৬০ হাজার ১১৩ কোটি টাকা কম। তবে, গত অর্থবছরের একই সময়ে আদায় হয়েছিল ১ লাখ ৯৮ হাজার ৯১ কোটি টাকা। সেই হিসেবে এ বছর আদায় ১২.৯০ শতাংশ বেশি।

তিন খাতেই ঘাটতি, আয়কর সবচেয়ে বেশি পিছিয়ে:

রাজস্ব আদায়ের তিনটি প্রধান খাত—আয়কর, আমদানি শুল্ক এবং মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট)—সবগুলোতেই ঘাটতি দেখা গেছে। এর মধ্যে আয়কর খাতে ঘাটতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি, যা দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা। আমদানি পর্যায়ে ঘাটতি হয়েছে ১৫ হাজার ৬৮৩ কোটি টাকা এবং ভ্যাট খাতে ঘাটতি হয়েছে ১৫ হাজার ৫০৬ কোটি টাকা।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে আয়কর খাতে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৩ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা। কিন্তু আদায় হয়েছে মাত্র ৭৫ হাজার ৫৫ কোটি টাকা। আমদানি-রপ্তানি শুল্ক খাতে ৭৮ হাজার ৪৯৬ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৬২ হাজার ৮১৪ কোটি টাকা।

অন্যদিকে, ভ্যাট আদায়ে তুলনামূলকভাবে ভালো ফল পাওয়া গেছে। এই খাতে ১ লাখ ১ হাজার ২৭৫ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৮৫ হাজার ৭৬৯ কোটি টাকা আদায় করেছে এনবিআর।

জানুয়ারিতেও রাজস্ব আদায়ে মন্দা:

একক মাস হিসেবে জানুয়ারি মাসেও রাজস্ব আদায়ে মন্দা ভাব পরিলক্ষিত হয়েছে। এই মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫২ হাজার ৫৪৫.৫৭ কোটি টাকা, কিন্তু আদায় হয়েছে মাত্র ৩৭ হাজার ৩৩ কোটি টাকা। ফলে, জানুয়ারি মাসে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি।

জানুয়ারি মাসে আয়কর খাতে ১৮ হাজার ৫৭৪.৫৭ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ১৩ হাজার ১৭৫ কোটি টাকা। ভ্যাট খাতে ২০ হাজার ৪৭৫.৫৭ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ১৫ হাজার ২৭৭ কোটি টাকা। আর শুল্ক খাতে ১৩ হাজার ৪৯৫.৪৩ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৮ হাজার ৫৮১ কোটি টাকা।

লক্ষ্যমাত্রা বৃদ্ধি, চাপ বাড়ছে এনবিআরের উপর:

চলতি অর্থবছরের শুরুতে এনবিআরের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা। পরবর্তীতে, গত ১০ নভেম্বর বাজেট মনিটরিং ও সম্পদ কমিটি এই লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ৫ লাখ ৫৪ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করে। এই বর্ধিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণে এনবিআরকে আরও বেশি তৎপর হতে হবে। বর্ধিত লক্ষ্যমাত্রার সাথে বর্তমান ঘাটতির পরিমাণ বিবেচনা করলে, এনবিআরের উপর চাপ আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজনগরে ক্রিকেট খেলা নিয়ে বিরোধ: ছুরিকাঘাতে হিফজ বিভাগের ছাত্র নিহত

চলতি অর্থবছরের রাজস্ব ঘাটতি ৬০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে

আপডেট সময় : ০৫:২৪:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

## রাজস্ব ঘাটতি ৬০ হাজার কোটি ছাড়ালো, এনবিআর আদায়ে হিমশিম

ঢাকা: চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। সবমিলিয়ে এই ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬০ হাজার কোটি টাকারও বেশি। যদিও গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় রাজস্ব আদায়ে প্রায় ১৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে, তবুও লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আদায় পিছিয়ে পড়ছে।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) এনবিআর কর্তৃক প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে রাজস্ব আদায়ের মোট লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ লাখ ৮৩ হাজার ৭৫১ কোটি টাকা। কিন্তু এই সময়ে আদায় হয়েছে মাত্র ২ লাখ ২৩ হাজার ৬৩৮ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৬০ হাজার ১১৩ কোটি টাকা কম। তবে, গত অর্থবছরের একই সময়ে আদায় হয়েছিল ১ লাখ ৯৮ হাজার ৯১ কোটি টাকা। সেই হিসেবে এ বছর আদায় ১২.৯০ শতাংশ বেশি।

তিন খাতেই ঘাটতি, আয়কর সবচেয়ে বেশি পিছিয়ে:

রাজস্ব আদায়ের তিনটি প্রধান খাত—আয়কর, আমদানি শুল্ক এবং মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট)—সবগুলোতেই ঘাটতি দেখা গেছে। এর মধ্যে আয়কর খাতে ঘাটতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি, যা দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা। আমদানি পর্যায়ে ঘাটতি হয়েছে ১৫ হাজার ৬৮৩ কোটি টাকা এবং ভ্যাট খাতে ঘাটতি হয়েছে ১৫ হাজার ৫০৬ কোটি টাকা।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে আয়কর খাতে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৩ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা। কিন্তু আদায় হয়েছে মাত্র ৭৫ হাজার ৫৫ কোটি টাকা। আমদানি-রপ্তানি শুল্ক খাতে ৭৮ হাজার ৪৯৬ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৬২ হাজার ৮১৪ কোটি টাকা।

অন্যদিকে, ভ্যাট আদায়ে তুলনামূলকভাবে ভালো ফল পাওয়া গেছে। এই খাতে ১ লাখ ১ হাজার ২৭৫ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৮৫ হাজার ৭৬৯ কোটি টাকা আদায় করেছে এনবিআর।

জানুয়ারিতেও রাজস্ব আদায়ে মন্দা:

একক মাস হিসেবে জানুয়ারি মাসেও রাজস্ব আদায়ে মন্দা ভাব পরিলক্ষিত হয়েছে। এই মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫২ হাজার ৫৪৫.৫৭ কোটি টাকা, কিন্তু আদায় হয়েছে মাত্র ৩৭ হাজার ৩৩ কোটি টাকা। ফলে, জানুয়ারি মাসে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি।

জানুয়ারি মাসে আয়কর খাতে ১৮ হাজার ৫৭৪.৫৭ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ১৩ হাজার ১৭৫ কোটি টাকা। ভ্যাট খাতে ২০ হাজার ৪৭৫.৫৭ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ১৫ হাজার ২৭৭ কোটি টাকা। আর শুল্ক খাতে ১৩ হাজার ৪৯৫.৪৩ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৮ হাজার ৫৮১ কোটি টাকা।

লক্ষ্যমাত্রা বৃদ্ধি, চাপ বাড়ছে এনবিআরের উপর:

চলতি অর্থবছরের শুরুতে এনবিআরের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা। পরবর্তীতে, গত ১০ নভেম্বর বাজেট মনিটরিং ও সম্পদ কমিটি এই লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ৫ লাখ ৫৪ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করে। এই বর্ধিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণে এনবিআরকে আরও বেশি তৎপর হতে হবে। বর্ধিত লক্ষ্যমাত্রার সাথে বর্তমান ঘাটতির পরিমাণ বিবেচনা করলে, এনবিআরের উপর চাপ আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।