ঢাকা ১১:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রামে গ্যাস বিস্ফোরণ: দগ্ধ ভাতিজার পর চাচারও মৃত্যু, প্রাণহানি বেড়ে ৩

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৪৬:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রামের হালিশহরে একটি আবাসিক ভবনে গ্যাস লাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ সামির আহমেদ (৪০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে তার মৃত্যু হয়। এ নিয়ে ওই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে তিনজনে দাঁড়িয়েছে।

ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ডা. শাওন বিন রহমান গণমাধ্যমকে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সামিরের শরীরের ৪৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। সোমবার তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

এর আগে সোমবার সকালে একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় সামিরের ১৬ বছর বয়সী ভাতিজা শাওন। তারও আগে শাওনের মা নূর জাহান আক্তার রানী (৪০) একই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। অর্থাৎ একই পরিবারের তিনজন সদস্য এই অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারালেন।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত সোমবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে সেহরির সময় হালিশহর এইচ ব্লকের ‘হালিমা মঞ্জিল’ নামের একটি ছয়তলা ভবনের তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের পরপরই পুরো ফ্ল্যাটে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। দগ্ধ অবস্থায় পরিবারের সদস্যরা ঘর থেকে বের হয়ে আসেন। সে সময় সেহরি খেতে বসা একই পরিবারের শিশুসহ মোট ৯ জন গুরুতর দগ্ধ হন।

আহতদের প্রথমে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। তবে তাদের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকায় পাঠানো হয়। বর্তমানে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে আরও ছয়জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

চিকিৎসাধীন দগ্ধরা হলেন—নিহত রানীর স্বামী সাখাওয়াত (৪৬), তাদের সন্তান উম্মে আইমান স্নিগ্ধা (১০), নিহত সামিরের স্ত্রী আশুরা আক্তার পাখি (৩০), তাদের দুই সন্তান আয়েশা (৪) ও ফারহান আহমেদ আনাছ (৬) এবং শিপন হোসাইন (৩১)। হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, চিকিৎসাধীন বাকিদের অবস্থাও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকাকে ‘ক্লিন সিটি’ করার ঘোষণা ডিএসসিসি প্রশাসকের: চাঁদাবাজি ও মশার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি

চট্টগ্রামে গ্যাস বিস্ফোরণ: দগ্ধ ভাতিজার পর চাচারও মৃত্যু, প্রাণহানি বেড়ে ৩

আপডেট সময় : ০১:৪৬:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রামের হালিশহরে একটি আবাসিক ভবনে গ্যাস লাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ সামির আহমেদ (৪০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে তার মৃত্যু হয়। এ নিয়ে ওই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে তিনজনে দাঁড়িয়েছে।

ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ডা. শাওন বিন রহমান গণমাধ্যমকে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সামিরের শরীরের ৪৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। সোমবার তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

এর আগে সোমবার সকালে একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় সামিরের ১৬ বছর বয়সী ভাতিজা শাওন। তারও আগে শাওনের মা নূর জাহান আক্তার রানী (৪০) একই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। অর্থাৎ একই পরিবারের তিনজন সদস্য এই অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারালেন।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত সোমবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে সেহরির সময় হালিশহর এইচ ব্লকের ‘হালিমা মঞ্জিল’ নামের একটি ছয়তলা ভবনের তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের পরপরই পুরো ফ্ল্যাটে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। দগ্ধ অবস্থায় পরিবারের সদস্যরা ঘর থেকে বের হয়ে আসেন। সে সময় সেহরি খেতে বসা একই পরিবারের শিশুসহ মোট ৯ জন গুরুতর দগ্ধ হন।

আহতদের প্রথমে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। তবে তাদের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকায় পাঠানো হয়। বর্তমানে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে আরও ছয়জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

চিকিৎসাধীন দগ্ধরা হলেন—নিহত রানীর স্বামী সাখাওয়াত (৪৬), তাদের সন্তান উম্মে আইমান স্নিগ্ধা (১০), নিহত সামিরের স্ত্রী আশুরা আক্তার পাখি (৩০), তাদের দুই সন্তান আয়েশা (৪) ও ফারহান আহমেদ আনাছ (৬) এবং শিপন হোসাইন (৩১)। হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, চিকিৎসাধীন বাকিদের অবস্থাও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।