মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০২:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬

মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় ইরান দুর্বল নয়, বরং শক্তিশালী হয়েছে: সাবেক মার্কিন মেরিন

প্রবীণ মার্কিন মেরিন সেনা কেনেথ নিকোলস ও’কিফ বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা দেশটিকে দুর্বল করার পরিবর্তে আরো সহনশীল ও শক্তিশালী করেছে। তিনি মনে করেন, সামরিক জীবনের অভিজ্ঞতা তার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি ও মধ্যপ্রাচ্য সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি আমূল বদলে দিয়েছে। ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন।

ও’কিফ অভিযোগ করেন, গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের নিঃশর্ত সমর্থন মানবিক বিপর্যয়কে আরো গভীর করছে এবং এই নীতি ওয়াশিংটনের আঞ্চলিক প্রভাবও ক্ষুণ্ন করছে। তার মতে, দখলদারিত্ব ও সংঘাতের বাস্তবতা থেকেই হামাস ও হিজবুল্লাহর মতো প্রতিরোধ আন্দোলনের উত্থান হয়েছে। তিনি আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনো একমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থার ধারণা আঁকড়ে আছে, যদিও আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা ক্রমেই বহুমেরুকেন্দ্রিক হয়ে উঠছে। কেবল সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে কোনো আদর্শ বা জনভিত্তিক আন্দোলন নির্মূল করা সম্ভব নয়; এর পরিবর্তে কূটনৈতিক উদ্যোগই হতে পারে কার্যকর পথ।

ও’কিফের দাবি, ইরানের জনগণের সামাজিক সংহতি ও রাষ্ট্রের অভিযোজনক্ষমতাকে পশ্চিমা দেশগুলো যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি পশ্চিমা গণমাধ্যমের সমালোচনা করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের জটিল বাস্তবতাকে প্রায়ই একপক্ষীয় ভাষ্য দিয়ে উপস্থাপন করা হয়, যা সামরিক হস্তক্ষেপকে বৈধতা দেওয়ার ক্ষেত্র তৈরি করে। পশ্চিমা নীতিনির্ধারকদের উদ্দেশে ও’কিফ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করতে হলে ভয় ও আধিপত্যের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সরে এসে ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মানবাধিকারের ভিত্তিতে নীতি নির্ধারণ করতে হবে। তার মতে, দখলদারিত্ব, বৈষম্য ও সার্বভৌমত্বসংক্রান্ত বিরোধের মতো সংঘাতের মূল কারণগুলোর সমাধান ছাড়া টেকসই শান্তি সম্ভব নয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফিফার বিতর্কিত ‘ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ পরিকল্পনা: কয়েক বছর আগে উয়েফার আইনি নোটিশ, নথি সংরক্ষণের হুঁশিয়ারি

মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় ইরান দুর্বল নয়, বরং শক্তিশালী হয়েছে: সাবেক মার্কিন মেরিন

আপডেট সময় : ১২:৪৭:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

প্রবীণ মার্কিন মেরিন সেনা কেনেথ নিকোলস ও’কিফ বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা দেশটিকে দুর্বল করার পরিবর্তে আরো সহনশীল ও শক্তিশালী করেছে। তিনি মনে করেন, সামরিক জীবনের অভিজ্ঞতা তার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি ও মধ্যপ্রাচ্য সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি আমূল বদলে দিয়েছে। ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন।

ও’কিফ অভিযোগ করেন, গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের নিঃশর্ত সমর্থন মানবিক বিপর্যয়কে আরো গভীর করছে এবং এই নীতি ওয়াশিংটনের আঞ্চলিক প্রভাবও ক্ষুণ্ন করছে। তার মতে, দখলদারিত্ব ও সংঘাতের বাস্তবতা থেকেই হামাস ও হিজবুল্লাহর মতো প্রতিরোধ আন্দোলনের উত্থান হয়েছে। তিনি আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনো একমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থার ধারণা আঁকড়ে আছে, যদিও আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা ক্রমেই বহুমেরুকেন্দ্রিক হয়ে উঠছে। কেবল সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে কোনো আদর্শ বা জনভিত্তিক আন্দোলন নির্মূল করা সম্ভব নয়; এর পরিবর্তে কূটনৈতিক উদ্যোগই হতে পারে কার্যকর পথ।

ও’কিফের দাবি, ইরানের জনগণের সামাজিক সংহতি ও রাষ্ট্রের অভিযোজনক্ষমতাকে পশ্চিমা দেশগুলো যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি পশ্চিমা গণমাধ্যমের সমালোচনা করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের জটিল বাস্তবতাকে প্রায়ই একপক্ষীয় ভাষ্য দিয়ে উপস্থাপন করা হয়, যা সামরিক হস্তক্ষেপকে বৈধতা দেওয়ার ক্ষেত্র তৈরি করে। পশ্চিমা নীতিনির্ধারকদের উদ্দেশে ও’কিফ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করতে হলে ভয় ও আধিপত্যের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সরে এসে ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মানবাধিকারের ভিত্তিতে নীতি নির্ধারণ করতে হবে। তার মতে, দখলদারিত্ব, বৈষম্য ও সার্বভৌমত্বসংক্রান্ত বিরোধের মতো সংঘাতের মূল কারণগুলোর সমাধান ছাড়া টেকসই শান্তি সম্ভব নয়।