ঢাকা ০৫:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৫২:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

দীর্ঘ ১৫ বছরের আওয়ামী শাসন এবং পরবর্তী দেড় বছরের অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের সময় শেয়ারবাজারের ধারাবাহিক পতন ও আস্থাহীনতা বিনিয়োগকারীদের দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে দিয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শেয়ারবাজার এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে—এমন প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে সূচক ও লেনদেনের চিত্র ছিল হতাশাজনক। বর্তমান বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের আমলে ডিএসই সূচক প্রায় ৩০৯ পয়েন্ট কমেছে এবং প্রায় ৮৭ হাজার বিনিয়োগকারী বাজার ছেড়েছেন। এই প্রেক্ষাপটে নতুন নির্বাচিত সরকারের কাছে এখন প্রধান দাবি—বাজারের কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন ও অভিজ্ঞ নেতৃত্ব নিশ্চিত করা।

বিএসইসির বিগত নেতৃত্ব ও সংকটের ধরন

বিগত বছরগুলোতে বিএসইসির নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রাধান্য দেখা গেলেও বাজার উন্নয়নে তা কার্যকর হয়নি বলে মনে করেন অংশীজনরা। জিয়াউল হক খন্দকার থেকে শুরু করে অধ্যাপক খায়রুল হোসেন এবং অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলামের আমল পর্যন্ত নানা অনিয়ম, দুর্বল আইপিও অনুমোদন এবং ‘ফ্লোর প্রাইস’-এর মতো বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমান চেয়ারম্যানের সময়েও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও সক্ষমতার অভাবে কোনো নতুন কোম্পানি তালিকাভুক্ত হতে পারেনি।

নতুন কমিশনের দৌড়ে যারা এগিয়ে

বিএসইসির শীর্ষ পদে (চেয়ারম্যান ও কমিশনার) নিয়োগ পেতে সরকারের উচ্চপর্যায়ে এরই মধ্যে বেশ কিছু নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। আলোচনায় থাকা উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিরা হলেন:

  • সাইফুল ইসলাম: ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) বর্তমান সভাপতি এবং ডিএসইর সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট। তার দুই যুগেরও বেশি বাজার অভিজ্ঞতা রয়েছে।
  • এটিএম তারিকুজ্জামান: বিএসইসিতে দীর্ঘ সময় কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সাবেক কমিশনার।
  • তানভীর গনি: আন্তর্জাতিক সম্পদ ব্যবস্থাপক প্রতিষ্ঠান টাইবোর্ন ক্যাপিটালের সহ-প্রতিষ্ঠাতা। তবে তিনি সরাসরি দায়িত্ব নিতে আগ্রহী নন বলে গুঞ্জন রয়েছে।
  • অন্যান্য: ড. মোর্শেদ হাসান খান (ঢাবি শিক্ষক), মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন চৌধুরী (লংকাবাংলা সিকিউরিটিজ) এবং ড. এম মাসরুর রিয়াজ (পলিসি এক্সচেঞ্জ)।

নতুন সরকারের পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি

বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে পুঁজিবাজারকে ঢেলে সাজানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী স্পষ্ট করেছেন যে, শেয়ারবাজারে স্বচ্ছতা ফেরাতে আইনকানুন পরিবর্তন এবং একটি ‘বিপ্লব’ ঘটানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহার, শক্তিশালী বন্ড মার্কেট গঠন এবং প্রবাসীদের জন্য ইনভেস্টমেন্ট গেটওয়ে চালু করার মতো আধুনিক পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে নতুন সরকার।

বাজার সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা

মিডওয়ে সিকিউরিটিজের এমডি মো. আশেকুর রহমান বলেন, “সরকার পরিবর্তন হলে নিয়ন্ত্রক সংস্থায় পরিবর্তন আসা স্বাভাবিক। তবে এবার শিক্ষকদের পরিবর্তে যাদের দীর্ঘ ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাদের দায়িত্ব দেওয়া উচিত।” বাজার-সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, স্বার্থের সংঘাত (Conflict of Interest) এড়িয়ে যদি যোগ্য নেতৃত্ব বসানো যায়, তবেই বিনিয়োগকারীদের হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজনগরে ক্রিকেট খেলা নিয়ে বিরোধ: ছুরিকাঘাতে হিফজ বিভাগের ছাত্র নিহত

ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ

আপডেট সময় : ০১:৫২:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দীর্ঘ ১৫ বছরের আওয়ামী শাসন এবং পরবর্তী দেড় বছরের অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের সময় শেয়ারবাজারের ধারাবাহিক পতন ও আস্থাহীনতা বিনিয়োগকারীদের দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে দিয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শেয়ারবাজার এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে—এমন প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে সূচক ও লেনদেনের চিত্র ছিল হতাশাজনক। বর্তমান বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের আমলে ডিএসই সূচক প্রায় ৩০৯ পয়েন্ট কমেছে এবং প্রায় ৮৭ হাজার বিনিয়োগকারী বাজার ছেড়েছেন। এই প্রেক্ষাপটে নতুন নির্বাচিত সরকারের কাছে এখন প্রধান দাবি—বাজারের কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন ও অভিজ্ঞ নেতৃত্ব নিশ্চিত করা।

বিএসইসির বিগত নেতৃত্ব ও সংকটের ধরন

বিগত বছরগুলোতে বিএসইসির নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রাধান্য দেখা গেলেও বাজার উন্নয়নে তা কার্যকর হয়নি বলে মনে করেন অংশীজনরা। জিয়াউল হক খন্দকার থেকে শুরু করে অধ্যাপক খায়রুল হোসেন এবং অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলামের আমল পর্যন্ত নানা অনিয়ম, দুর্বল আইপিও অনুমোদন এবং ‘ফ্লোর প্রাইস’-এর মতো বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমান চেয়ারম্যানের সময়েও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও সক্ষমতার অভাবে কোনো নতুন কোম্পানি তালিকাভুক্ত হতে পারেনি।

নতুন কমিশনের দৌড়ে যারা এগিয়ে

বিএসইসির শীর্ষ পদে (চেয়ারম্যান ও কমিশনার) নিয়োগ পেতে সরকারের উচ্চপর্যায়ে এরই মধ্যে বেশ কিছু নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। আলোচনায় থাকা উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিরা হলেন:

  • সাইফুল ইসলাম: ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) বর্তমান সভাপতি এবং ডিএসইর সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট। তার দুই যুগেরও বেশি বাজার অভিজ্ঞতা রয়েছে।
  • এটিএম তারিকুজ্জামান: বিএসইসিতে দীর্ঘ সময় কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সাবেক কমিশনার।
  • তানভীর গনি: আন্তর্জাতিক সম্পদ ব্যবস্থাপক প্রতিষ্ঠান টাইবোর্ন ক্যাপিটালের সহ-প্রতিষ্ঠাতা। তবে তিনি সরাসরি দায়িত্ব নিতে আগ্রহী নন বলে গুঞ্জন রয়েছে।
  • অন্যান্য: ড. মোর্শেদ হাসান খান (ঢাবি শিক্ষক), মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন চৌধুরী (লংকাবাংলা সিকিউরিটিজ) এবং ড. এম মাসরুর রিয়াজ (পলিসি এক্সচেঞ্জ)।

নতুন সরকারের পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি

বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে পুঁজিবাজারকে ঢেলে সাজানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী স্পষ্ট করেছেন যে, শেয়ারবাজারে স্বচ্ছতা ফেরাতে আইনকানুন পরিবর্তন এবং একটি ‘বিপ্লব’ ঘটানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহার, শক্তিশালী বন্ড মার্কেট গঠন এবং প্রবাসীদের জন্য ইনভেস্টমেন্ট গেটওয়ে চালু করার মতো আধুনিক পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে নতুন সরকার।

বাজার সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা

মিডওয়ে সিকিউরিটিজের এমডি মো. আশেকুর রহমান বলেন, “সরকার পরিবর্তন হলে নিয়ন্ত্রক সংস্থায় পরিবর্তন আসা স্বাভাবিক। তবে এবার শিক্ষকদের পরিবর্তে যাদের দীর্ঘ ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাদের দায়িত্ব দেওয়া উচিত।” বাজার-সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, স্বার্থের সংঘাত (Conflict of Interest) এড়িয়ে যদি যোগ্য নেতৃত্ব বসানো যায়, তবেই বিনিয়োগকারীদের হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।