ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার নেকমরদ বাজারে প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি অত্যাধুনিক মার্কেট ভবন নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার প্রায় দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি। ফলে সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থ যেমন অপচয় হচ্ছে, তেমনি স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতারা এর কাঙ্ক্ষিত সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অব্যবস্থাপনার কারণে ভবনটির অবকাঠামো ধীরে ধীরে নষ্ট হচ্ছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতি আনার মূল উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করছে।
জানা যায়, গ্রামীণ বাজারের অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে ২০২১ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এই মার্কেট ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। মোট ২ কোটি ৫৫ লাখ ১২ হাজার ১০২ টাকা ব্যয়ে নির্মিত দুই তলা এই ভবনের মূল উদ্দেশ্য ছিল কৃষিপণ্য ও অন্যান্য পণ্য বিপণনে সুবিধা সৃষ্টি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি আনা।
সরেজমিনে দেখা যায়, আধুনিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত ভবনটি মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকলেও এর ভেতরে সুনসান নীরবতা। নিচতলার ৩৪টি এবং দ্বিতীয় তলার ২৪টি দোকানঘরের অধিকাংশই এখনো তালাবদ্ধ বা সম্পূর্ণ ফাঁকা পড়ে আছে। নিচতলায় সবজি, মাছ ও মাংসের দোকান বসার কথা থাকলেও হাতেগোনা কয়েকটি ঘর চালু হয়েছে, তাও পূর্ণাঙ্গভাবে নয়। দোতলায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বরাদ্দকৃত ঘরগুলোতেও ব্যবসা শুরু হয়নি।
বাজারের তিন শতাধিক ছোট-বড় ব্যবসায়ী এখনো খোলা আকাশের নিচে বা অস্থায়ী ঘরে ঝুঁকি নিয়ে ব্যবসা করছেন। আধুনিক মার্কেটের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম বলেন, “এত সুন্দর একটা ভবন তৈরি হলো, অথচ আমরা এর কোনো সুবিধা পাচ্ছি না। বাইরেই আমাদের বেচাকেনা করতে হচ্ছে।” ভবানন্দপুর গ্রামের আরেক ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম জানান, তিনি স্ত্রীর নামে এক লাখ টাকা জামানত দিয়ে একটি দোকান বরাদ্দ নিয়েছেন এবং মাসিক এক হাজার টাকা ভাড়াও নির্ধারিত হয়েছে। কিন্তু দুই বছর ধরে মার্কেট চালু না হওয়ায় তিনি হতাশ।
নেকমরদ মেলা কমিটির সম্পাদক মো. নবী ভবনটির রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তিনি অব্যবহৃত দোকানগুলোর ইজারা বাতিল করে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের কাছে নতুন করে ইজারা দেওয়ার আহ্বান জানান, অন্যথায় সরকারি অর্থের অপচয় হবে বলে মনে করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী আনিসুর রহমান জানান, এলজিইডি ভবনটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে উপজেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেছে। বাজার চালুর বিষয়টি এখন সম্পূর্ণ প্রশাসনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল।
নেকমরদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল হোসেন বলেন, দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং যারা এখনো ব্যবসা শুরু করেননি, তাদের দ্রুত ব্যবসা চালু করার জন্য বলা হবে।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা বেগম জানান, তিনি দ্রুত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
রিপোর্টারের নাম 























